Share |

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যৌন নিপীড়ন : মন্ত্রীর পদত্যাগই যথেষ্ট নয়

গণতন্ত্রের সূতিকাগার, মাদার অফ পার্লামেন্টস- এমনসব নানা ঐতিহ্যের অলঙ্কারকে মলিন করে দিয়েছে ব্রিটিশ এমপি-মন্ত্রীদের যৌন কেলেঙ্কারীর নানা কাহিনী। গত সপ্তাহে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের নির্ভরযোগ্য সহকর্মী ডিফেন্স সেক্রেটারি মাইকেল ফ্যালান। ফাঁস হওয়া এই কেলেঙ্কারীর ঘটনার জের ধরে বরখাস্ত করা হয়েছে লেবারের এমপি জারেড ওমারাকে।  
যৌন কেলেঙ্কারীর ঘটনা ফাঁস হলে একের পর এক বেরিয়ে আসা কাহিনীগুলো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে ওয়েস্টমিনস্টারে। নিজের সেক্রেটারির সাথে যৌন হয়রানীমূলক আচরণের জন্য ইন্টারন্যাশনাল ট্রেইড মিনিস্টার মার্ক গ্রেনিয়ের এখন তদন্তের মুখে পড়েছেন। সরকারের প্রভাবশালী কেবিনেট সদস্য ডেনিমেন গ্রীনের অফিসের কম্পিউটারে পর্নো পাওয়ার অভিযোগ এনেছে পুলিশ।  
যৌন হয়রানীর ঘটনাগুলোর বিবরণ থেকে জনগণ এখন জানতে পারছেন কী সংস্কৃতি বিরাজ করে ওয়েস্টমিনস্টার পার্লামেন্টে। বছরের পর বছর ধরে এসব নির্যাতন সয়ে এসেছেন হয়রানীর শিকার এমপি-মন্ত্রীর নারীকর্মীরা। ঘটনার শিকারদের বর্ণনায় জানা যাচ্ছে, শুধু পার্লামেন্ট ভবনেই নয়, পার্টির কনফারেন্সেও চূড়ান্ত হয়রানীর মুখে পড়েছেন দলের নারীকর্মীরা। কিন্তু অনেকেই তাদের কেরিয়ার ঝুঁকির মুখে পড়বে ভেবে ঘটনা অনেক সময় চেপে গেছেন। কখনো কখনো নির্যাতনের শিকারদের মুখ বন্ধ রাখতে এমপির অন্য স্টাফরা ভয়-হুমকিও দিয়েছেন।
  কিন্তু কোন অপরাধই সব সময়ের জন্য চাপা থাকে না। সেই বাণীকে সত্য করেই রথী-মহারথীদের কুকর্ম বেরিয়ে আসছে। আর সেই সাথে কথা উঠেছে ব্রিটেনের রাজনৈতিক দলগুলোর ভণ্ডামী নিয়েও। যৌন হয়রানীর অভিযোগের তুফান সামলাতে ব্যস্ত দলের দায়িত্বশীলরা এখন বলেছেন, তাদের নিজ নিজ দল এ ধরনের অভিযোগ খুবই গুরুত্বের সাথে নিয়ে থাকে। যৌন হয়রানী বা নিপীড়নমূলক কোন আচরণ দলে সহ্য করা হয় না। অথচ একাধিক অভিযোগকারী দাবী করছেন, তারা দলের শীর্ষ পর্যায়ে যৌন নিপীড়নের এমনকি ধর্ষণের শিকার হয়ে অভিযোগ দায়ের করার পরও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এটি সত্যি হলে ‘আমরা যৌন হয়রানীর সব অভিযোগ খুবই গুরুত্বের সাথে নিয়ে থাকি’- এই দাবী স্রেফ ভণ্ডামীতে পরিণত হয়।  
যৌন নির্যাতনের শিকার যেসব নারী অনেক দেরীতে হলেও সাহস করে নিজের নিয়োগদাতা কিংবা প্রভাবশালী এমপি-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন তাদেরকে সাধুবাদ জানাতেই হয়। এর মধ্যদিয়েই হয়তো পার্লামেন্টে নারীদের উপর যৌন নির্যাতনের কু-সংস্কৃতি বন্ধের পথ তৈরি হবে।  আমরা মনে করি, শুধু মন্ত্রীর পদত্যাগই যথেষ্ট নয়। তাহলে পদত্যাগ করে রেহাই পাওয়ার সংস্কৃতিকেই আশকারা দেওয়া হবে। ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা অভিযুক্তদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি এসব অভিযোগ এতোদিন চাপা দিয়ে রাখতে যারা সহায়তা করেছেন তাদের আচরণও বিচারের আওতায় আনতে হবে। কারণ, যৌন নিপীড়ক আর তার সহায়তাকারী উভয়েই সমান দোষে দুষ্ট।