Share |

লন্ডন টিউবে আবারো বিস্ফোরণ : সন্ত্রাসী তৎপরতার কারণ চি?িত করা প্রয়োজন

ব্রিটেনে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা দিন দিন যেমন বাড়ছে, তেমনি দ্রুত বদলে এসব হামলার ধরন। অতীতের ভয়াবহ ঘটনাগুলোর কথা বাদ দিলেও মাত্র মাসকয়েক আগে ম্যানচেস্টার এরিনায় সংঘটিত বোমা হামলার অল্প দিনের ব্যবধানে লন্ডন ব্রিজের পাশে বরো মার্কেটে গাড়ি হামলা ও ছুরিকাঘাতের মতো ঘটনার রেশ এখনও রয়ে গেছে। এরই মাঝে গত সপ্তাহে পশ্চিম লন্ডনে টিউবে সন্ত্রাসীদের পাতানো বোমার আংশিক বিস্ফোরণ ঘটেছে। অন্যান্য ঘটনাগুলোতে নিরীহ জনগণের প্রাণহানি হলেও সৌভাগ্যবশত: সর্বশেষ ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেনি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ঠিকমতো বিস্ফোরিত হলে ঐ ক্যারেজে থাকা যাত্রীদের সকলেরই প্রাণহানি ঘটতে পারতো। এই তথ্য রাস্তাঘাটে চলাফেরা করা সাধারণ জনগনের জন্য রীতিমতো ভয়ের। কারণ সন্ত্রাসীদের এবারের অপারেশন সফল না হলেও আগামী দিনেরটা যে আরো প্রাণহানি ঘটাবে না তার নিশ্চয়তা কে দেবে?
আমরা মনে করি, ব্রিটেনে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা দমন করতে হলে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর সুরাহা যেমন করতে হবে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিয়ে তেমনী ভবিষ্যতে এধরনের  ঘটনাগুলো যাতে আর না ঘটতে পারে সেজন্য এসব সন্ত্রাসী ঘটনার উৎসে যেতে হবে। কি কারণে ব্রিটেনে আশ্রয় পাওয়া, বেড়ে ওঠা তরুণ প্রজন্ম এই ভয়ঙ্কর তৎপরতায় লিপ্ত হয়। কোন শক্তি তাদেরকে এই নিষ্ঠুরতা এবং নিরীহ জনগণের প্রাণহরণের মতো ঘৃণ্য কাজে উৎসাহিত করে কিংবা সন্ত্রাসী হতে সাহস যোগায় তার অনুসন্ধান করতে হবে। এক্ষেত্রে পৃথিবী জুড়ে নানা দেশের চলমান অস্থিরতায় ব্রিটেনের জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া দরকার। এটি এই দেশের জননিরাপত্তার জন্যই প্রয়োজন।
গত শুক্রবারের ঘটনায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজন ২১ বছরের ইয়াহইয়া ফাররুখী সিরিয়ার দামেস্ক থেকে আসা। অন্যজন ১৮ বছরের এক ইরাকী তরুণ। এরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে ব্রিটেনে এসে পালক পিতামাতার কাছে বড় হয়েছে। ম্যানচেস্টারের ঘটনায় জড়িত তরুণ লিবিয়ান বংশোদ্ভূত বলে জানা গেছে। উদাহরণ হিসেবে এ দুটি ঘটনায় জড়িতদের কথা ধরলে প্রশ্ন আসে, এদেরকে শিশু অবস্থায় নিজ বাসভূম ছেড়ে আসতে হলো কেনো? কোন পরিস্থিতি বাপ-দাদার ভিটা ছেড়ে তাদেরকে ব্রিটেনে বা অন্য দেশে পালিয়ে এসে অন্যের অনুগ্রহ আর অনুকম্পার উপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য করেছে? এসব গুরুতর প্রশ্নের জবাব খোঁজা এবং পাওয়া জরুরী।
আরেকটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেটি হচ্ছে এ ধরনের ঘটনার পরপরই জড়িতদের ‘ইসলাম’ অনুসারী আর ‘মুসলিম’ পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়ে এদেশের কতিপয় মিডিয়ার যে তাণ্ডব চলে সেটি রোধ করা সম্ভব না হলেও দায়িত্বশীলদের উচিত তা প্রত্যাখান করা। কারণ এর মাধ্যমে একাধিক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরী হয়। এক. এসব প্রচারণা ইমিগ্রান্ট-বিরোধী আর বর্ণবাদী গোষ্ঠীকে ঢালাওভাবে একটি নির্দিষ্ট কমিউনিটির বিরুদ্ধে উসকে দেয়। দুই. মুষ্টিমেয় ব্যক্তির অপতৎপরতার জের ধরে সমগ্র কমিউনিটি আর তাদের উপাসনালয় আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এটি একাধারে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে চি?িত হয়। তবে এর পরিণামে বড় যে ক্ষতি হয় তা হলো- সমাজের একটি সক্রিয় অংশ নিজেদের আর এই সমাজের অংশ বলে মনে করার ভরসা পায় না। ফলে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে তাদের অংশগ্রহণ হয়ে পড়ে সীমিত এবং নামকাওয়াস্তে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বশীল এবং রাজনীতিবিদদের বক্তব্যে এই অভিযোগ বহুবার এসেছে। আমরা বিশ্বাস করি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সেটা রাষ্ট্র থেকে কিংবা ব্যক্তির হোক তা কোনমতেই গ্রহণযোগ্য বা সমর্থনযোগ্য নয়।
বরাবরের মতো আমরাও এই সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী তৎপরতার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ট্রেইন, বাস, টিউবসহ সকল জনসমাগমের স্থানগুলোতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানাই। আর সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসীদের রোধ করতে এর উৎস বন্ধ করতে হবে। এজন্য প্রথম কাজ হবে এসবের নেপথ্য কারণ চি?িত করা। ব্রিটেনের কর্তাব্যক্তিদেরই এক্ষেত্রে আন্তরিক হতে হবে।