Share |

অক্টোবর বিপ্লব : থেমে নেই মানব মুক্তির লড়াই

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লব সভ্যতার ইতিহাসে এক অসামান্য ঘটনা। মার্ক্স-অ্যাঙ্গেলস বিপ্লবের যে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব দার্শনিকভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং প্রয়োগের জন্য সর্বতোভাবে চেষ্টা করেছেন, লেনিন তাকে শ্রমিক-কৃষকের ঐক্য এবং রুশ দেশের বলশেভিক পার্টির বৈপ্লবিক কাজের মধ্য দিয়ে সাফল্যের সঙ্গে বাস্তবে রূপায়িত করেছিলেন। অক্টোবর বিপ্লবের অনেকগুলো তাৎপর্যের মধ্যে রয়েছে এর আন্তর্জাতিকতা, সম্পদের পুঁজিবাদী মালিকানার জায়গায় সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠা এবং মুনাফার লোলুপ পৃথিবীতে আত্মকেন্দ্রিকতাকে হটিয়ে মনুষ্যত্বের সহমর্মিতার ও সহযোগিতার জগৎ প্রতিষ্ঠা ও বৈজ্ঞানিকতা।
বিপ্লব আরও ঘটেছে, কিন্তু সেসব বিপ্লব ছিল বিশেষ ক্ষেত্রে এবং বিশেষ দেশে। শিল্পবিপ্লব ইউরোপের ঘটনা। ফরাসি বিপ্লব ফরাসি দেশ ছাড়িয়ে ইউরোপে গেছে, কিন্তু শেষ হয়েছে সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতায়। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক আবিষ্কার ঘটেছে, অক্টোবর বিপ্লব মানুষকে সচেতন করেছে বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের ঐতিহাসিক পটভূমি সম্পর্কে। এই বিপ্লব দেখিয়েছে যে মালিকানা যদি ব্যক্তিগত থাকে, তাহলে সব উদ্ভাবন ও উন্নয়ন চলে যায় কতিপয় ব্যক্তির হাতে, যারা জ্ঞান ও বিজ্ঞানকে ব্যবহার করে শোষণ ও লুণ্ঠনের কাজে। মুনাফার নির্লজ্জ স্বার্থে। পুঁজির মালিকেরা মানুষ ও প্রকৃতি উভয়ের সঙ্গে শত্রুতা করে। তারা যুদ্ধ বাধায়, মারণাস্ত্রের উন্নয়নে বিজ্ঞানী ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে ব্যবহার করে দাসানুদাস হিসেবে, তারা ব্যবসা করে অস্ত্র ও মাদকের।
পুঁজিবাদের কঠিন কুঠারাঘাতে প্রকৃতি আজ বিপন্ন হয়ে পড়েছে, ধরিত্রী উত্তপ্ত হচ্ছে। উত্যক্ত প্রকৃতি প্রতিশোধ নিচ্ছে। ভয়াবহ পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে জলবায়ুতে; ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সংখ্যা ও মাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে, বরফ গলে গিয়ে সমুদ্রের পানির স্তর দিচ্ছে উঁচু করে, ফলে অনেক নিম্নাঞ্চল ঝুঁকিতে পড়েছে তলিয়ে যাওয়ার। প্রকৃতিকে বিরূপ করার জন্য দায়ী পুঁজিবাদী বিশ্বের বিলাস ও ভোগবাদিতা, এর ভুক্তভোগী বিশ্বের গরিব মানুষ। প্রাচুর্যের ভেতরে দারিদ্র্য পুঁজিবাদেরই অনিবার্য ফসল। পুঁজিবাদে মালিকানা থাকে পাঁচজনের হাতে, পঁচানব্বইজন থাকে বঞ্চিত। বঞ্চিতরা দরিদ্র হয়। পুঁজিবাদ সবকিছুকে বাজারে নিয়ে আসে, বাজারে প্রবেশাধিকার তাদেরই, হাতে যাদের টাকা আছে। টাকা ধনীদের হাতেই থাকে, গরিবের হাতে থাকে না। এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য যে দারিদ্র্য বৈষম্য সৃষ্টি করেনি, বৈষম্যই দারিদ্র্য দৃষ্টি করেছে। পুঁজিবাদীরা মানুষকে ভূমি থেকে উৎপাটিত করেছে, উৎপাটিত মানুষ দেশের ভেতরে ও দেশের বাইরে আশ্রয়হীন অবস্থায় ভেসে বেড়ায়।
পুঁজিবাদীরা শ্রম ব্যবহার করে, কিন্তু শ্রমিককে দাম দেয় না। শ্রমিককে তারা পছন্দই করে না। সে জন্য চেষ্টা করে শ্রমিককে কোণঠাসা করতে, পারলে অপ্রয়োজনীয় করে ফেলতে। তাই দেখা যায়, পুঁজিবাদীদের নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায় যন্ত্রের ওপর। যন্ত্র দিয়ে তারা যুদ্ধ চালায়। যন্ত্র ব্যবহার করে মুনাফা বাড়ায়। মানুষের বুদ্ধিমত্তা যন্ত্রের কাছে স্থানান্তরিত করতে তারা ভীষণ উৎসাহী। তাদের তৎপরতা দেখে মনে হয়, আগামী বিশ্বে যন্ত্রই রাজত্ব করবে। ধরিত্রীতে একদা অতিকায় ডাইনোসররা বাস করত; পরিবর্তিত প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে অসম্ভব শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও তারা নিশ্চি? হয়ে গেছে। মানুষ টিকে আছে তার বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতার জোরে। মানুষের সেই গুণগুলোকে পুঁজিবাদীরা চাইছে যন্ত্রের হাতে তুলে দিতে। শ্রমিককে তারা শত্রু মনে করে, যন্ত্রকে মনে করে মিত্র। পুঁজিবাদীরা তাই যন্ত্রমুখী। তাতে মানুষ নিজেই যন্ত্র হয়ে যাবে কি না, যন্ত্র মানুষকে সরিয়ে দিয়ে রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে বসবে কি না, সে নিয়ে পুঁজিওয়ালাদের কোনো দুশ্চিন্তা নেই। পুঁজিবাদীরা বর্তমানকেই সবকিছু মনে করে, ইতিহাস-ঐতিহ্যকে মূল্য দেয় না। ধারণা করে, ভবিষ্যৎ হবে তাদের বর্তমান আধিপত্যেরই রঙিন সম্প্রসারণ। পুঁজিবাদীদের হাতে পৃথিবী আজ আক্ষরিক অর্থেই বিপদগ্রস্ত।
১৯১৭ সালের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব চেয়েছিল পুঁজিবাদের ক্রমবর্ধমান দুঃসহ দৌরাত্ম্যকে প্রতিহত করে একটি মানবিক বিশ্ব গড়ে তুলতে। মার্ক্সবাদের তত্ত্ব এবং কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টোর পথনির্দেশ হাতের কাছে ছিল। সেই নির্দেশ প্রয়োগের চেষ্টা হয়েছে। প্যারি কমিউনে সাফল্য এসেছিল, কিন্তু স্থায়ী হয়নি। অক্টোবর বিপ্লব অনগ্রসর ও কৃষিনির্ভর একটি দেশে মার্ক্সবাদকে সৃষ্টিশীল উপায়ে প্রয়োগ করে পুঁজিবাদকে পরাভূত করেছে। প্রমাণ করেছে যে বিপ্লব কেবল স্বপ্ন-কল্পনার বিষয় নয়, বিপ্লব বাস্তবেও সম্ভব। তার জন্য প্রয়োজন বাস্তব জ্ঞান, সাংগঠনিক শক্তি ও ধারাবাহিক আন্দোলন। অক্টোবর বিপ্লব হিটলারের ফ্যাসিবাদী আক্রমণ থেকে বিশ্বসভ্যতাকে বাঁচিয়েছে, রুশ দেশে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে বিশ্ববাসীকে মুক্তির জন্য পথের সন্ধান দিয়েছে। একসময় পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ মানুষ সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুফল পেতে শুরু করেছিল, কিন্তু ৭০ বছর পর ওই ব্যবস্থাটা ভেঙে পড়ে। কারণ বাইরে থেকে পুঁজিবাদীদের উৎপাত, অবরোধ ও আক্রমণ এবং ভেতর থেকে অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা। ওদিকে পুঁজিবাদীরাও মেহনতি মানুষদের ছাড় দিয়েছে, লুণ্ঠিত সম্পদের ছিটেফোঁটা ভাগ দিয়েছে, প্রলোভন দেখিয়েছে, আন্দোলনকারীদের ওপর অবিশ্বাস্য রকমের দমন-নিপীড়ন চালিয়েছে এবং মিডিয়াকে ব্যবহার করে সমাজতন্ত্রবিরোধী একচেটিয়া অপপ্রচার চালিয়ে গেছে। এসবের ফলে সমাজতন্ত্রী রাষ্ট্রগুলো সমাজতন্ত্র থেকে দূরে সরে গেছে। সমাজতন্ত্রের পতন হয়নি, একদা-সমাজতন্ত্রীরা সমাজতন্ত্র থেকে সরে গেছে মাত্র।
তার ফল কী দাঁড়িয়েছে, তা এখন দৃশ্যমান। ধমক দেওয়ার মতো কেউ নেই বলে উৎফুল্ল হয়ে পুঁজিবাদীরা তাদের অপকর্মের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা বলা শুরু করেছিল যে মানবসভ্যতা তার চরম উৎকর্ষে পৌঁছে গেছে, মানুষের আর কিছু চাইবার নেই। কিন্তু মানুষের ক্ষোভ ও দুর্দশা জানিয়ে দিয়েছে সভ্যতা নতুন বর্বরতায় গিয়ে পৌঁছেছে। এই ব্যবস্থা চললে সভ্যতার তো অবশ্যই, পৃথিবীর ধ্বংসই ঠেকিয়ে রাখা অসম্ভব হবে। অত্যাচার, নিপীড়ন, লুণ্ঠন বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাচুর্যের পৃথিবী অভাব, বেকারত্ব, সংঘর্ষের পৃথিবীতে পরিণত হয়েছে। বলা হচ্ছে নৈতিকতার অধঃপতন ঘটেছে। কিন্তু আসল সত্য হলো, এই যে পুঁজিবাদ তার নিজস্ব নৈতিকতাই সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছে। এই নৈতিকতা মনুষ্যত্বের মর্যাদা দেয় না; মুনাফা চেনে, ভোগ-লালসায় অস্থির থাকে, মানবিক বিবেচনাগুলোকে পদদলিত করে।
সমাজতন্ত্র থেকে বিচ্যুত হলে সমাজের কী দশা হয়, তার প্রমাণ পাওয়া গেছে রুশ দেশে। মেয়েরা সেখানে যে মাত্রার মুক্তি পেয়েছিল, পুঁজিবাদী বিশ্বে তা ছিল অকল্পনীয়। বিচ্যুত রাশিয়াতে দেখা গেছে সেই মেয়েদের একাংশ আশ্রয়হীন হয়ে পণ্য হিসেবে নিজেদের দেহকে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে ইউরোপে, আমেরিকায়। যে অধ্যাপক গবেষণা করতেন, দেখা গেছে, তিনি ভিক্ষায় বের হয়েছেন। চীন যখন সমাজতন্ত্র থেকে বিচ্যুত হলো, তখন টের পাওয়া গেল তারা ভয়ংকর রকমের জাতীয়তাবাদী হয়ে পড়েছে। ওই জাতীয়তাবাদ পুঁজিবাদী। তার দুর্বার প্ররোচনায় চীন এখন ফ্যাসিবাদী তৎপরতাকে সমর্থন দিচ্ছে। যে ঘটনা একাত্তরে আমরা দেখেছি, এখন তা দেখছে মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গারা শিকার হচ্ছে নির্বিচার গণহত্যার, নারীরা ধর্ষিত হচ্ছে, শিশুরা পিতৃত্বহীন হয়ে পড়ছে। চীন সবকিছুই জানে, কিন্তু চীনের পুঁজিবাদী সরকার নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ায়নি, দাঁড়িয়েছে পীড়নকারী মিয়ানমার সরকারের পক্ষে। পুঁজিবাদীদের কেউ কেউ তবু রোহিঙ্গাদের জন্য তথাকথিত মানবিক সাহায্য পাঠাচ্ছে, চীন ততটুকুও করবে না। কারণ, মিয়ানমার সরকার চীনকে নানা রকমের অর্থনৈতিক সাহায্য দেবে, রোহিঙ্গারা তো কিছুই দিতে পারবে না। রাশিয়াও চীনের মতোই আচরণ করছে। যে ভারত একাত্তরে আমাদের দেশের এক কোটি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা, সাহায্য সরবরাহ করেছে, সে-ও দাঁড়িয়েছে মিয়ানমারের পক্ষে। কারণ একই। পুঁজিবাদী স্বার্থ।
মিয়ানমার থেকে লাখ লাখ শরণার্থী শুধু প্রাণটি হাতে করে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গা নারীরা যেভাবে লাঞ্ছিত ও ধর্ষিত হয়েছে, বর্বরতার ইতিহাসে তার তুলনা বিরল। তাদের অনাথ শিশুরা জানে না তাদের ভবিষ্যৎ কী। যেখানে তারা শরণার্থী হয়েছে, সেই বাংলাদেশেও নারী ও শিশুরা কিন্তু আজ নিরাপদে নেই। মেয়েরা পথেঘাটে, চলমান বাসে, হোটেলে, গৃহে, এমনকি শিক্ষালয়েও ধর্ষিত হচ্ছে। ধর্ষণ শুধু নয়, শিকার হচ্ছে গণধর্ষণের। ধর্ষণ শেষে ধর্ষিতদের হত্যাও করা হচ্ছে। একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদারেরা এমনটা করেছে। বোঝা যাচ্ছে, একাত্তরের হানাদার, বাংলাদেশের ধর্ষক এবং মিয়ানমারের সেনাসদস্য-সবাই একই আদর্শে দীক্ষিত। সেই আদর্শ পুঁজিবাদ, অক্টোবর বিপ্লব যার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। অং সান সু চি সামরিক বর্বরতাকে সমর্থন করছেন দেখে উদারনীতিকেরা বিস্মিত হন। বিস্ময়ের কারণ নেই; কেননা, সু চির গণতন্ত্রও পুঁজিবাদী গণতন্ত্রই, চূড়ান্ত পরীক্ষায় তাই তিনি পুঁজিবাদীদের মতোই আচরণ করেন; মানুষের পক্ষে দাঁড়ান না, দাঁড়ান মুনাফার পক্ষে। এতে অস্বাভাবিকতা নেই। সমাজতন্ত্র অনিবার্য। বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ পৃথিবীকে ধ্বংস হতে দেবে না। তারা নিজেদের এবং পৃথিবীকে রক্ষা করবে। বিপ্লব অনিবার্য বৈজ্ঞানিক কারণেও। সভ্যতা স্থির হয়ে বসে থাকে না, সে এগোয়। দাসব্যবস্থা ও সামন্তব্যবস্থা পার হয়ে পৃথিবীতে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা এসেছে। আগের দুটির মতো এই ব্যবস্থাও বদলাবে; বদলাবে ভেতরের সংকটে, বাইরের প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে বদলাবে। অরাজকতার ভেতর দিয়ে নাকি সুশৃঙ্খলভাবে। সেটা নির্ভর করছে আন্দোলন ও প্রতিরোধের শক্তি ও চরিত্রের ওপর। বিবেকবান মানুষের কর্তব্য সমাজতন্ত্রের অবশ্যম্ভাবী প্রতিষ্ঠাকে ত্বরান্বিত করা। সারা বিশ্বের মানুষ আজ ওই লক্ষ্যে লড়ছে, আমাদেরও কর্তব্য তাতে শামিল হওয়া।
পুঁজিবাদ সমাজতন্ত্রীদের ঐক্যকে যতটা ভয় করে, তত ভয় অন্য কিছুকেই করে না। পুঁজিবাদের বড় একটা কাজ বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করা। মানুষকে আত্মকেন্দ্রিক করা, জীবনসংগ্রামে ব্যতিব্যস্ত রাখা, ছোট ছোট সমস্যাগুলোকে বড় করে তোলা। এসব কাজে তার উৎসাহের কোনো অবধি নেই। এগুলো সে করছে নিজস্ব শোষণব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনে। পতন আসন্ন দেখে এখন সে বেপরোয়া। হাতে যত অস্ত্র আছে, হিংস্ররূপে তা প্রয়োগ করছে। ব্যবহার করছে মিডিয়াকে।
সভ্যতার বিবর্তনে ক্ষমতা একশ্রেণির হাত থেকে অন্য শ্রেণির হাতে গেছে। দাসমালিকদের কাছ থেকে ক্ষমতা চলে গেছে সামন্তপ্রভুদের হাতে, সামন্তবাদীদের হটিয়ে দিয়ে পুঁজিবাদীরা এসেছে। কিন্তু এই তিনটি ব্যবস্থার ভেতরে মিল আছে এক জায়গায়, সেটি হলো সম্পদের ব্যক্তিমালিকানা। তিনটি বিপ্লবের কোনোটিই ব্যক্তিমালিকানার জায়গায় সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেনি। মনিবের দাসত্ব, ভূস্বামীর দাসত্ব, মজুরি দাসত্ব নামের হেরফের মাত্র। দাসত্বের জোয়াল থেকে মেহনতিদের মুক্তিদানের কাজটি করেছিল অক্টোবর বিপ্লব। আদিম সাম্যবাদী সমাজে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল না, সেটি ছিল অত্যন্ত দরিদ্র একটি সমাজ, মানুষ নির্ভর করত ফলমূল আহরণ এবং মাছ ও পাখি শিকারের ওপর। উদ্বৃত্ত থাকত না। অক্টোবর বিপ্লব সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে দরিদ্র নয়, সর্বাধুনিক উন্নত পৃথিবীতে।
লেখক : ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আহ্বায়ক, অক্টোবর বিপ্লব শতবর্ষ উদ্যাপন জাতীয় কমিটি।