Share |

রাগীব আলী কারামুক্ত

সিলেট, ৩০ অক্টোবর : সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন শিল্পপতি রাগীব আলী। একই সঙ্গে মুক্তি পেয়েছেন তার  ছেলে আব্দুল হাইও। দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগের পর শনিবার দুপুর  সোয়া ১টার দিকে রাগীব আলী ও তার ছেলে মুক্তি পান। এ সময় কারাগারে রাগীব আলীর মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। মুক্তির পর রাগিব আলী কোনো মন্তব্য করেননি। আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রাপ্ত হয়ে ছেলেসহ ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন রাগিব আলী।
পরবর্তীতে গত বছরের ১২ নভেম্বর তিনি দেশে ফিরলে পুলিশ সুতারকান্দি সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে কারান্তরীণ ছিলেন রাগিব আলী ও তার ছেলে। বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভের পর এর কাগজপত্র সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে এসে পৌঁছলে রাগিব আলীকে শনিবার মুক্তি দেয়া হয়।
মুক্তির পর রাগিব আলী তার মালনীছড়াস্থ বাংলোয় গিয়ে উঠেন। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল জলিল গণমাধ্যমের কাছে রাগিব আলীর মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জামিনপ্রাপ্ত হওয়ার পর তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ থেকে তারাপুর চা বাগানের ভূমি বন্দোবস্তের নামে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি মামলায় জামিন পান রাগিব আলী ও তার ছেলে। এছাড়া, প্রতারণা করে তারাপুর চা বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং প্রতারণা করে দৈনিক সিলেটের ডাক প্রকাশনা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন তারা দু’জন। ১৯৯৯ সালের ২৫শে আগস্ট ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত তৎকালীন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা-বাগান অবৈধ দখল, বিধি-বহির্ভূতভাবে স্থাপনা নির্মাণের প্রমাণ পায়। পরবর্তীতে সংসদীয় উপ-কমিটি চা-বাগানে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে। এই সুপারিশের প্রেক্ষিতেই ২০০৫ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর সিলেট সদর উপজেলার তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম আবদুল হাই বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানায় দুটো মামলা করেন। পরে মামলা দুটির কার্যক্রম স্থগিত করেন উচ্চ আদালত। ২০১৬ সালে ১৯শে জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তারাপুর চা-বাগান পুনরুদ্ধারের রায়  দেন। রায়ে ওই মামলা দুটি সক্রিয় করার নির্দেশনাও দেয়া হয়। উচ্চ আদালতের এ নির্দেশনার বিষয়ে গত ১৬ই মার্চ মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতকে অবহিত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিল মাসে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলা দুটির তদন্ত শুরু করে পিবিআই। গত বছরের ১০ই জুলাই তারাপুর চা বাগান লিজের  ক্ষেত্রে স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলাটির চার্জশিট দাখিল করে পিবিআই। চার্জশিটে অভিযুক্ত করা হয় রাগিব আলী ও তার পুত্র আবদুল হাইকে। কারান্তরীণ অবস্থায় ২রা ফেব্রুয়ারি স্মারক জালিয়াতি মামলায় রাগিব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাইর বিভিন্ন মেয়াদে ১৪ বছরের কারাদণ্ড হয়। ৬ই এপ্রিল প্রতারণা করে তারাপুর চা বাগানের ভূমি আত্মসাতের মামলায় রাগিব আলী ও তার পরিবারের ৫ সদস্যের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়। এ ছাড়া, পলাতক থেকে দৈনিক সিলেটের ডাক-প্রকাশের অভিযোগে ছেলেসহ রাগিব আলীর আরো এক বছরের কারাদণ্ড হয়।