Share |

রশীদ করীম: সমকালীন ও চিরকালীন

কৃতজ্ঞতাঃ বিডিনিউজ আর্টস

রশীদ করীম লিখবার ক্ষমতা হারিয়েছিলেন অনেককাল আগে। স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে তিনি হয়ে পড়েছিলেন অশক্ত, চলতে ফিরতে পারঙ্গম ছিলেন না আর। কলম বশে আনতে পারগ ছিল না হাতের আঙুল, সর্বোপরি স্মৃতি তাঁর সাথে খেলছিল নিষ্ঠুর এক খেলা, আলোছায়ার ভোজবাজির মতো স্মরণ ও বিস্মরণ খেলতে থাকে তাঁকে নিয়ে, তিনি বুঝতে পারেন সব কিন্তু কিছু করবার উপায় থাকে না। বই পড়তে পারেন না, কেননা পাঠের ধারাক্রম বজায় রাখা তাঁর আয়ত্তের বাইরে, লিখতে পারার প্রশ্নই ওঠে না, বাইরের জীবনের সঙ্গে একেবারে সংযোগবিহীন হয়ে পড়েন তিনি। আজীবন সাহিত্যচর্চায় সমর্পিত ছিলেন যে-মানুষটি তাঁর জন্য এই পরিস্থিতি ছিল গভীর বেদনাদায়ক। ১৯৯১ সালে তাঁর সর্বশেষ রচনা, স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ জীবন মরণ যখন বের হলো তখন তিনি পুরোপুরি স্মৃতিধূসর হন নি, বহু কষ্টে শেষ করেছিলেন নিজের জীবনকথা, নিজের তো নয়, তাঁর চারপাশের মানুষদের কথা এবং সেই গ্রন্থের উৎসর্গপত্রের পরে আলাদা এক পৃষ্ঠায় লিখেছিলেন, লেখেন তো নি, মুখে মুখে বলে দিয়েছিলেন কথাগুলো : “এই আমার শেষ লেখা, ইংরেজিতে যাকে বলে সোয়ান সঙ্–ময়ালসঙ্গীত।”