Share |

ভোট জালিয়াতি বন্ধে পরিচয় যাচাই চালু : নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগকে স্বাগত

ভোট প্রদানকালে পরিচয় যাচাইয়ের বিধান চালু করতে যাচ্ছে ব্রিটেন। ভোট জালিয়াতি বন্ধে এই নতুন পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আসছে কাউন্সিল নির্বাচনেই ইংল্যান্ডের পাচঁটি স্থানীয় কাউন্সিলে পরীক্ষামূলকভাবে এই পরিচয় যাচাই চালুর ঘোষণা এসেছে। প্রাথমিকভাবে আইডি যাচাই চালু হতে যাওয়া পাঁচটি বারা হলো- ওর্কিং, গসপোর্ট, ব্রোমলি, ওয়াটফোর্ড এবং সৗাও। পাশাপাশি পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে একই সময়ে পোস্টাল ব্যালট জালিয়াতি বন্ধে চালু হবে নতুন ব্যবস্থা।  
গত সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পরীক্ষামূলক এই ব্যবস্থা চালুর ঘোষণার পর এই উদ্যোগে সমর্থন যেমন মিলছে তেমনি সমালোচনাও শুরু হয়েছে।    সমালোচকরা বলছেন, ভোট প্রদানের সময় আইডি যাচাইয়ের বিধান বাধ্যতামূলক করা হলে ভোটকেন্দ্র ভোটার উপস্থিতি আরও কমবে। কেননা, এমনিতেই ব্রিটেনে লোকজন বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ভোটদানে অংশ নেয়ার হার কম। আইডি প্রদর্শনের নিয়ম চাপিয়ে দেয়া হলে তারা ভোটদানে আরও বেশি নিরুৎসাহিত হবে।   
তবে নতুন এই পাইলট প্রজেক্টকে স্বাগত জানিয়েছেন সংবিধান বিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস স্কিডমোর। তিনি বলেন, আমাদের গণতন্ত্রের প্রতি বিদ্যমান আস্থা ও বিশ্বাসকে ধরে রাখার জন্য ভোট প্রদান প্রক্রিয়াকে সকল প্রকার জালিয়াতি থেকে সুরক্ষা দিতে হবে। তাঁর কথা হচ্ছে, একজনের পরিচয়পত্র দিয়ে অন্য কেউ যেখানে লাইব্রেরি থেকে একটি বইও নিতে পারে না সেখানে ভোটের সময় একজনের নাম ব্যবহার করে আরেকজন ভোট দেবে সেটা মেনে নেওয়া যায় না।  
দুই পক্ষের কথাতেই যুক্তি আছে। তবে আমাদের মতে, পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা না থাকায় ভোটে অনিয়ম কিংবা জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহণের যে প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে তা থেকে মুক্তি পেতে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগকে সমর্থন জানানো উচিত। এক্ষেত্রে আমাদের কমিউনিটির পক্ষ থেকেও সমর্থন জানানো উচিত বলে আমরা মনে করি। কারণ, বিগত ২০১৫ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদন বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, বাংলাদেশি এবং পাকিস্তানী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ বেশি। ওই গবেষণা প্রতিবেদনে দাবী করা হয়েছে, সংস্কৃতিগতভাবে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানী জনগোষ্ঠীর মধ্যে নির্বাচনে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা বেশি। এসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে নির্বাচন নিয়ে অতি উৎসাহ এবং ভোট প্রদানে অংশগ্রহণের হারও বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।  
পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস, বার্মিংহাম ও ম্যানচেস্টারসহ বহু এলাকায় ভোট জালিয়াতির অভিযোগ বেশ পুরনো। বিশেষ করে একজনের ভোট আরেকজন দিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সবচেয়ে বেশি। টাওয়ার হ্যামলেটসসহ কয়েকটি বারায় পোস্টাল ভোটের ক্ষেত্রেও একই রকম ভোট জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এধরনের কর্মকা-ের অভিযোগে ব্রিটেনের সবচেয়ে বেশি বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসে তো বহু ওলটপালট হয়ে গেলো। এখন টাওয়ার হ্যামলেটসের ভোটকেন্দ্রগুলোতে পুলিশ পাহারা বসে।  
এ ব্যাপারে উদাহরণ হিসেবে নর্দান আয়ারল্যান্ডের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।  ১৯৮৫ সাল থেকে সেখানে ভোট দেওয়ার সময় আইডি প্রদর্শনের নিয়ম চালু আসছে। সেখানে ২০০৩ সালের পর একজনের ভোট অন্য কেউ দিয়েছেন এমন কোনো অভিযোগ আর পাওয়া যায়নি।  সুতরাং, নর্দান আয়ারল্যান্ডে যে বিধান আড়াই যুগেরও বেশি সময় ধরে সফলভাবে চালু রয়েছে সেখানে ব্রিটেনের বাকী অঞ্চলেও একই ব্যবস্থা চালু করতে অসুবিধা কোথায়?
এটি ঠিক যে, এই নতুন ব্যবস্থা ব্রিটিশ গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠিত সংস্কৃতিক সৌন্দর্য্যকে বদলে দেবে। কিন্তু এর চেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে, নির্বাচনকে স্বচ্ছ এবং ভোটের মতো আমানতকে সুরক্ষা দেওয়া। সেটি দিতে ব্যর্থ হলেই বরং গণতন্ত্রের মর্যাদা ক্ষুণœ হবে।