Share |

‘অমরত্ব’ পেয়ে গেলেন জিদান?

ঢাকা, ৪ জুন : নিজের প্রজন্মের সেরা ফুটবলারই বলা হয় তাঁকে। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন। ২০০৬ সালে টাইব্রেকার-ভাগ্যে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় শিরোপাটা জিততে পারেননি। জিনেদিন জিদান ফুটবল-প্রতিভা, ক্রীড়াশৈলী বিবেচনায় খেলোয়াড় হিসেবে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসেছেন অনেক আগেই। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদের মতো দলের কোচের গুরুদায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার মাত্র ১৭ মাসের মধ্যেই যে তিনি কোচ হিসেবে ‘অমরত্বের’ তালিকায় নাম লেখাবেন, সেটি বোধ হয় ভাবতে পারেননি ফরাসি কিংবদন্তি নিজেও।              
                                                                                          ২০০২ সালে বেয়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে তাঁর গোলেই জিতেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ১৫ বছরের মাথায় কোচ হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিতে আরিগো সাচ্চির পর প্রথম কোচ হিসেবে টানা দুবার ইউরোপ-সেরা দলের কোচ জিদান। যে কৃতিত্ব স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন, হোসে মরিনহো কিংবা পেপ গার্দিওলাদের নেই, সেই কৃতিত্ব জিদান নিজের করে নিলেন রিয়ালের ‘বি’ টিমের সহকারী কোচের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করেই! ভাগ্যের বরপুত্র বোধ হয় জিদানদেরই বলে।
জিদান অবশ্য এত কিছু হাতে পেয়েও অসম্ভব বিনয়ী, ‘ফার্গুসন, মরিনহো, গার্দিওলা, যে কোচদের নাম নেওয়া হচ্ছে, তারা সকলেই দুর্দান্ত কোচ। আমি তাদের চেয়ে সেরা এটা বলার সাহস আমার নেই। আমি দুর্দান্ত একটা দল পেয়েছি। এটাই আমার সাফল্যের মূল।’ জিদানের অধীনেই এ মৌসুমে পাঁচ বছর পর লা লিগার শিরোপা জিতেছে রিয়াল। চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে ১৯৫৮ সালের পর প্রথমবারের মতো একই সঙ্গে লিগ ও ইউরোপ-সেরার আসনে রিয়াল। অনন্য এই সাফল্যের নেপথ্য কারিগর জিদানের সবচেয়ে বড় গুণ হলো কোচ হিসেবে গোটা দলের শ্রদ্ধা ও সম্মান আদায় করে নেওয়া। বিরতির সময় তাঁর ছোট্ট একটা ব্রিফিংই যে দলের চেহারা পাল্টে দিয়েছিল, সেটা জানিয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো নিজেই।
রোনালদোর গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর মারিও মানজুকিচের দুর্দান্ত এক গোলে চাপে পড়ে গিয়েছিল রিয়াল। ১-১ গোলে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধেই পুরো বদলে যাওয়া দল তারা। বিরতির সময় কী বলেছিলেন জিদান? সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের উত্তরে জিদান কেবল হাসেন, ‘তেমন কিছুই না। প্রথমার্ধে দল যা খেলেছে, সেটাই চালিয়ে যেতে বলেছিলাম। অবশ্য খেলাটা খেলতে বলেছিলাম দুই পাশে জায়গা করে নিয়ে। পাশাপাশি বলেছিলাম, বল পেলে খেলোয়াড়েরা যেন সেভাবেই খেলে, যেভাবে তারা খেলতে চায়, কিংবা খেলতে পারে।’
২০১৬ সালে কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ভালো করছিল না রিয়াল। জানুয়ারি মাসে হঠাৎ করেই রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ একটা জুয়া খেললেন। কোচের দায়িত্ব তুলে দিলেন ‘অনভিজ্ঞ’ জিদানের কাঁধে। সিদ্ধান্তটার সমালোচনা হয়েছে অনেক। সমালোচকেরা খুব সম্ভবত জিদানের খেলোয়াড়ি প্রজ্ঞা আর ক্লাবের প্রতি তাঁর ভালোবাসার ব্যাপারটা ভুলে গিয়েছিল। এর পরের ঘটনাবলি তো ইতিহাসই। সূত্র: এএফপি, রয়টার্স মেসিকে টপকে রোনালদোই সেরা  
ঢাকা, ৪ জুন : ম্যাচের আগেই জানা ছিল রোনালদোকে কী করতে হবে। লিওনেল মেসির পাশে বসতে হলে এক গোল করতে হবে। ছাড়াতে হলে দুই গোল। বড় উপলক্ষে জ্বলে ওঠা যাঁর অভ্যাস, সেই রোনালদো এমন উপলক্ষে তো চুপ থাকতে পারেন না! ঠিকই দুই গোল করে টপকে গেলেন মেসিকে। আরও একবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো।
অথচ কোয়ার্টার ফাইনালের আগেও এটা অসম্ভব মনে হচ্ছিল। একদিকে মেসির ১১ গোল হয়ে গেছে। আর রোনালদোর গোলসংখ্যা ২! অনেক দিন পর চ্যাম্পিয়নস লিগের গোল্ডেন বুট মেসি পাচ্ছেন বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্নের বিপক্ষে ৫ গোল ও সেমি ফাইনালে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে হঠাৎই খেলা জমিয়ে দিলেন রোনালদো। মেসি যে কোয়ার্টার ফাইনালেই জুভেন্টাসের কাছে থেমে গেছেন!আরও একবার নিজেকে জানান দিলেন রোনালদো। ছবি: গার্ডিয়ানআজ ফাইনালে ২০ মিনিটে প্রথম গোল করে প্রথমে মেসির পাশে বসলেন রোনালদো। আর ৬৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করে মেসিকে ছাড়িয়ে গেলেন। সে সঙ্গে রিয়ালের ডুউডেসিমাও (দ্বাদশ) নিশ্চিত করলেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের আগে ব্যালন ডি’ অর নিয়ে জিয়ানলুজি বুফন ও রোনালদোর মধ্যে যে দ্বৈরথের কথাবার্তা চলছিল, সেটাও ধামাচাপা পড়ে গেল সে সঙ্গে। লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়ে রিয়ালের ৫৯ বছরের দুঃখ যিনি ঘুচিয়ে দিয়েছেন, তিনিই তো ২০১৭ সালের সেরা খেলোয়াড়!