Share |

টিউলিপের বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় শেখ হাসিনার যোগদান

লন্ডন, ৮ জুলাই : টিউলিপের বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হাসিনা রোববার সন্ধ্যায় তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানার বড় মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে তিনি নবদম্পতির জন্য সবার দোয়া চেয়েছেন। পূর্ব লন্ডনের ওয়েস্টহ্যাম এলাকায় ইমপ্রেশন ইভেন্টস ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে কয়েক শ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। তাঁঁদের মধ্যে ব্রিটেনের বিরোধী দল লেবার পার্টির অন্তত ছয়জন পার্লামেন্ট সদস্য ছিলেন।   টিউলিপ ও তাঁর স্বামী ক্রিশ্চিয়ান সেন্ট জন পার্সি প্রথাগত বাঙালি বিয়ের সাজে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। এ সময় নবদম্পতির পাশে ছিলেন কনের মা শেখ রেহানা, খালা শেখ হাসিনা, খালাত ভাই সজীব ওয়াজেদ জয় ও তাঁর স্ত্রী ক্রিস্টিন, খালাত বোন পুতুল ও তাঁর স্বামী, ভাই রেজোয়ান সিদ্দিক ববি ও ছোট বোন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতারা এবং লন্ডনের বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা এই সংবর্ধনায় যোগ দেন।  টিউলিপ স্থানীয় লেবার পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় এবং লন্ডনের ক্যামডেন বরার একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তিনি আগামী পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবার পার্টির একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী। তাঁর স্বামী একজন বেসরকারি  প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। অনুষ্ঠানে টিউলিপ ও তাঁর স্বামী ক্রিশ্চিয়ান বিয়ের অনুষ্ঠানে পাওয়া সব উপহার বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে দান করার ঘোষণা দেন। শিশুদের কল্যাণে কর্মরত একটি প্রতিষ্ঠান ‘স্ট্রিট ওয়াইজ’-এর কাছে তাঁরা এগুলো হস্তান্তরের কথা জানিয়েছেন। এ অনুষ্ঠান আয়োজনে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।  অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বোন শেখ রেহানা প্রতিটি টেবিলে গিয়ে অতিথিদের কুশল বিনিময় করেন। একইভাবে বর ক্রিস ও কনে টিউলিপ হাস্যোজ্জ্বল মুখে প্রায় প্রত্যেকের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করে সবার দৃষ্টি কাড়েন এবং তাদের নতুন জীবনের জন্যে দোয়া চান। বর-কনে ছাড়াও অনুষ্ঠানে অতিথিদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কীথ ভাজ এমপি, রুশানারা আলী এমপি, আওয়ামীলীগ নেতা শামসুদ্দিন খান, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও হাবিবুর রহমান হাবিব।  অনুষ্ঠানে সিলেটের আঞ্চলিক বিয়ের গান তৈরি করে আবহমান বাংলার বিয়ে বাড়ির আবহ।  বর-কনে  টিউলিপের বর ক্রিশ্চিয়ান পার্সি সরকারী চাকুরী ছেড়ে বর্তমানে কাজ করছেন একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরামর্শক হিশেবে। পার্সি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের বারবিক কলেজে অথনীতি পড়েছেন। পরে বিটিশ সরকারের শিক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজ করেন। তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা নিয়ে পড়েছেন এবং ম্যান্ডারিন বলতে পারেন। ২০১১ সাল থেকে তিনি রোনাল্ড বার্জারের জন্য কাজ করেন, মূলত তার কাজের ক্ষেত্র টেলিকম, ম্যানুফ্যাকচারিং ইত্যাদি।  টিউলিপ ২০১০ সালে সেন্ট্রাল লন্ডনের একটি এলাকার কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি আগামী পার্লামেন্টে নির্বাচনে লন্ডনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে লেবার পার্টির প্রার্থী হতে চান। তিনি ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডন থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন। কিংস কলেজ থেকে রাজনীতি ও সরকারি নীতি বিষয়ে আরেকটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি।