Share |

বাংলাদেশের অসহায় আত্মসমর্পণ

ঢাকা, ২ অক্টোবর : প্রথম সেশনের দেড় ঘণ্টাও পার না হতেই অলআউট বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে ৩৩৩ রানের বড় জয় পেলো দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে এগিয়ে রইল প্রোটিয়ারা।  
রোববার সকালে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। কোনো রান না করেই সাজঘরে ফিরলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। এর পর বিদায় নিলেন মাহমুদুল্লাহ, লিটন দাস, সাব্বির রহমান, তাসকিন আহমেদ, শফিউল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান। এরা কেউই দুইয়ের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৯ রান করেছেন মাহমুদুল্লাহ।
সর্বোচ্চ চারটি উইকেট শিকার করেছেন মেহারাজ। তিনটি রাবাদা ও দুটি মরনে মরকেল।  কঠিন লড়াইয়ে মুখোমুখি বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের শেষ দিনে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। মুশফিকদের জন্য ম্যাচ বাঁচানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের টিকে থাকতে হবে তিন সেশন। হাতে আছে সাত উইকেট।
পঞ্চম দিন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের সঙ্গী হয়েছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তাকে নিয়ে বড় জুটি গড়তে হবে মুশফিকুর রহিমকে। বাংলাদেশকে টিকে থাকতে হবে ৯০ ওভার।
গতকাল ৪২৪ রানের বিশাল লক্ষ্য নিয়ে চা বিরতির আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই মরনে মরকেলের তোপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে রানের খাতা খোলার আগেই বো? হন তামিম ইকবাল। ভেতরে ঢোকা এক বলের লাইন ধরতে পারেননি তামিম। বল আঘাত হানে অফ স্টাম্পে। এক বল পরেই মরকেলের বলে লেগ বিফরের ফাঁদে পড়েন আরেক বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক। যদিও টিভি রিপ্লেতে দেখা গিয়েছে বল লাগতো লেগ স্টাম্পের বাইরে। রিভিউ না নেওয়ায় ফিরে যেতে হয় তাকে।
মরনে মরকেল বো? করেন মুশফিকুর রহিমকেও। কিন্তু মুশফিক বেঁচে যান নো-বলের কারণে। দলীয় ১৫ রানের মাথায় একবার জীবন পান ইমরুল। তবে জীবন পেয়ে নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি। চা বিরতির আগে শেষ ওভারে কেশব মহারাজের টার্নে ফেরত যান তিনি। ক্যাচ দেন কুইন্টন ডি কককে। ৩২ রান করে আউট হন ইমরুল।
এরপর বৃষ্টি নামলে শেষ সেশনে কোনো বল মাঠে গড়ায়নি। শেষ সেশনের বৃষ্টি যেন কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে বাংলাদেশকে। তৃতীয় দিনের শুরুটা ভালোই হয়েছিল বাংলাদেশের জন্য। দুই পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ও শফিউল ইসলাম বোলিং করছিলেন লাইন-লেন্থ বজায় রাখে। সাফল্য এসেছে দ্রুত। দলীয় ৭০ রানের মাথায় হাশিম আমলাকে ফেরান মোস্তাফিজ। উইকেটের পেছনে লিটন কুমার দাসকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। ৪৩ বলে ২৮ রান করেন হাশিম আমলা।
আমলার বিদায়ের পর লিড দ্রুত বাড়াতে থাকে দক্ষিণ আফ্রিকা। টেম্বা বাভুমা ও ফাফ ডু প্লেসিসের দ্রুত ব্যাটিংয়ে লিড বাড়তেই থাকে। যদিও ফাফ ডু প্লেসিসকে ফেরানো যেত আগেই। শফিউল ইসলামের বলে পয়েন্টে ক্যাচ ধরতে পারেননি ইমরুল কায়েস। দ্রুত লিড বাড়িয়ে ম্যাচে আরো শক্ত অবস্থানে চলে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
তাদের জুটি ভাঙেন মুমিনুল। মুমিনুলের বলে সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন ডু প্লেসিস। ৮১ রান করে বিদায় নেন। এরপর বাধা হিসেবে আসে বৃষ্টি। প্রায় এক ঘন্টা বন্ধ ছিল খেলা।
বৃষ্টির পর নিজের পরের ওভারে আবারো উইকেট পান মুমিনুল। দৃষ্টিনন্দন এক ক্যাচ ধরে বাভুমাকে ফেরান লিটন কুমার দাস। বাভুমা পেছনে সুইপ করতে যাচ্ছেন তা বুঝে ফেলে আগে থেকেই লেগ স্টাম্পের দিকে সরে এসে এক অসাধারণ ক্যাচ নেন লিটন। ৭১ রান আসে বাভুমার ব্যাট থেকে। এরপর দারুণ এক স্টাম্পিং করেন লিটন। মুমিনুল-লিটন এনে দেন আরেকটি উইকেট। মহারাজের ২০ রানে ভর করে ২৪৭ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৪২৩ রানের লিডকে যথেষ্ট মনে করে ইনিংস ঘোষণা করেন প্লেসিস।
বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে এক কঠিন পথ। শেষ সেশনের বৃষ্টি আর মরনে মরকেলের চোট সেই কঠিন পথ করেছে কিছুটা মসৃণ। তবে ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার বাংলাদেশকে ম্যাচ বাঁচাতে হলে দিতে হবে ধৈর্য্যের পরীক্ষা। লড়াই করতে হবে কঠিন প্রতিজ্ঞা নিয়ে।