Share |

সিলেটে আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা : গ্রহণযোগ্যরাই পাবেন দলের মনোনয়ন - ওবায়দুল কাদের

সিলেট, ২২ অক্টোবর : সিলেটে আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শনিবার সকালে সিলেট রেজিস্ট্রারি মাঠে বৃষ্টির মধ্যেই তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তবে পুরো অনুষ্ঠান ছিল বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা দলে দলে মঞ্চে ওঠতে থাকেন। তাদের নিজ নিজ গ্রুপের নেতাদের নিয়ে সৌাগানের কারণে মঞ্চের অতিথিদের বক্তব্য শোনা যাচ্ছিল না। প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে এসে ওবায়দুল কাদের নিজেও বারবার সৌাগান ও হট্টগোল থামানোর অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে বক্তব্যে পদ্মা সেতু নির্মাণের সাফল্যের কথা এলে মঞ্চের পাশে ভিড় করতে থাকা নেতাকর্মীরা ওবায়দুল কাদেরের নামে সৌাগান শুরু করেন। সেতুমন্ত্রী তাদের ধমক দিয়ে বলেন, চামচামি করবেন না। এমন চামচামি অনেক দেখেছি। সৌাগান না থামালে এখান থেকে বের করে দেব। আমাদের নেতা একজন- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, আমি কাজ করছি। তিনি মঞ্চে ওঠেপড়া নেতাদের ইঙ্গিত করে বলেন, এখন দেখা যাচ্ছে কর্মীর চেয়ে নেতা বেশি। দুঃসময় এলে তাদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগের টার্গেট হচ্ছে- নতুন ভোটার। তবে কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা স্বাধীনতাবিরোধী আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না। দেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক হচ্ছে নারী, তাই সদস্য সংগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ টার্গেট হচ্ছেন নারীরা। এ ছাড়া দ্বিতীয় টার্গেট হচ্ছেন নতুন ভোটাররা। নতুন ভোটার ও নারী ভোটারদের দলের সদস্য করতে হবে। অফিসে বসে সদস্য ফরম পূরণ বা কাউকে সদস্য করা যাবে না। ঘরে ঘরে, গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষকে আওয়ামী লীগের সদস্য করতে হবে।  ওবায়দুল কাদের বলেন ‘জনগণের কাছে যিনি অধিকতর গ্রহণযোগ্য তিনিই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন। সিলেট মহানগরের মানুষের কাছে যিনি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য তাঁকে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে।
সংসদ নির্বাচনেও আমরা একইভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দেব। ’  
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের নেত্রী দেশে ফিরেই রাস্তা দখল করে মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে। আমাদের নেত্রীকেও সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জনদুর্ভোগ হয়নি। খালেদা জিয়ার সংবর্ধনায় যত মানুষ হয়েছিল শেখ হাসিনার সময় তার চেয়ে মহিলা নেতাকর্মীর সংখ্যাই বেশি ছিল। কিন্তু তারা ছিল সুশৃঙ্খল।
বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার রঙিন খোয়াব দেখছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের স্বপ্ন ফোলা ফানুশের মতো চুপসে যাবে। তিনি বলেন, সিইসির এক বক্তব্যে বিএনপি মহাখুশি। চিফ জাস্টিস নিয়েও তারা অনেক ইস্যু তৈরি করেছে। কিন্তু কিছুই সফল হয়নি। ফখরুল সাহেব বলেছিলেন- একশ বছরেও নাকি আমাদের ক্ষমতায় আসতে দেবেন না। লন্ডনে বসে বসে তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার নীলনকশা ইনশাল্লাহ বাংলাদেশে সফল হবে না। শেখ হাসিনা এখন সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা নারী নেত্রী।
মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর মানবিকতার কারণে আওয়ামী লীগের ভোট বেড়েছে। অন্যদিকে বিএনপির ভোটব্যাংক ভেঙে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে ছাত্রলীগের দুই কর্মী হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, কোনো সন্ত্রাসীর অপকর্মের দায়ভার আওয়ামী লীগ নেবে না। কাউকে রক্তাক্ত করার অধিকার কারো নেই। আমি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ঘটনায় যারা প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে আছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সিলেট-ঢাকা মহাসড়ককে চারলেনে উন্নীত করার ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রয়োজনে পদ্মা সেতুর মতো এ সড়ক নিজস্ব অর্থায়নে করা হবে। সিলেটের উন্নয়নের সঙ্গে দেশের উন্নয়ন সম্পর্কিত।
সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, আমরা আওয়ামী লীগ ও বিরোধীদের খোঁজ নিচ্ছি। সর্বাধিক জনপ্রিয় যিনি তিনি মনোনয়ন পাবেন।
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের সভাপতিত্বে ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক রফিকুর রহমান প্রমুখ।