Share |

ঈদ মোবারক

আগামী ১ সেপ্টেম্বর ব্রিটেনের মুসলমানরা পালন করবেন পবিত্র ঈদুল আজহা। পাশাপশি দু-এক দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মুসলমানরা উদযাপন করবেন মহান এ দিনটি।  
ইসলামের অনুসারীদের জন্য বছরের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিনগুলোর একটি হচ্ছে এই ঈদুল আজহা। একে কোরবানীর ঈদ নামেও অভিহিত করা হয়। কোরবানীর ঈদের সাথে জড়িয়ে আছে ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল স্তম্ভের চতুর্থ পবিত্র হজ।
 দৈহিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য হজ ফরজ করা হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, যার ওপর হজ ফরজ হয়েছে অথচ হজ আদায় করেন না, তার জন্য রয়েছে ভীষণ শাস্তি। এই হজ আদায় করতে এ্রখন পবিত্র নগরী মক্কায় অবস্থান করছেন বিশ্বের নানা দেশ থেকে যাওয়া লক্ষ লক্ষ মানুষ।
হাদিসে আছে, ‘যে ব্যক্তি হজ সম্পন্ন করল, সে যেন মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়া সন্তানের মতো নি?াপ হলো।’  
হজ শব্দের আভিধানিক অর্থ সংকল্প করা, ইচ্ছা করা। শরীয়তের পরিভাষায় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে হজের জন্য নির্ধারিত তারিখ অর্থাৎ ৮ থেকে ১৩ জিলহজ্ব পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ে পবিত্র ঘর ক্বাবা এবং মক্কা ও মদীনার কয়েকটি বিশেষ স্থানে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা.) নির্দেশ অনুযায়ী জিয়ারত, তাওয়াফ, অবস্থান করা এবং নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানাদি পালন করাই হজ।  
হজের অনেকগুলোর একটি আনুষ্ঠানিকতা হচ্ছে কোরবানী। ইসলামের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ত্যাগের উজ্জল নিদর্শন এর সাথে জড়িয়ে আছে। মহান আল্লাহর আদেশে তাঁরই সন্তুষ্টি লাভের জন্য হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম স্বীয় পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-কে কোরবানী দিতে তৈরি হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত হযরত ইসমাঈল (আ.)-কে প্রাণে রক্ষা করেও মহান আল্লাহ পিতাপুত্রের প্রশ্নাতীত আনুগত্য আর সমর্পণকে কবুল করেছিলেন। এটি ছিলো হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের জন্য যেমন তেমনই হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর জন্য তাকওয়ার পরীক্ষা। তাঁদের দুজনকেই সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করে মহান আল্লাহ এ ঘটনাকে মানবজাতির জন্য এক উদাহরণ হিশেবে হাজির করে দিলেন। কোরবানীর মধ্যদিয়ে মহান আল্লাহ পরীক্ষা করে দেখতে চান তাঁর বান্দা তার নামে পার্থিব দুনিয়ার কতটুক উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। কোরবানীর একমাত্র উদ্দেশ্যই হচ্ছে - মহান আল্লাহর কাছে বান্দার আত্মসমর্পণ, সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভ।
ইসলাম ধর্মমতে, কোরবানীর রক্তমাংশ কিছূই আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, বরং জবাইয়ের পর পশুর রক্ত প্রবাহিত হওয়ার আগেই বান্দার কোরবানী তাঁর নিকট পৌঁছে যায়। আন্তরিকতার সাথে শুধু মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় যে ত্যাগ তা-ই সত্যিকারের কোরবানী। তাই হজব্রত পালন করে আসার পরও কারো কারো মধ্যে বিশেষ কোনও পরিবর্তন দেখা না গেলে তখন ধারণা করা হয় যে হজের শিক্ষা নিতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন।  হজে গিয়ে হে আল্লাহ আমি হাজির, আমি হাজির বলে বলে মহান আল্লাহর কাছে জীবনের সকল অপরাধের ক্ষমা ভিক্ষা চেয়ে নি?াপ মানুষ হয়ে ফিরে এসে সবাই যদি সেই শুদ্ধ জীবন যাপন করেন তাহলে সমাজে এতো অবিচার থাকবে না। যদি ত্যাগের শিক্ষায় নিজেদের বিশুদ্ধ করে তোলা যায় তাহলে অন্যের হক নিয়ে কাড়াকাড়ি বন্ধ হবে।
তাই শুধু কোরবানী দেওয়া আর হজ পালনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। এখানেই সৃষ্টিকর্তার প্রতি আমাদের ইবাদতের শেষ নয়। খোদার কাছে এই আত্মসমর্পণ আর ত্যাগের চর্চা জীবনের বাকীদিনগুলোতেও অব্যাহত রাখতে হবে। মহান আল্লাহতায়লা সবাইকে সেই তাক্বওয়া অর্জনের তওফিক দিন। সবার জন্য এই ঈদ নিয়ে আসুক আনন্দ। ঈদ মোবারক।