Share |

পাহাড় নদী মেঘের কোলাহলে

মতিউর রহমান চৌধুরী
রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা, দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু, দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া, একটি ধানের শিষের উপরে একটি শিশির বিন্দু।  

জীবনের প্রাত্যহিক প্রয়োজনীয় ব্যস্ততায় আমাদের অনেকেরই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় ঘর হতে বের হওয়া সম্ভব হয় না। পরিকল্পনা করলেও তা অনেক সময় মাঠে মারা যায়। তাই খুব পরিকল্পনা না করে, সুযোগ পেলেই হুট করে বের হয়ে যাওয়াই উত্তম। এমনই এক সুযোগে আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনের পথে পা বাড়াই। ডাবলিন বিমানবন্দরে যখন আমাদের ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিমানটি অবতরণ করল তখন সকাল ৮টা বেজে দশ মিনিট। কোন ধরনের ফরম ফিলাপ বা ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়াই পাসপোর্টের অটো পরিচয়ে সহজেই বিমান বন্দরের দরজা পার হই। স্থানীয় আবহাওয়া কমবেশী দশ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সূর্যের আলোয় চারদিক আলোময়। বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে টেক্সি যোগে আমরা হোটেলের দিকে রওয়ানা দেই। সুন্দর করে তৈরি ও সাজানো রাস্তাগুলোকে অসাধারণ লাগছিল। পথিমধ্যে ট্রাফিক জ্যামে আটকা পড়তে হয়। তবে তা ঢাকা বা চট্টগ্রামের হাইওয়ে জ্যাম নয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে জ্যাম চলে যায়। ২০ বা ২৫ মিনিটের ড্রাইভেই আমরা হোটেলে চলে আসি।  
ডাবলিনের মূল সিটি সেন্টার এলাকায় অবস্থিত আমাদের হোটেল জুরিখ। পরিচ্ছন্নভাবে সাজানো হোটেল দেখলেই ভাল লাগে। চেক ইনের সময় যদিও ১২টার দিকে, আমরা উপস্থিত হয়েছি ৯টায়। তবুও ম্যানেজার বললেন, রুম খালি হলেই আপনাদের দিয়ে দিবো। তার আগে আপনাদের লাগেজ আমাদের সেইফ রুমে রেখে দেন। লাগেজ সেইফ রুমে রেখে আমরা এদিক ওদিক ঘুরতে বের হলাম। বিভিন্ন ধরনের রকমারি দোকান, পাশাপাশি খোলা মার্কেটে দোকানের পসরা বসাতে ব্যবসায়ীদের ততপরতা চোখে পড়ার মতো। আমার ব্যবসায়ী ভাই ইমরান আরও কয়েকবার এসেছেন ডাবলিনে। তাই উনার রাস্তাঘাট বা দোকান খুঁজে পেতে কোনই অসুবিধা হচ্ছিল না। সকালেই কিছু এলাকা ঘুরিয়ে তিনি আমাকে খানিক ধারনা দিলেন ডাবলিন সম্বন্ধে। কয়েক একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত আছে জিপিও বা জেনারেল পোস্ট অফিস বিলডিং। রাস্তার মাঝখানে দাড়িয়ে আছে কয়েকশো মিটার লম্বা তোরণ। তোরণের উচ্চতা ঠিকমতো দেখতে হলে পিছন দিকে যে উলটে পড়ে যাবেন না তার গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবে না। কিছু ঘুরাঘুরির পর হোটেলে আসলেই ম্যানেজার বললেন, আপনাদের রুমের ব্যবস্থা হয়ে গেছে। রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে কিছু সময়ের জন্য গা এলিয়ে দিলাম বিছানায়। দিনে কিছু ব্যবসায়িক কাজ সেরে বিকেলে আবার বের হলাম আমরা ঘুরতে। ঐদিন ছিলো বৃহস্পতিবার, ইমরান জানালেন আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার সিটি সেন্টার এলাকা খুবই ব্যস্তময় থাকবে। আইরিশরা হলো মদ প্রবণ জাতি। অনেকসময় তারা মদ/ওয়াইনের মাঝে ডুবে থাকে। পৃথিবীর অন্যতম বড়ো বিয়ার ফ্যাক্টরি গিনেস এখানেই অবস্থিত। একদিন রাতে গিনেস এলাকাও দেখতে গিয়েছিলাম। কতশত একর জায়গা জুড়ে বিলডিংগুলো অবস্থিত তা বুঝা মুশকিল। সাততলা বিশিষ্ট মূল বিলডিংটি তৈরি হয় ১৭৫৯ সালে।

লিফে নদী প্রায় চতুর্দিক থেকে ডাবলিন শহরকে ঘিরে রেখেছে। উইক্লো মাউন্টেইন থেকে উৎপত্তি হয়ে নদীটি গিয়ে পড়েছে আইরিশ সাগরে। ডাবলিনকে বেস্টন করে প্রবাহিত এ নদীটি প্রায় ৫০ মাইল পর সাগরে পড়েছে। নদীর পারে পারে গড়ে উঠেছে মনোরম স্থাপনা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসস্থান।  

শুক্রবার সকালে কিছু কাজ সেরে আমরা ডাবলিনের কেন্দ্রে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মসজিদ বা ইসলামিক কালচারেল সেন্টারে যাই। প্রায় কয়েক একর জায়গা বিস্তৃত এ মসজিদ। মসজিদের সামানে আছে সারি সারি ফুলের বাগান। আছে কার পার্কিং। মহিলাদের নামাজের স্থান। খুবই ছিমছাম এবং সুন্দরভাবে সাজানো মসজিদে নামাজ পড়লে তৃপ্তি পাওয়া যায়। সেখানে নামাজে দেখলাম ইয়াংদের প্রাধান্যই বেশি। নামাজ সেরে মসজিদের বেইসমেন্টে খাবার খেতে আমরা রেস্টুরেন্টে গেলাম। হরেক রকম খাবারের পসরা সাজানো। আমরা কিছু মেডিটারিয়ান ফুড ও চিকেন বিরিয়ানি নিয়ে খাবার সারলাম। রেস্টুরেন্টটি আলজেরিয়ান। পরে জেনেছি আয়ারল্যান্ডে আলজেরিয়ান ও পাকিস্তানি লোকের বাস অধিক। হোটেলে ফিরে বিকেলে আবার আমরা ঘুরতে বের হলাম। এবার আমাদের সঙ্গ দিচ্ছেন পাকিস্তানি মাহমুদ ভাই। তিনি ওখানে প্রায় ৮ বছর ধরে আছেন। শহর ও শহর ছেড়ে অনেক অলিগলি তার নখদর্পণে। তিনি ওখানে টেক্সি চালান। জানালেন আগে ব্যবসা ভালো ছিলো, এখন আর সেরকম নেই। তবে চলে যাচ্ছে। চোখ বুলালেই দেখা যাবে ডাবলিনের চারদিকেই টেক্সি আর টেক্সি। উন্নত মডেলের টেক্সিক্যাবগুলো মিটার চালিত। কোন ছলচাতুরী নেই যাত্রিদের সাথে। প্রত্যেকটি টেক্সিক্যাবের নাম্বার টানানো আছে ড্রাইভারের সামনেই।
মাহমুদ আমাদের নিয়ে গেলেন লিফে নদী পার করে বিভিন্ন এলাকা দেখাতে। পথিমধ্যে আমরা দেখলাম কাস্টম হাউস, কনভেনশন সেন্টার, ০২ থিয়েটার। আমরা গেলাম পোর্টে। এয়ারপোর্টের মতো ডাবলিন পোর্টও খুবই ব্যস্ত সময় কাটায় দিনে। ইউরোপ বা অন্যান্য দেশ থেকে অনেক যাত্রী ও মালামাল আসে এ পোর্টে। এখানে ৫টি টার্মিনাল আছে। পোর্টে বড় বড় জাহাজ বাঁধা আছে। বিমানবন্দরের মতো এখানেও রীতিমত কাস্টমস্্ কাজ সেরে তবেই না ডাবলিনের ভিতর ঢুকতে হয়। দেখলাম ডাবলিন ওয়েল রিফাইনারি। বড় বড় ব্যাংক বিলডিং। টেল বার এরিয়া। এ এলাকায় বার ও রেস্টুরেন্টের ছড়াছড়ি। সাইমন ক্লাব। গিনেস বিয়ার বিলডিং পুরনো স্থাপত্যের নিদর্শন জানান দিচ্ছে।

স্থানীয় পাকিস্তানি কাবাবিশে আমরা রাতের খাবার খেলাম। খাবারের আগে ডাবলিন মস্ক ও কালচারেল সেন্টার দেখতে গেলাম। এ মসজিদটি একটি চার্চ ছিলো। মসজিদটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়ারল্যান্ডের হেডকোয়ার্টার। চার্চ হিসাবে ১৮৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিলডিংটি ১৯৮৩ সালে আয়ারল্যান্ড ইসলামিক ফাউন্ডেশন কিনে নেয় এবং মসজিদে রূপান্তরিত করে। ২০১১ সালের সেনসাসে দেখা গেছে, আয়ারল্যান্ডে প্রায় ৫০ হাজার মুসলমানের বাস। যা দেশটির জনসংখ্যার ১.০৭%।  ১৯৫৯ সালে আয়ারল্যান্ডে প্রথম ইসলামিক সোসাইটি গঠিত হয়। আয়ারল্যান্ডের ছাত্ররা তা প্রতিষ্ঠা করেন এবং নাম দেওয়া হয় ডাবলিন ইসলামিক সোসাইটি। ঐ সময়ে ডাবলিনে কোন মসজিদ ছিল না। ছাত্ররাই হল ভাড়া করে জুমার নামাজ পড়তে আরম্ভ করেন। ১৯৭৬ সালে প্রথম মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠা হয় আয়ারল্যান্ডে।  

১৯৯১ সালে আয়ারল্যান্ডে মুসলিমের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৮৭৩ জন। মুসলিমের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছেই আয়ারল্যান্ডে। বেশিরভাগ মুসলিমই ইমিগ্রেন্ট। মুসলিমদের বেশিরভাগই কাজের সন্ধানে তুর্কি থেকে এসেছেন। এশিয়ান ও আফ্রিকান মুসলিমও আছেন। আইরিশ মুসলিম হলেন প্রায় ৩০.৭০%। ১৯৯১ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এ ২০ বছরে মুসলিমের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আয়ারল্যান্ডের জনসংখ্যা প্রায় ৪.৫৮ মিলিয়ন। দেশটির আয়তন ৩২৫৯৫ বর্গ মাইল বা ৮৪৪২১ কিলোমিটার।

শনিবার দুপুরে আমরা যাই মাহমুদ ভাইর বাসায় মধ্যা? ভোজ সারতে। সকাল থেকেই তিনি এসে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন। মাহমুদ ভাইর বাসা শহর থেকে একটু দুরে। প্রায় গ্রাম্য এলাকায়। যাওয়ার পথে আয়ারল্যান্ডের অনেক দর্শনীয় স্থান আমরা দেখি। যার মধ্যে একটি হলো ন্যাশনাল এক্যুয়াটিক সেন্টার। ইউরোপের সর্ববৃহৎ পানির রাইড এটি। সুড়ঙ্গের পানির সৗাইডে নিজেকে হারিয়ে নিতে পারবেন কিছু সময়ের জন্য। প্রবল স্রোতে আপনি ভেসে যাবেন অনেকদুর। পরিবার ও বাচ্চাদের জন্য এ এক বিশাল আয়োজন। পুরো পরিবার নিয়ে ফ্লো রাইডে নিজেকে হারিয়ে নিতে পারেন। পানির স্্েরাত ও ঢেউয়ের আনন্দ উপভোগ করবেন নিরাপদ গভীরে। আছে মাস্টার ব্লাস্টার ওয়াটার রাইড। ফ্লুমস এ চড়লে মনে হবে বহমান নদীতে আরোহন করে সাগরের কোথাও হারিয়ে যাচ্ছেন। বাচ্চাদের স্বর্গ বলে পরিচিত আছে পাইরেট সিপ। সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো ঢেউ আনন্দ দিবে ওয়েভ পুলে। মনে হবে আপনি ঠিকই সাগরে নেমেছেন এবং সাগরের ঢেউয়ের সাথে আপনি আছড়ে পড়ছেন তীরে। লেজি রিভার স্রোতে নিজেকে ভাসিয়ে দিতে পারেন কিছু সময়ের জন্য যেন একেবারে কোন বাস্তব নদীতে ভাসছেন এ অনুভুতিতে। এ সেন্টারে আছে হেলথ ক্লাবও। এর সদস্যরা উপভোগ করতে পারেন ছোনা, স্টিম রোম ও স্পা-এর মতো আধুনিক ফিটনেস ব্যবস্থা। এক্যুয়া জোনের ম্যানেজার আমাদের ঘুরিয়ে দেখালেন তাদের বিভিন্ন আধুনিক কর্মতৎপরতা। ভিজে একাকার হওয়ার পর ফ্রেশ হতে নিজে কাপড়চোপড় নিয়ে যেতে হবে সেখানে। আছে পুরুষ, মহিলা, বাচ্চাদের আলাদা আলাদা চেঞ্জিং রোমের সুব্যবস্থা। বিভিন্ন পানির রাইডে হারিয়ে গেলেও চিন্তার কোন কারণ নেই। কয়েক মিনিটেই নিজেকে শুকিয়ে নেয়ার জন্য আছে সুবিশাল বডি ড্রাইয়ার হাউস।  

এখানে প্রতি বছর সাঁতার প্রতিযোগিতা হয়। ৩/৪ বছরের বাচ্চারা সাতার শিখতে পারছে ভবিষ্যতে তৈরি হওয়ার জন্য। ২/৩ হাজার মানুষ স্যুইমিং কম্পিটিশন উপভোগ করতে পারে। মাহমুদ ভাই জানালেন, রিসেশনের ধকল এখনও কাটিয়ে উঠতে পারছে না আয়ারল্যান্ডবাসি। এখানে বাড়ি-ঘরের দাম এখনও খুবই কম। যে বাড়িটি তিনি ২৪৫ হাজার ইউরোতে কিনেছেন তা একসময় ৩৪৫ ইউরোতে দাম উঠেছিলো। কিন্তু এখন সে বাড়ির দাম মাত্র ১৪৫ হাজার ইউরো। পথিমধ্যে আমরা দেখি ফিনিক্স পার্কের পাশেই আইরিশ প্রেসিডেন্টের বাসভবন। কাছেই আছে আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের বাসভবনও। ক্রাউন প্লাজা হোটেল, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর পাশেই আছে ৪৫০ বছরের পুরনো কিড্স জেল। যা বর্তমানে বন্ধ।  হরেক রকম বাহারি খাবারে তৃপ্ত হই আমরা দুপুরে। আসার পথে আমরা মাগরিবের নামাজ পড়ি দাওয়া মসজিদে। যদিও মুসল্লিদের সংখ্যা কম তথাপি এ মসজিদটি অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হচ্ছে আরও বিশাল পরিসরে। ডাবলিনের বেশিরভাগ বাড়ি ডিটাচড্্ করে তৈরি। কাউন্সিলের ঘর হলেও তার মাঝে একটা আকর্ষন আছে। লন্ডনের মতো গাদাগাদি করে ফ্লাটগুলো তৈরি নয়। বেশিরভাগ বাড়ি-ঘর পৃথকভাবে তৈরি ও দৃষ্টিনন্দন। কান্ট্রিসাইডতো খুবই মনোরম। আইরিশরা গ্রাম্য এলাকায়ই থাকতে ভালোবাসে। সবুজের সমারোহে গ্রামগুলো যেন সবাইকে গ্রামের দিকেই টানে।

বিকেলে সাইফুল ভাইয়ের সাথে আমাদের ঘুরাবার আমন্ত্রণ। ইতোমধ্যে তিনি এসে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন। নোয়াখালির সাইফুল ভাই ওখানে ৬/৭ বছর ধরে আছেন। তিনি কলেজ ব্যবসার সাথে জড়িত। ২০০৮ সাল থেকে তিনি একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করে ব্যবসা করছেন। তার কলেজে প্রায় ৩ হাজার ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করছে। এরা বেশিরভাগই ইউরোপ, ইন্ডিয়া ও চীনের। তিনি জানান, বাংলাদেশিদের গড়া ৪টি কলেজ আছে এখানে। সবাই মোটামুটি ভাল করছে। সরকার প্রথমেই খুব ভালো করে যাচাইবাছাই করে অনুমতি দেয়। অনুমতি দিলে হুট করে আবার বন্ধ করে দেয় না। তিনি জানালেন ডাবলিনে সিলেট ও বরিশালের লোকই বেশি। রাতে সিলেটের বিয়ানিবাজারের মালিকের রেস্টুরেন্টে সাইফুল আমাদের আহার করান। আসার পথে তিনি আমাদের তাঁর কলেজ দেখাতে নিয়ে যান। কলেজ দেখে মনে হলো এমন নানা প্রতিষ্ঠান পৃথিবীর দেশে দেশে এখন আমাদের দেশের উপস্থিতি জানান দিচ্চেছ। কিন্তু রাজনৈতিক টানাপোড়নে আমরা সে অনুপাতে এগুতে পারলাম কই?

পরদিন রোববার আমরা লন্ডনে চলে আসবো। দিনে ইমরান ও আমি কাছেই শপিং সেন্টারগুলেতে ঢুঁ মারি। মার্কস এণ্ড স্পেন্সার থেকে আরম্ভ করে ইউরোপের সব বড় বড় দোকানগুলোর শাখা আছে ওখানে। ডিসেম্বরের আগমনকে সামনে রেখে কেনাকাটার তোড়জোড় আরম্ভ হয়েছে। ক্রেতা আকৃস্ট করতে রাস্তায় বাহারি গানেরও আসর জমেছে। দুপুরে ‘যত চান তত খান’ বাফের দোকানে পেট পুরে খেলাম। বিভিন্ন ধরনের সবজি, চিকেন, মিট, সালাদ ও ডিজার্টের আয়োজনে ভালই খাবার হলো। বিকেলে প্লেন ধরতে ডাবলিন এয়ারপোর্টে যেতে টেক্সিতে উঠলাম আমরা। বৃদ্ধ টেক্সি ড্রাইভার, জানালেন তিনি ৪০ বছর ধরে টেক্সি চালিয়েই জীবন নির্বাহ করছেন। একসময় খুবই ভালো ব্যবসা হয়েছে, কিন্তু এখন কোনমতে সংসার চালাচ্ছেন। এই বয়সে তার আর কিছু করারও নেই। তার জীবনের শেষ পর্যন্ত টেক্সিতেই থাকতে চান তিনি।

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের এয়ারক্রাফটি রাত আনুমানিক ৯টায় হিথ্রো বিমানবন্দরের রানওয়ে স্পর্শ করলো। এক নাম্বার টার্মিনাল দিয়ে আমরা যখন বের হলাম, সেখানে কোনই চেকিং হলো না। আমরা শুধু পাসপোর্টখানি স্পর্শ করলাম আর বের হলাম, পথিমধ্যে কেউই আমাদের আটকালোনা। এ যেন ওয়েস্টার কার্ড স্পর্শ করে আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেনে করে এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ভ্রমণ করছি।