Share |

বিদেশে থেকে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ : এ দৃষ্টান্ত নজিরবিহীন

নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি অবশেষে পদত্যাগ করেছেন। অবসরে যাওয়ার মাত্র আড়াই মাস আগে তার এই পদত্যাগ বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার ঘোলাটে পরিস্থিতি নতুন করে দুনিয়ার সামনে স্পষ্ট করে তুলেছে। বর্তমান সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বাংলাদেশের সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে শাসককূলের রোষানলে মুখে পড়েন। বিগত কয়েকমাসে তার বিরুদ্ধে শাসকদলের দায়িত্বশীল থেকে শুরু করে দল ও সরকারের সমর্থকদের দ্বারা দেশটির প্রধান বিচারপতি যে পরিমাণ এবং যে মাত্রায় আক্রমণের শিকার হয়েছেন তা নজিরবিহীন।  প্রধান বিচারপতিকে শুধু পদত্যাগ নয়, দেশ ত্যাগও করতে হবে- সরকার সমর্থকদের মুখ থেকে এ ধরনের কথাও শোনা গেছে।  
স্বাধীন বাংলাদেশের একুশতম প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে যে রাজনৈতিক খেলা হয়ে গেলো তা দেশটির ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য কি দৃষ্টান্ত তৈরী করলো সেটি সময়ই বলবে। কিন্তু তাকে নিয়ে সস্তা রাজনৈতিক তৎপরতা হয়েছে তা বিচারবিভাগের স্বাধীনতার আসলেই কতটুকু সেই প্রশ্নটি সামনে নিয়ে এসেছে।  প্রধান বিচারপতির বিদেশগমন নিয়েও নানা নাটকের অবতারণা হয়েছে। দেশ থেকে বিদায়ের আগে তিনি বিচার বিভাগকে কলুষমুক্ত রাখতে সরে দাঁড়াচ্ছেন বলে জানিয়েছিলেন। গত মাসে তিনি বিদেশে গেলেও তাঁর স্ত্রী সঙ্গী হননি। কয়েকদিন পর তিনি স্বামীর পথ অনুসরণ করেছেন। এরই মধ্যে তাঁর অধীনস্থ বিচারপতিরা প্রধান বিচারপতির সাথে কাজ করবেন না জানিয়ে দেন। এর আগে তার ছুটি ও সুস্থতা নিয়েও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত ও সন্দেহজনক করে তোলে।  
ক্ষমতাসীনরা যাই বলুন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে নিয়ে বাংলাদেশে যে জল ঘোলা হয়েছে তাতে জনমনে সৃষ্ট সন্দেহ আর অবিশ্বাস সহজে দূর হবে না। পাশাপাশি এই ঘটনার মধ্যদিয়ে যে নজীর তৈরী হয়েছে তাতে এই সাংবিধানিক পদটি নিয়ে আগামীর সরকারও টানাহেচড়া করতে সাহস পাবে। সুরেন্দ্র কুমার সিনহা স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির মধ্যে প্রথম যিনি পদত্যাগ করলেন। আর তা-ও বিদেশে থেকে। অস্ট্রেলিয়া থেকে সিঙ্গাপুর গিয়ে বাংলাদেশ মিশনে প্রধান বিচারপতি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। গত শুক্রবার নির্ধারিত ছুটি শেষ হবার সাথে সাথেই তাড়াহুড়া করে বিদেশ বসে তাঁর পদত্যাগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দেবে সন্দেহ নেই। সেই আলোচনাও হয়তো এক সময় থামবে। কিন্তু এর মধ্যদিয়ে যে নজীর সৃষ্টি হলো তা বাংলাদেশকে ভোগাবে তাতে সন্দেহ নেই।