Share |

শেখ মুজিব বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চাননি : তারেক রহমান

লন্ডন, ২৫ মার্চ : জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিশেবে দাবি করে বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, শেখ মুজিবুর রহমান শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিতেই ব্যর্থ হননি, তিনি ৭ কোটি মানুষের মনের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে; তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চাননি। স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন ২৫ মার্চ মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপির এক আলোচনা সভায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
মেনর পার্কের রয়েল রিজেন্সী হলে আয়োজিত এ সভায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৪ ঘন্টা পর বক্তৃতা দিতে দাঁড়ান তারেক রহমান। দুপুর ১২টায় সভা শুরু হবে এবং তারেক রহমান বক্তৃতা করবেন জানিয়ে আগের দিন সাংবাদিকদের নিমন্ত্রণ করা হয়েছিলো দলের পক্ষ থেকে। অথচ দুপর ২টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হন তারেক। বক্তৃতা দেন এরও ২ ঘন্টা পর। এর আগে ছিলো নেতাকর্মীর বক্তৃতার দীর্ঘ লাইন। এনিয়ে সাংবাদিকরা বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
‘বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ দাবি করে শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। তাদের এ দাবির পক্ষে জোরালো দলিল নেই। বরং শেখ মুজিব যে ঐ দিন স্বাধীনতা ঘোষণা করেননি তার পক্ষে অনেক প্রমাণ রয়েছে।
তারেক বলেন এটা কোনো বিতর্কের বিষয় নয়; এটা প্রমাণ এবং ডকুমেন্টারির ব্যাপার, আসুন আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করি।
তারেক রহমান ১৯৭১ সালের ৮ মার্চ প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার অনুলিপি উপস্থাপন করে বলেন, ‘এইদিন শেখ মুজিবের ভাষণ নিয়ে ইত্তেফাক শিরোনাম করেছে, ‘পরিষদে যাওয়ার প্রশ্ন বিবেচনা করিতে পারি যদি’ এরপর বুলেট পয়েন্ট হিসেবে ছিল- সামরিক আইন প্রত্যাহার কর, জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা দাও, শ্রমিকদের ছাউনিতে ফিরিয়ে নাও, নাগরিক হত্যার বিচার চাই।’ তারেক রহমান দাবি করেন, ‘ঐ ভাষণে যদি স্বাধীনতা ঘোষণা হত তাহলে শিরোনাম হওয়ার কথা ছিল ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’ বা শেখ মুজিব স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন, এরকম। আবার ২৫ মার্চ শেখ মুজিবের একটি বিবৃতি নিয়ে ইত্তেফাকের একটি প্রতিবেদনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ইত্তেফাক ঐ বিবৃতির হেডিং করল এ গণহত্যা বন্ধ কর। এই সংবাদের আরেকটি সাবহেডিং ছিল-২৭ মার্চ সমগ্র বাংলাদেশে সর্বাত্মক ধর্মঘট। তারেক দাবি করেন, শেখ মুজিব যদি ৭ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেই থাকেন তাহলে আবার কীসের গণহত্যা বন্ধের দাবি? কার বিরুদ্ধে হরতাল? শেখ মুজিবের এমন দাবিকে তিনি হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন।  বার বার ইত্তেফাকের রিপোর্ট তুলে ধরার কারণ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা মানিক মিয়ার সাথে শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল। ইত্তেফাকের বর্তমান মালিক আনোয়ার হোসেন মঞ্জুও শেখ হাসিনার কাছের মানুষ। মঞ্জু সাহেব ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ইত্তেফাকের সাথে আওয়ামী লীগের একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। তারা তো আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কিছু লিখবে না। এ সময় তিনি অনুষ্ঠানে ইত্তেফাকের লন্ডন প্রতিনিধি উপস্থিত আছেন কী না জানতে চান। ইত্তেফাকের প্রতিনিধি হাত তুলে তার উপস্থিতি জানান দেন। তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি, এটাই সত্যি, এটাই ইতিহাস। তিনি ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কারো পাঠানো ঘোষণা নয় বরং নিজের হাতে ঘোষণা ড্রাফট করলেন এবং সেটা জাতির সামনে পড়লেন, বিশ্বের সামনে পড়লেন যে ২৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। শহীদ জিয়া তার ভরাট কণ্ঠের মাধ্যমে, ইথারের মাধ্যমে সবাইকে জানালেন। তিনি আরো বলেন, এই ঘোষণা দেয়া উচিত ছিল সে সময়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের। কিন্তু তারা তা দিতে ব্যর্থ হন। এর পাশাপাশি ৭ কোটি মানুষের মনের ভাষাও বঝতে তারা ব্যর্থ হয়েছিলেন। সভায় নেতাকর্মীদের স্লৌগানে বিরক্তি প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, স্লৌগান বাদ দিয়ে মন দিয়ে শুনুন কী বলি। শহীদ জিয়ার দল করেন কাজে লাগবে। তিনি বলেন, বর্তমান পৃথিবীতে শুধু জোরে বক্তৃতা-তর্ক করলে হয় না। প্রয়োজন প্রমাণ এবং যুক্তির। ইতিহাসের এসব সত্য দেশবাসী ও তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান। তারেক রহমান বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে ২০১৪ পর্যন্ত প্রতিটি সরকারই ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পালন করেছে। শেখ মুজিব নিজেও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পালন করতেন। তার মানে ৭ মার্চ ভাষণে স্বাধীনতা ঘোষণা হয়েছে এটা শেখ মুজিব নিজেই মনে করতেন না।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমান স্বাধীনতার ইতিহাস সম্বলিত একটি ওয়েব সাইটেরও উদ্বোধন করেন। যার ওয়েব ঠিকানা-www.ghoshona26march.com