Share |

উল্টো পথের যাত্রী : জাতির সামনে ‘স্যার’দের মুখ

রীতিমতো অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটে গেছে বাংলাদেশে। ‘সামান্য’ পুলিশ দেশটির হর্তাকর্তাদের গাড়ি আটকে দিয়ে মামলা-জরিমানা করেছে। এরা সবাই উল্টোপথে গাড়ি চালিয়ে আইনভঙ্গ করছিলেন। প্রতিদিনই নাকি সরকারের উর্ধতন কর্মকর্তারা এভাবে উল্টোপথেই বাড়ি ফেরেন। কিন্তু গত ২৪ সেপ্টেম্বর আইনভঙ্গকারী রাষ্ট্রের এসব কর্তাব্যক্তির গাড়ি পুলিশ শুধু আটকে দেয়নি। আটক গাড়িগুলোতে বড় বড় ‘স্যার’ বসে আছেন জেনেও কোন ছাড় দেয়নি। মামলা আর জরিমানা করেই উল্টোপথের যাত্রীদের ‘শিক্ষা’ দিয়েছে।  
ক্ষমতার দম্ভ আর পদের প্রভাবে যেখানে আইন নিষ্ক্রিয়, অনিয়ম যেখানে নিয়মের মতো চলে, দুর্নীতি যেখানে লালিতপালিত- সেই বাংলাদেশের বর্তমান পরিবেশে এমন একটা কাণ্ড! ভাবা যায়? কিন্তু এটা সম্ভব হয়েছে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইন প্রয়োগে সদিচ্ছা প্রদর্শনের জন্যই। মন্ত্রীও বাদ যাননি মামলা আর জরিমানার হাত থেকে।
গত সপ্তাহের রিপোর্ট মতে, গত রোববার উল্টো পথের যাত্রীদের ধরতে রমনা পার্কের উল্টো দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধার সামনে ফাঁদ পাতে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের একটি দল। দুই ঘণ্টার সেই অভিযানে মোট ৫৭টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা ও সাতটি গাড়ির কাছ থেকে রেকার বিল আদায় করা হয়। এর মধ্যে ৪০টির বেশি ছিল সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। উ?ো পথে চলা শাস্তি পাওয়াদের মধ্যে ছিল প্রতিমন্ত্রী, সাংসদ, সচিব, প্রকৌশলী, রাজনীতিবিদ, পুলিশ, সাংবাদিক, বিচারক ও ব্যবসায়ীদের গাড়ি। এদিন বিকেল চারটার দিকে সুগন্ধার সামনে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের উপস্থিতিতেই এ অভিযান শুরু হয়।
গত সপ্তাহের এই পুলিশি অভিযান বাংলাদেশের সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহের মাঝে হয়তো খুবই ছোট্ট একটি ঘটনা। কিন্তু আমরা মনে করি, এটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
 বাংলাদেশের বড়কর্তারা ভাবতে পছন্দ করেন- তারা দেশের সব আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করতে সক্ষম। কিন্তু এই ঘটনা তাদেরকে এ ব্যাপারে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য করবে। অভিযানে অংশ নেওয়া এক পুলিশ কমর্কতা অনুরোধ করে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আপনারা (সাংবাদিকেরা) আসেন। আমাদের একটা মামলা বা দেড়-দুই হাজার ফাইনে তো স্যারদের কিছু আসবে-যাবে না। আপনারা যদি স্যারদের জাতিদের সামনে দেখাতে পারেন তাতেই কাজে দেবে।’ আশা করবো, জাতির সামনে ‘স্যার’দের বেআইনী কার্যকলাপ প্রদর্শনে এবার যদি কিছু কাজ হয়।
একজন কলাম লেখক এ ঘটনার পর তার লেখায় প্রশ্ন তুলেছেন- প্রতিমন্ত্রী, এমপি, সচিব, প্রকৌশলী, রাজনীতিবিদ, পুলিশ, সাংবাদিক, বিচারক আর ব্যবসায়ীদের বাদ দিলে রাষ্ট্র থাকে? সরকার থাকে? তিনি বলছেন, থাকে না। এরাই দেশ চালায়। এরাই সমাজের মাথা। দেশের মাথা।  আমরা সবাই জানি মাথা যেদিকে যাবে, শরীরও সেদিকে যেতে বাধ্য।  
ঐ লেখক আরো বলছেন, পুলিশ সবখানে না পারলেও আপাতত রাস্তায় ‘মাথা’ ঘোরানোর কাজ শুরু করেছে। এটি ইতিবাচক একটি মোড়। তার সাথে প্রতিধ্বনি করে আমরাও বলি, এখন রাস্তা থেকে অফিস-আদালত; কোর্ট-কাছারি, সবখানে মাথাগুলো উল্টো দিক সোজা পথে ঘুরিয়ে দেওয়া দরকার।  
আমরা তো দেখলাম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদিচ্ছা থাকলে আইনভঙ্গকারী যত বড় ‘স্যার’ই হোন ব্যবস্থা নেওয়া যায়। আর যারা দুষ্কর্ম করে তারা যতই হম্বিতম্বি করুক সমাজে নিজের আসল রূপ দেখাতে ভয় পায়।  
আহা, বাংলাদেশে সব অনিয়মের বিরুদ্ধে যদি এমন প্রতিরোধ গড়ে তোলা যেতো!