Share |

থেমসে বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা-দৌড়

লন্ডন, ২৮ আগস্ট : বাঙালির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী উৎসব নৌকাবাইচ। এটি বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম অংশ। নদীমাতৃক বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, আনন্দ আয়োজন, উৎসব ও খেলাধুলা সবকিছুতেই এক সময় ছিলো নদী ও নৌকার সরব আনাগোনা। নিজেদের এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য শিকড় ভুলতে বসা প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দিতে গত রবিবার (২৭ আগস্ট) লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এই নৌকা-দৌড় উৎসব। এ যেন শুধু উৎসব নয়, প্রাণের মিলন মেলা। একদিনের জন্যে হলেও নিজ শিকড়ে ফিরে যাওয়ার এক প্রাণান্তকর চেষ্টা। নৌকা দৌড় উপলক্ষে লন্ডনের ডকসাইড রোডের রিগেটা সেন্টারের আঙ্গিনায় বসেছিলো প্রবাসী বাঙালির মেলা। টেমস নদীতে অনুষ্ঠিত এই নৌকা দৌড়ে অংশ নিয়েছিলো লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন।        
 ব্রিটেনের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছিলেন অনেকে। নৌকা দৌড় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি গ্রামবাংলার চিরচেনা সুরের মূর্ছনায় অনেকেই হয়েছেন আপ্লুত। স্মৃতিকাতর হয়ে কেউ কেউ ফিরে গেছেন নিজের শৈশব কৈশোরে।
লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা, সহসভাপতি মাহবুব রহমান ও ট্রেনিং এন্ড রিসার্চ সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিলের নেতৃত্বে সংগঠনের ১৬ সদস্যের একটি টিম বাংলাদেশের গ্রামীন জনগণের পোশাক লুঙ্গী ও মাথায় গামছা বেধে অংশ নেন এই প্রতিযোগিতায়। বিজয় ছিনিয়ে আনতে না পারলেও ব্যাপক আনন্দ উপভোগ করে উৎফুল্ল মনেই ঘরে ফেরেন তারা। তাদের উৎসাহ দিতে অনেকের পরিবার সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন ডকসাইড রিগেটা সেন্টারে। পাশেই লন্ডন সিটি এয়ারপোর্ট।
অনুকূল আবহাওয়া, রৌদ্রজ্জল দিন, নদীতে নৌকার দৌড়, মাথার উপর দিয়ে প্লেনের উড়ে যাওয়া সব মিলিয়ে এক ব্যতিক্রমী পরিবেশ টেমসকূলে। দৌড়ে অংশ নেয়াদের পাশাপাশি উপস্থিত দর্শকদের কণ্ঠেও ধ্বনিত হচ্ছে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের গান ‘কোন মেস্তরী নাও বানাইছে কেমন দেখা যায়, ঝিলমিল ঝিলমিল করেরে ময়ূরপঙ্খী নায়’।
দিনব্যাপী দৌড় শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার প্রদান করা হয়। এতে প্রথম পুরস্কার ছিলো ১ হাজার পাউন্ড ও মেডেল, দ্বিতীয় পুরস্কার: ৭৫০ পাউন্ড ও তৃতীয় পুরষ্কার ৫০০ পাউন্ড ও সাথে মেডেল।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশি নতুন প্রজন্মকে নিজের শিকড়ের ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এই আয়োজন। এ আয়োজন নতুন প্রজন্মকে ড্রাগ আসক্তিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়ানো থেকেও বিরত রাখতে সক্ষম হবে বলেও মনে করেন তারা।