Share |

নাছোড় বান্দা মুগাবে

লন্ডন, ২০ নভেম্বর : জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে বলেছেন, এখনই তিনি পদত্যাগ করছেন না। রোববার (২০ নভেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। তবে এর আগে ওই ভাষণে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন বলে গুঞ্জন ওঠে। ভাষণে মুগাবে বলেন, আগামী ডিসেম্বর মাসে ক্ষমতাসীন দল জানু-পিএফের সম্মেলনের আগ পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে রোববারই মুগাবের দল জরুরি বৈঠক করে দলীয় প্রধানের পদ থেকে তাঁকে বহিষ্কার করে। তাঁর জায়গায় বসানোর সিদ্ধান্ত হয় সদ্য বহিষ্কৃত ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়াকে। এই বৈঠক থেকে পদত্যাগের জন্য মুগাবেকে পরদিন সোমবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে তাঁকে অভিশংসন করা হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছিল দলটি। মুগাবের স্ত্রী গ্রেস মুগাবেকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এরপর জিম্বাবুয়ের সেনাপ্রধান কনস্টানতিনো চিয়েঙ্গাসহ সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে বৈঠক করেন মুগাবে। বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো না হলেও এরপরই রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে সরাসরি জাতির উদ্দেশে মুগাবের ভাষণ দেওয়ার ঘোষণা আসে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মুগাবে পদত্যাগে রাজি হয়েছেন। জিম্বাবুয়ের সেনাবাহিনী মুগাবের পদত্যাগের ঘোষণাসংবলিত বিবৃতি তৈরি করছিল বৈঠকের পর। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, দল থেকে অভিশংসনের হুঁশিয়ারি আসার পর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন মুগাবে।
রাজধানী হারারের রাস্তায় রোববারও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ছিল। তাদের সমর্থনে রাস্তায় ছিল জনগণও। ক্ষমতা ছাড়ার জন্য নিজ দল, বিরোধী দল ও দেশের প্রবীণ স্বাধীনতাযোদ্ধারা বারবার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছিলেন মুগাবের প্রতি।
৩৭ বছর ধরে জিম্বাবুয়ের ক্ষমতায় থাকা মুগাবে দুই সপ্তাহ আগে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি ভাইস প্রেসিডেন্ট নানগাগওয়াকে বরখাস্ত করায় এই রাজনৈতিক সংকটের সূচনা। একপর্যায়ে ট্যাংক নিয়ে রাস্তায় নামে সেনাবাহিনী। তবে তারা দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের নায়ক মুগাবেকে সরাসরি উৎখাত করেনি।
ভাইস প্রেসিডেন্ট নানগাগওয়াকে বরখাস্ত করে প্রেসিডেন্ট মুগাবে তাঁর চেয়ে প্রায় ৪০ বছরের ছোট স্ত্রী গ্রেসকে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা করেন বলে ধারণা জোরালো হয়। রোববারই নানগাগওয়াকে আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলের প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হয়। আগের দিন শনিবার জানু-পিএফ দলের ১০টি শাখার মধ্যে ৯টিই মুগাবের পদত্যাগের দাবি জানায়। তাদের দাবি বাস্তবায়নে রোববার কেন্দ্রীয় কমিটি বৈঠকে বসে। মুগাবেকে ‘বিদায়ী প্রেসিডেন্ট’ আখ্যা দিয়ে বৈঠকে দলের সদস্য ওবার্ট এমপফু বলেন, ‘আমরা অনেক আশা নিয়ে এখানে মিলিত হয়েছি।’
জানু-পিএফ দলের এক সদস্য নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, প্রেসিডেন্ট মুগাবেকে দল থেকে অপসারণ ও নানগাগওয়াকে দলীয় প্রেসিডেন্ট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিবিসির সংবাদদাতা অ্যান্ড্রু হারডিং একটি ভিডিও টুইট করেছেন। এতে মুগাবেকে দল থেকে সরানোর সিদ্ধান্তের পর দলের সদস্যদের নাচতে দেখা গেছে। এর আগে প্রভাবশালী জানু-পিএফ ইয়ুথ লিগও বলেছে, মুগাবের পদত্যাগ করা উচিত এবং তাঁর স্ত্রী গ্রেসকে দল থেকে বহিষ্কার করা উচিত।