Share |

লাস ভেগাস হত্যাকাণ্ড : হত্যাকারী ‘সন্ত্রাসী’ নয়?

অক্টোবরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হত্যাকাণ্ড ঘটে গেছে। স্টিফেন প্যাডক নামক এক ব্যক্তির ছোঁড়া গুলিতে গত ৪ অক্টোবর আমেরিকার লাস ভেগাসে ৫৯ জনের মৃত্যু ৫ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।  
নেভাডার বাসিন্দা ষাটোর্ধ এই বন্দুকধারী লাস ভেগাসে তিনদিনের কান্ট্রি মিউজিক ফেস্টিভাল চলাকালে পার্শ্ববর্তী একটি হোটেলের ৩২তলা থেকে ২২ হাজার মানুষের জমায়েতে এলোপাথাড়ি গুলি ছুঁড়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।
একজন সাবেক একাউন্টেন্ট হিসেবে হত্যাকারীর পরিচয় পাওয়া গেলেও এই ভয়াবহ হামলার নেপথ্য কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে ব্যাপক প্রাণহানির এই ঘটনার পর শোকের আবহ কাটতে না কাটতে হতবিহ্বল মানুষের মাঝে হত্যাকারীর চিহ্নায়ন নিয়ে বড় এক বিতর্ক নতুন করে শুরু হয়েছে।
কেনো এই ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেয়া হবেনা, তা নিয়ে অনলাইনে একটি বিতর্ক শুরুর প্রেক্ষিতে বিবিসি বাংলা সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।   এতে বলা হচ্ছে, ‘নিঃসঙ্গ শিকারি’ (লোউন উলফ), ‘দাদামশায়’ (গ্রান্ডড্যাড), ‘জুয়াড়ি’ কিংবা ‘সাবেক হিসেবরক্ষক’ বলে এই হত্যাকারীকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হচ্ছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, এত বড় সন্ত্রাসী ঘটনার পরও এর হোতাকে কেনো সন্ত্রাসী হিসেবে বর্ণনা করছে না কর্তৃপক্ষ? তাদের আপত্তিটা কোথায়? সাধারণত: মানুষের মাঝে ত্রাস সৃষ্টিকারী কোন তৎপরতা সন্ত্রাস হিসেবে চিহ্নিত আর সেই তৎপরতা চালনাকারীকে সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত করার কথা।  এছাড়া, নেভাডা রাজ্যের আইনে ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা’র সংজ্ঞা হচ্ছে, ‘যে সহিংস কর্মকাণ্ড জনসাধারণের মৃত্যু অথবা ব্যাপক শারীরিক ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত’।
তাহলে কেনো এই ভয়ানক হত্যাকারীকে অন্যান্য নানা বর্ণনায় চিহ্নিত করা হলেও খুবই সতর্কতার সাথে ‘সন্ত্রাসী’ চিহ্নায়নটি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে? তাহলে কি কর্তৃপক্ষ দাবী করতে চাইছে, এটি সন্ত্রাসী ঘটনা নয়?  
বিবিসি বলছে, এখন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে অনেকেই লিখছেন, প্যাডক যদি একজন মুসলিম হলে ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই তার নামের সাথে ‘সন্ত্রাসী’ শব্দটি যুক্ত হয়ে যেত। আন্তর্জাতিক কোন সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে তার যোগসাজশ আছে কি না সেটা প্রমাণের জন্যও অপেক্ষা পর্যন্ত করা হতো না। একজন বলছেন, লোউন উলফ শোনার সাথে সাথে আক্রমণকারীর বর্ণ আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে।  
ঘটনার পর গার্ডিয়ানের কলামিস্ট মোস্তফা বাইয়ুমী এক মতামত প্রতিবেদনে লিখেছেন, লোউন উলফ কী? এটি হচ্ছে একটি বিশেষ শব্দবন্ধ যা দিয়ে আমরা শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করি।  
অনেকেই মনে করছেন, শ্বেত গাত্রবর্ণের কারণেই তাকে ‘সন্ত্রাসী’ বলা হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের মনে যে এসব প্রশ্ন উঠছে তা আসলে কি বার্তা দিচ্ছে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে? এক্ষেত্রে হামলাকারীর মুসলমান পরিচয় হলে এক ধরনের আচরণ আর তা না হলে একই কাজের জন্য সম্পূর্ণ উল্টো আচরণ- এই বিষয়টি যে সাধারণ মানুষের কাছে দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে তা-ই এসব প্রতিক্রিয়ার মধ্যদিয়ে উঠে এসেছে।   “হি হু ডিফাইনস ইজ দ্যা মাস্টার
হি হু রিডিফাইনস ক্যান বিকাম দ্যা লিবারেটর“
সুতরাং কর্তৃপক্ষ যতোই লুকোছাপা করুক, কে সন্ত্রাসী আর কে নয় তা পুনর্সংজ্ঞায়িত করতে জনগণ সচেতন হয়ে উঠছে। এটি আশার কথা।