Share |

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচন ২০১৫ : ইলিং সেন্ট্রাল থেকে মনোনয়ন পেলেন ড. রুপা হক

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ১৭ নভেম্বর : ২০১৫ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আরো এক বাঙালি মনোনয়ন নিশ্চিত করলেন। ইলিং সেন্ট্রাল ও একটন থেকে লেবার পার্টির হয়ে নির্বাচনে লড়বেন সমাজ বিজ্ঞানি ড. রূপা হক। কিংস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র লেকচারার রূপা হক ২০০৫ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে এভারশাম আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০০৮ সালের ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে ও ২০১০ সালে ইলিং কাউন্সিলের কাউন্সিলার পদেও লড়েছেন রূপা।  রূপা হকের মনোনয়ন লাভের মধ্যদিয়ে এ পর্যন্ত চার বাঙালি প্রার্থীর প্রার্থীতা চুড়ান্ত হলো। বেথনালগ্রীন ও বো আসনের এমপি ও শ্যাডো এডুকেশন মিনিস্টার রুশানারা আলী, কেনসাল গ্রীন থেকে টিউলিপ সিদ্দিক লেবারের হয়ে লড়বেন। টোরি পার্টির মনোনয়ন পেয়েছেন মিনা রহমান।  এ পর্যন্ত মনোনয়নলাভকারী তিন লেবার প্রার্থীই বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লেবার পার্টি আগামী নির্বাচনে যে ৬০টি মার্জিনাল আসন টার্গেট করেছে তাতে ইলিং সেন্ট্রালের অবস্থান ৫৪তম।
গত ২ নভেম্বর একটনের চার্চ রোডের রাস্কিন হলে অনুষ্ঠিত হাস্টিং-এ ১৫০ জন স্থানীয় লেবার সদস্যের ভোটে রূপা আশা হক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। ৪১ বছর বয়স্ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রূপার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কাউন্সিলার লিসা হরম্যান, স্বেচ্ছাসেবক মার্বেল ম্যাককিওন, পার্লামেন্টারি ট্রেনিং এডভাইজার মেন্ডার ওগোবডাব এবং বিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদী মেলেনি স্মলম্যান। মনোনয়ন লাভের পর সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রূপা বলেন, লেবারের আসনটি পুনরুদ্ধারের লড়াই আজ থেকে শুরু হলো। আমাদের ক্যাম্পেইন হবে স্থানীয় জনগণের কল্যাণে সরকারের কর্তনের বিরুদ্ধে জনগণকে আশার আলো দেখাতে হবে এবং আমি আশাবাদী ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা তা অর্জন করতে সক্ষম হবো। নির্বাচিত না হলেও বিগত ২০১০-১১ মেয়াদে ইলিং কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়রেস হিশেবে দায়িত্ব পালনকারী রূপা আগামী নির্বাচনে লড়বেন টোরী এমপি ব্রে এনজির সাথে। মার্জিনাল আসন হিশেবে চি?িত ইলিং সেন্ট্রাল এন্ড একটনে ২০১০ সালে টোরির সাথে লেবারের ভোটের ব্যবধান ছিলো ৩৭১৬ ভোট। এক সময় লেবারের ঘাঁটি হিশেবে পরিচিত এই আসনটিতে গেলো নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াই ছিলো।
লেখক কলামিস্ট ও সমাজবিজ্ঞানী ড. রূপা হকের জন্ম ১৯৭২ সালে। ব্লু পিটার খ্যাত কনি হক রূপার ছোট বোন। রূপার বড় বোন নুতন একজন স্থপতি।
ইলিং এ বড় হওয়া রূপা ক্যাম্ব্রিজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেন। ইস্ট লন্ডন ইউনির্ভাসিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নেন। কর্মজীবনে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষকতা করেছেন। কিংস্টনে শিক্ষকতায় নিয়োজিত থাকলেও তিনি একজন প্রফেশনাল ডিজেও।  
তিনটি বই ছাড়াও বিভিন্ন জার্নালে তার প্রকাশিত প্রবন্ধের সংখ্যা অনেক। ‘বিয়ন্ড সাবকালচার’ নামে ইয়ূথ কালচার ও পপ মিউজিক নিয়ে ২০০৬ সালে তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থটি ফিলিপ আবরাম মেমোরিয়াল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলো। রূপার লেখা নিয়মিত ছাপা হয় ট্রিবিউন, গার্ডিয়ান, নিউ টেস্টসম্যান এবং প্রগ্রেসিভ ম্যাগাজিনে। রূপার বাবা মোহাম্মদ মাসজুদ্দিন আবদেল হক এবং মা রওশন আরা হক ১৯৬০ সালে বিলেতে আসেন। সাবেক ব্যাংকার আবদেল হক পরবর্তীতে সহো ও হ্যারোতে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেন। রূপার পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের পাবনা জেলায়।