Share |

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি : সেমিফাইনাল খেলতে বার্মিংহামে বাংলাদেশ

১২ জুন : সবার শেষে বাসে উঠলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। সকাল থেকেই কার্ডিফের পার্ক প্লাজা হোটেলের সামনে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের ভিড়। সারি সারি টেলিভিশন ক্যামেরা। ঘুরে দাঁড়িয়ে হাত নাড়লেন অধিনায়ক-বার্মিংহামে দেখা হবে!
টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ঠিক করা ছিল, বাংলাদেশ দল এদিন বার্মিংহাম যাবে। বার্মিংহাম তো যাবে, তবে টিম বাস বার্মিংহাম এয়ারপোর্টে যাবে, না বার্মিংহামের হোটেলে-এটাই ছিল প্রশ্ন। এই বাস হোটেলেই যাচ্ছে। বাংলাদেশ যাচ্ছে সেমিফাইনাল খেলতে। বাংলাদেশের অতি আবেগময় সমর্থক ছাড়া আর কেউই যা ভাবেননি।
তাসকিন আহমেদ অবশ্য দাবি করছেন, তিনি ভেবেছিলেন। বাসে ওঠার আগে বললেন, ‘আমি ইংল্যান্ডে এয়ারপোর্টে নেমেই বলেছিলাম, আমরা সেমিফাইনাল খেলব। ফাইনালও খেলব ইনশা আল্লাহ।’
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে তাসকিন বাসে উঠতে যাবেন। রাস্তার ওপার থেকে দৌড়ে এলেন মধ্যবয়সী  এক মহিলা। এসে জড়িয়ে ধরলেন তাসকিনকে। বিব্রত তাসকিনের গালে বসিয়ে দিলেন একটা চুমুও। রাস্তার ওপারে বসে থাকা ওই মহিলার বান্ধবীরা তুমুল হাততালি দিচ্ছেন।
এ ঘটনাকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশ কেমন আলোড়ন তুলেছে, তার একটা প্রমাণ হিসেবে দেখতে পারেন। কিন্তু সেটি ভুল হবে। ওই মহিলা ক্রিকেটের কোনো খোঁজখবরই রাখেন না। টিভি ক্যামেরার ভিড় দেখে মজা করে ওই কাণ্ডটা করেছেন। তবে তাসকিন যে খুব সুদর্শন, সেটা বুঝতে তো আর ক্রিকেটের খোঁজখবর রাখতে হয় না। হাসতে হাসতে সেটিই বললেন কৌতূহলী সাংবাদিকদের।
তাসকিনের ঘটনাটা নিয়ে সতীর্থরা বেশ মজা করলেন। এ এমন এক আনন্দযাত্রা, যেকোনো কিছুতেই মজার উপকরণ খুঁজে পাওয়া যায়। আর এটা তো আসলেই মজার ঘটনা। মাঝখানে খাওয়ার জন্য আধঘণ্টার বিরতিসহ কার্ডিফ থেকে বার্মিংহামে প্রায় তিন ঘণ্টার বাসযাত্রায় অবশ্য সেমিফাইনালে ওঠা নিয়ে কোনো উদ্যাপনের খবর পাওয়া গেল না। কার্ডিফে টিম হোটেলে পরশু রাত আর কাল সকালে দেখা চিত্রের সঙ্গে তাহলে কোনো পার্থক্য নেই। ক্রিকেটাররা ভেতরে ভেতরে অবশ্যই রোমাঞ্চিত, কিন্তু সেটির তেমন প্রকাশ নেই। বাসে ফিজিওর ল্যাপটপে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ চলছিল। মাঝেমধ্যে সেটিতে উঁকি দিয়ে ম্যাচের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নিলেন অনেকে। সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে খেলতে হবে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে। যা চূড়ান্ত হবে আজ পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের পর। তবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৯১ রানে অলআউট করে দিয়ে ভারত সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে ততক্ষণে।
১৫ তারিখ যে মাঠে সেমিফাইনাল, হোটেলের বদলে বার্মিংহামে বাংলাদেশ দলের বাস গিয়ে থেমেছে সেই এজবাস্টনের সামনে। শহরে কী একটা সাইকেল রেস হচ্ছে, বড় বাস যাওয়ার রাস্তা সব বন্ধ। এজবাস্টন থেকে ক্রিকেটাররা তাই কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে আইসিসির পাঠানো জিপে করে হোটেলে পৌঁছেছেন। সেখানে যাওয়ার পর যে যাঁর রুমে। বার্মিংহামের হায়াত রিজেন্সি সবার আগে থেকেই চেনা। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশ এই হোটেলেই ছিল।
বাংলাদেশের অনেকে কল্পচোখে অস্ট্রেলিয়া হেরে যাওয়ার পর কার্ডিফে টিম হোটেলে উৎসব দেখে ফেলেছেন। আদতে যা একদমই হয়নি। গত পরশু বিকেলে মাশরাফি বিন মুর্তজা টেলিভিশন সাংবাদিকদের সেমিফাইনালে ওঠার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ওপরে গেলেন। মিনিট দশেক পর তাঁকে ফোন করে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘সবাই মিলে নিশ্চয়ই খুব আনন্দ করছেন?’ মাশরাফি নিরুত্তাপ কণ্ঠে বললেন, ‘আমি তো আমার রুমে। প্লেয়ারদের বেশির ভাগই তো বাইরে।’
মোস্তাফিজুর রহমানও বাইরে ছিলেন। ইন্টারনেটে অবশ্য খেলার খোঁজখবর রাখছিলেন। এমনিতে আড্ডা মারার সময় খুবই প্রাণোচ্ছল। কিন্তু সাংবাদিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কথা বলার সময় মোস্তাফিজের কথা আটকে যায়। সেমিফাইনালে ওঠার প্রতিক্রিয়া যেমন ‘ভালো লাগছে’তেই শেষ হয়ে গেল। এত সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া? মোস্তাফিজ হাসলেন, ‘আর কী বলব! আমরা সেমিফাইনাল খেলছি, অনেক বড় ব্যাপার।’ আসলেই বড় ব্যাপার। হয়তো বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসেরই সবচেয়ে বড়। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে তো তা-ই মনে করেন। গত পরশু এজবাস্টনে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণী খেলার শেষটা হোটেলের মিটিং রুমে বসে দেখেছেন। ক্রিকেটারদের মধ্যে তাঁর সঙ্গে ছিলেন শুধু মুশফিকুর রহিম। সেমিফাইনালে ওঠার উদ্যাপনটা তাই দুজন মিলেই করেছেন। পনেরো-বিশ মিনিট পর হোটেলের সামনে মাশরাফিকে পেয়ে জড়িয়ে ধরলেন তাঁকে।
এটা যে কত বড় ব্যাপার, ক্রিকেটারদের দেখে তা না বোঝা গেলেও চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে দেখে ঠিকই বোঝা যাচ্ছে। খুশিতে রীতিমতো ঝলমল করছেন। কাল সকালে ব্রেকফাস্ট টেবিলে তাঁর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথোপকথন হলো এ রকম- * এটি (বাংলাদেশের সেমিফাইনালে উঠে যাওয়া) কত বড়?
হাথুরুসিংহে: (অবাক হয়ে) সবচেয়ে বড়। এর চেয়ে বড় কিছু তো আর আগে হয়নি। * কেন, ২০১৫ বিশ্বকাপ? হাথুরুসিংহে: সেটি ছিল কোয়ার্টার ফাইনাল আর এটি সেমিফাইনাল। ঠিকই তো!
 সাকিব-মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে অবিস্মরণীয় জয়
কার্ডিফেই আরেক রূপকথা
ঢাকা, ১০ জুন : এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের কাছে অস্ট্রেলিয়ার পরাজয়ে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর মাশরাফির প্রতিক্রিয়ায় প্রথমে তাই একটি মাত্র শব্দই থাকল-‘অবিশ্বাস্য!’   কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক রূপকথার নাম হয়ে ছিল এত দিন। এখন তাহলে কী?  
বারো বছর আগে এই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওই জয় এখনো যেন অবিশ্বাসের ঢেউ তোলে মনে। সে সময়কার ‘অপরাজেয়’ অস্ট্রেলিয়া বনাম পরাজয়ে পরাজয়ে জর্জরিত বাংলাদেশ! আসলেই কি অমন কিছু ঘটেছিল!
চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘোরতর বর্তমান তো এর চেয়ে একটুও কম অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে না! এই যে ব্যাট তুলে লাফাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ, ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে ছুটে আসছেন এই ম্যাচে দলের বাইরে থাকা বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা, গ্যালারি থেকে ‘বাংলাদেশ’ ‘বাংলাদেশ’ সৌাগান উঠছে, এসব সত্যি তো! নাকি কোনো মায়াবী বিভ্রম! কোনো সুখস্বপ্ন, ঘুম ভাঙলেই যা মিলিয়ে যাবে!
অবিশ্বাসের এমন ঘোর লাগিয়ে দিলেন সাকিব আর মাহমুদউল্লাহও। এই দুজনের ব্যাটে রচিত হলো যে অমর কাব্য, বাংলাদেশের ক্রিকেট এমন কিছু এর আগে দেখেনি। ওয়ানডে ক্রিকেটও কি খুব বেশি দেখেছে! কবারই বা লেখা হয়েছে প্রত্যাবর্তনের এমন বীরত্বময় গল্প!
৪ উইকেটে ৩৩ রানের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে দুজনের ২২৪ রানের জুটি। ওয়ানডেতে এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো জুটির দুই শ ছোঁয়া।
সেঞ্চুরি করলেন দুজনই। সাকিব ছক্কা মেরে। মাহমুদউল্লাহ বাউন্ডারিতে। কী ব্যাটিংটাই না করলেন দুজন! কে কার চেয়ে ভালো, এটির মীমাংসা করা বোধ হয় এই ম্যাচের কঠিনতম কাজ। তার দরকারইুবা কী!
সাকিব যখন আউট হলেন, জয় নিয়ে আর কোনো সংশয় নেই। মাত্র ৯ রান দূরে দাঁড়িয়ে তা হাসছে। মাহমুদউল্লাহ শেষ পর্যন্ত অপরাজিত। ২০১৫ বিশ্বকাপেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন। বো?-সাউদি আতঙ্কের ঢেউ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সেদিনও। সেটিও ছিল দুর্দান্ত এক ইনিংস। তবে এগিয়ে থাকবে কালকেরটিই। হ্যামি?নের ওই সেঞ্চুরি যে জয়ের আনন্দে উদ্ভাসিত নয়।
সাকিব আর মাহমুদউল্লাহর আলোর ছটায় এই ম্যাচের বাকি সব অদৃশ্য। তবে এই দুজনের মহিমা বোঝার জন্য হলেও একটু পেছনে তাকানো উচিত। যেখানে বড় হয়ে উঠছে দুটি পরিসংখ্যান।     
শেষ ১০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ড তুলল ৬২ রান।
প্রথম ১০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ২৪।
দুটিই এই চ্যাম্পিয়নস ট্রফির রেকর্ড। সবচেয়ে কম রানের আর কি!
প্রথমটি বাংলাদেশকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল। দ্বিতীয়টিতে মনে হয়েছিল, স্বপ্নভঙ্গের সব আয়োজন বুঝি সম্পন্ন হয়ে গেল।
একটা সময় ছিল, ইংল্যান্ড সফরে আসার আগে উপমহাদেশের ওপেনারদের রাতের পর রাত বিনিদ্র কাটত। মে-জুন মাসে ইংলিশ গ্রীষ্মের শুরুতে বল ইচ্ছামতো সুইং করবে, পিচে পড়ে সাঁইসাঁই ঘুরবে। বিখ্যাত সেই ইংলিশ কন্ডিশনও কেমন বদলে গেছে! এই চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বলতে গেলে কোনো বোলারই বল সেভাবে বল সুইং করাতে পারছেন না। কিন্তু কাল বো? আর সাউদি যেন সবাইকে মনে করিয়ে দিলেন যে, খেলাটা ইংল্যান্ডে হচ্ছে। বিশেষ করে সাউদি।
মাশরাফি বিন মুর্তজা আগেই এই ভয়টা করেছিলেন। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিয়ে প্রথম আলোর বিশেষ ম্যাগাজিনের জন্য দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিন গ্রুপ প্রতিপক্ষকে নিয়ে বলতে গিয়ে বোলারদের মধ্যে নাম করেছিলেন শুধু এই দুজনেরই। কেন, কাল বাংলাদেশের ইনিংসের প্রথম ১১ ওভার দেখে থাকলে ঠিকই তা বুঝতে পেরেছেন।
এই ম্যাচের আগে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ‘বাংলাদেশের মুখ’ তামিম ইকবাল। এমনই যে, কাল ম্যাচ শুরুর আগে নিউজিল্যান্ডের সাত-আট বছরের এক শিশুকে দেখা গেল ‘বাংলাদেশ’ ‘বাংলাদেশ’ বলে চিৎকার করতে। ওই শিশুর বাবার কাছ থেকে জানা গেল, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি দেখে তাঁর ছেলে তামিমের ভক্ত হয়ে গেছে। বাংলাদেশের সমর্থকও।
সেই তামিমকে দ্বিতীয় বলেই ফিরিয়ে দিলেন সাউদি। পরের দুই ওভারে সাব্বির ও সৌম্যকেও। ১২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর কল্পনাও করা যায়নি, এই ম্যাচ এমন রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষা করছে! দলকে ৩৩ রানে রেখে মুশফিক আউট হওয়ার পর তো আরও না। সাউদি-বো?ের ঝড় শেষ হওয়ার পর আক্রমণে এসে অ্যাডাম মিলনে ১৪৬ কিলোমিটার গতির এক বলে উপড়ে ফেললেন মুশফিকের মিডল স্টাম্প। ওই স্টাম্পের সঙ্গে  বাংলাদেশের স্বপ্নও যেন তখন মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে।
ধাক্কাটা কত বড় ছিল, তা বুঝতে একটা তথ্য খুব সাহায্যে আসবে। বাংলাদেশের প্রথম চার ব্যাটসম্যানের মোট রান ২৫। প্রথম চার মিলে এর চেয়ে কম রানের ইতিহাস খুঁজতে যেতে হবে সেই ২০১১ সালে (ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৮ রান)।
ইনিংসের শুরুতেই বাংলাদেশের ব্যাটিং অমন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার পর নিউজিল্যান্ডের ২৬৫ রানকেও মনে হচ্ছিল পাহাড়সম। অথচ এই চ্যাম্পিয়নস ট্রফির বিচারে ২৬৫ এমন কোনো রানই নয়। নিউজিল্যান্ড এত কম রানে আটকে যাবে, ইনিংসের ৪০ ওভার পরও তা ভাবা যায়নি। স্কোর তখন ২০৩। হাতে তখনো ৬ উইকেট। তিন শ তো তাহলে হচ্ছেই! উইকেটে ব্রুম আর নিশাম। এরপর নামবেন কোরি অ্যান্ডারসন। ওয়ানডেতে যাঁর ৩৬ বলে সেঞ্চুরি আছে। এই চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ব্যাটিংটা হচ্ছে অনেকটা পুরোনো ঢঙে। ত্রিশগজি বৃত্তের বাইরে মাত্র দুজন ফিল্ডার থাকার পরও ১০ ওভারের প্রথম পাওয়ার প্লেতে ঝড় উঠছে না। হাতে উইকেট নিয়ে অপেক্ষা করা হচ্ছে শেষ ১০ ওভারের জন্য। সেই হিসাবে নিউজিল্যান্ডের তিন শ তো অবধারিত মনে হচ্ছিলই, আরও বেশি হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকত না।
জাতীয় পাখির নামে নিউজিল্যান্ডারদের ডাকা হয় ‘কিউই’ বলে। যদিও নিউজিল্যান্ডে কিউই পাখি দেখতে পাওয়াটা এখন ভাগ্যের ব্যাপার। নামেই পাখি, কারণ কিউই উড়তে পারে না। সোফিয়া গার্ডেনেও যে কিউইরা উড়তে পারল না, তার মূলে কে জানেন? মোসাদ্দেক হোসেন! দলে নিয়মিত পাঁচজন বোলার থাকার পরও মাশরাফি যে তাঁকে ৪২তম ওভারে আক্রমণে নিয়ে এলেন, সেটি প্রমাণিত মাস্টার স্ট্রোক হিসেবে। ওই ওভারে দিলেন ৫ রান। পরের ওভারে তিন বলের মধ্যে দুই উইকেট! পরিস্থিতিটা অ্যান্ডারসনের ঝড় তোলার জন্য খুব অনুকূল ছিল। তাঁকে উপহার দিলেন ‘গো?েন ডাক’। পরের ওভারে আরেকটা উইকেট নিয়ে মোসাদ্দেকের বোলিং ফিগার: ৩-০-১৩-৩!
জয়সূচক রানও এল মোসাদ্দেকের ব্যাট থেকেই। যাতে বেঁচে থাকল বাংলাদেশের সেমিফাইনালের আশাও। সে জন্য আজ ওভালে ইংল্যান্ডের কাছে হারতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে। পুরো বাংলাদেশ যে আজ ইংল্যান্ডের সমর্থক, তা বোধ নয় না বললেও চলছে!
 নিউজিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৬৫/৮
বাংলাদেশ: ৪৭.২ ওভারে ২৬৮/৫
ফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী