Share |

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল নির্বাচন : নতুন মুখ, নতুন প্রত্যাশা

গত দুই সপ্তাহেরও বেশী সময় ধরে চলা মনোনয়ন প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে আসছে মে’র নির্বাচনের জন্য টাওয়ার হ্যামলেটসের লেবার পার্টি তাদের প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে।  
এই বারায় দীর্ঘদিন পরে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির মনোনয়ন সম্পন্ন হয়েছে তৃণমূল সদস্যদের সরাসরি গোপন ব্যালটের মাধ্যমে। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলেই লেবার পার্টি কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রার্থী চাপিয়ে দেয়- এমন অভিযোগ বহু পুরানো। আর এই কারণে স্থানীয় কমিউনিটিতে জনপ্রিয় এবং সক্রিয় কর্মী হওয়া সত্ত্বেও অনেক যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন পেতেন না সেই অভিযোগও নতুন নয়। আর এসব নিয়ে ক্ষোভ ছিলো বরাবরই।  
ঐতিহ্যগতভাবে এই বারা লেবার পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু নির্বাচনের সময় এলেই মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বঞ্চিতদের ক্ষোভ নানা সময়ে প্রকাশ্য হয়েছে। মনোনয়ন তালিকা ঘোষণার অনুষ্ঠানে হাতাহাতির উপক্রম পর্যন্ত হয়েছে - এমন বিব্রতকর ঘটনার নজীরও আছে এই দলের।  দৃশ্যত: এবার মনোনয়ন প্রক্রিয়া কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। ফলে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ইশারায় শর্টলিস্টে যে কাটাকুটি হবে সেই সুযোগও ছিলো না। প্রতিটি ওয়ার্ডের দলের তৃণমূল কর্মীরাই যাকে যোগ্য মনে করেছেন তাকেই তাদের প্রার্থী হিসেবে তারা বাছাই করেছেন। সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য এটি অত্যাবশ্যকীয়।  
লেবার পার্টির কেন্দ্র থেকে এবার যে নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া হয়েছে তা সাধুবাদ পাবার যোগ্য। কারণ এতে দৃশ্যমান অন্তত দুটি ইতিবাচক ফল এসেছে। প্রথমত, প্রার্থীতা লাভে ব্যর্থদের কথা বাদ দিলে স্থানীয় লেবার পার্টির সদস্যদের মধ্যে এবার একটি চাঙ্গাভাব ছিলো। দীর্ঘদিন পর গোপন ব্যালটে প্রার্থী বাছাইয়ের অধিকার ফিরে পাবার কারণেই তাদের মধ্যে এ নিয়ে এক ধরনের উদ্দীপনা কাজ করেছে বলে মনে হয়েছে। আমরা মনে করি, কোন চাপের মুখে কিংবা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে না থাকায় ব্যাপকসংখ্যক নতুন মুখ প্রার্থী হিসেবে বাছাই করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। এই নতুন মুখের মধ্যে মাত্র দুই-তিন জন ছাড়া বাকীরা একেবারেই নতুন। একই কারণে দীর্ঘদিন ধরে থাকা কোন কোন কাউন্সিলার এবং সাবেক কাউন্সিলারকেও এবার দলের সাধারণ সদস্যরা প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেননি। দ্বিতীয়ত, এই চর্চার মধ্যদিয়ে লেবার পার্টি দলের ভেতরে থাকা অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রশমিত করেছে। যারাই মনোনীত হয়েছেন তাদেরকে সমর্থন লাভের জন্য দলের সাধারণ সদস্যদের কাছে সরাসরি যেতে হয়েছে। আর বেশীরভাগ সদস্যের সমর্থন যিনি পেয়েছেন তিনিই মনোনীত হয়েছেন। অর্থাৎ দলের কর্মীদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে এবারের মনোনয়নে। এই সুস্থ প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে দলে মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার কাজও হয়েছে। এটি আসছে নির্বাচনে লেবার পার্টির জন্য ইতিবাচক ফলাফল নিয়ে আসতে সহায়ক হবে বলে আমরা মনে করি। কারণ বেশিরভাগ সদস্যের ব্যালটে যিনি মনোনীত হলেন তাকে নির্বাচনে জয়ী করতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোর বেশীরভাগ লেবার কর্মীই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলে আশা করা যায়।  
মনোনীত সকল প্রার্থীকে আমাদের অভিনন্দন। নির্বাচনে জয়ী হবার পথে তারা প্রথম ধাপ অতিক্রম করেছেন। আর যারা নতুন প্রার্থী হয়েছেন তাদেরকে জনসেবার এই পথের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য বিশেষ অভিনন্দন।  
এই কাউন্সিলে দীর্ঘদিন ধরে থাকা কাউন্সিলারদের সেবার নমুনা আমরা দেখেছি, দেখে আসছি। তাই নতুন প্রার্থীদের প্রতি এলাকাবাসীর নতুন প্রত্যাশা রয়েছে। একই সাথে আমরা চাইবো ভোটের খেয়া পার হয়ে যাবার পর তারা কার জন্য, কিসের জন্য এবং?বিশেষকরে কাদের সমর্থন নিয়ে?ক্ষমতায়?গেছেন তা ভুলে যাবেন না।