Share |

এমানুয়েল মাখোঁর ১০০ দিন : জনপ্রিয়তায় ধস

২৮ আগস্ট : ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ গত মঙ্গলবার তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের শততম দিন পার করেছেন। এই ১০০ দিনেই তাঁর জনপ্রিয়তা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। গত শুক্রবার প্রকাশিত এক জরিপের ফলাফল থেকে জানা গেছে, মাখোঁর জনপ্রিয়তা বর্তমানে নির্বাচনকালের তুলনায় ৩৬ শতাংশ কম। ফ্রান্সভিত্তিক আন্তর্জাতিক জনমত জরিপ ও বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আইফপ জরিপটি চালিয়েছে। এর ফলাফলে বলা হয়েছে, মাখোঁর অজনপ্রিয়তার হার ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি।
তুলনামূলকভাবে ২০১২ সালে একই সময়ে মাখোঁর পূর্বসুরি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ অনেক বেশি জনপ্রিয় ছিলেন। ওলাঁদের জনপ্রিয়তা ছিল ৫৪ শতাংশ এবং ২০০৭ সালে নিকোলা সারকোজির জনপ্রিয়তা ছিল ৬৭ শতাংশ।
গত ৮ মের নির্বাচনে এমানুয়েল মাখোঁ ৬৬ দশমিক ১০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই ১০০ দিনেই তাঁর জনপ্রিয়তায় এমন ধস নামার অন্যতম কারণ হতে পারে সরকারের সংস্কার উদ্যোগ। এর মধ্যে অন্যতম উদ্যোগটি হলো গৃহায়ণ ভর্তুকি কমিয়ে আনা। সরকারের তরফ থেকে এই ঘোষণা আসার পরই ফ্রান্সে বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। অধিকাংশ ফরাসি নাগরিক মনে করছেন, এর মাধ্যমে সরকার দরিদ্রদের নিপীড়ন করতে চাইছে।
দাপ্তরিক হিসাবে ফ্রান্সে গত বছর গৃহায়ণ ভর্তুকিতে সরকারের ব্যয় হয়েছে দুই হাজার কোটি ইউরো (২ হাজার ৩৪৭ কোটি মার্কিন ডলার)। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী এদোয়াখ ফিলিপ বলেছেন, ইউরোপীয় প্রতিবেশীদের তুলনায় এই খাতে তাঁদের দ্বিগুণ পরিমাণ ব্যয় হচ্ছে। এদিকে বাজেট-ঘাটতি মেটাতে প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয়ও কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছেন মাখোঁ। এই পরিকল্পনার প্রতিবাদে ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনীর সে সময়কার প্রধান গত জুলাই মাসে পদত্যাগ করেন।
এ ছাড়া কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠা এবং চারজন মন্ত্রীর পদত্যাগের পরিপ্রেক্ষিতেও মাখোঁর সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।