Share |

ফ্লাইট বাতিল : যাত্রীকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিল বিমান

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ২০ নভেম্বর : শেষ পর্যন্ত ব্রিটেনের আদালতের রায়ে যাত্রীকে বিলম্ব ক্ষতিপূরণ দিল বিমান। ব্রিটেন প্রবাসী শাহ মো. সানোয়ারের পরিবারের ৯ সদস্যের যাত্রা বিলম্বের মাশুল এবং আদালতের খরচসহ মোট চার হাজার ৬০১ পাউন্ডের (পাঁচ লাখ টাকার বেশি) চেক দিয়েছে বাংলাদেশ বিমান।  ঘটনা ২০১২ সালের। কিন্তু শাহ মো. সানোয়ারের ক্ষতিপূরণ দাবিকে শুরুতে পাত্তা দেয়নি বিমান কর্তৃপক্ষ। কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর যুক্তরাজ্যের লিভারপুল কাউন্টি কোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ অক্টোবর ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান করে বিমান। সানোয়ার বলেন প্রায় এক মাস আগে চেক পেলেও ওই চেক ব্যাংকে জমা দিয়ে ক্যাশ করার পর তিনি বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।    
শাহ মো. সানোয়ার পত্রিকাকে বলেন, যাত্রীসেবার মান নিয়ে বিমানের জবাবদিহিতার বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করতেই তিনি এ ক্ষতিপূরণ আদায় করে ছেড়েছেন। তিনি বলেন, এখানে ক্ষতিপূরণের অর্থ বড় বিষয় নয়; কিন্তু যাত্রীদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত না করলে যে পরিণতি ভোগ করতে হয় সেটাই দেখাতে চেয়েছেন তিনি।
সানোয়ার বলেন, তাঁর মা ও শিশুসহ পরিবারের ১০ সদস্য ২০১২ সালের ২৩ ডিসেম্বর লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে বাংলাদেশে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ফ্লাইটটি বাতিল করে পরদিন সময় দেয়। এতে তাদের মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। যে কারণে দেশ থেকে ফিরে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।  
শুরুতে বিমান তাঁর দাবিকে পাত্তা দেয়নি। যে কারণে ব্রিটেনের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ইউকে সিভিল এভিয়েশন) কাছে অভিযোগটি পাঠান। তারা অভিযোগটি সূরাহার জন্য আদালতে পাঠিয়ে দেয়। ইতিমধ্যে তাঁর মা মারা গেছেন। ফলে আদালত বাকী ৯ জনের ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দেয়।   
সানোয়ার জানান, পরবর্তীতে এক চিঠিতে বিমান কর্তৃপক্ষ তাদের পরবর্তী যে কোনো সফরের ক্ষেত্রে ইকোনোমি ক্লাসের টিকিটকে বিজনেস ক্লাসে আপগ্রেড করে দেয়ার প্রচ্চাব করে। কিন্তু তিনি আদালতেই সূরাহা চেয়েছেন।
২০০৪ সালে প্রণীত ইউরোপিয় ইউনিয়নের (ইইউ) আইন অনুযায়ী, গন্তব্যে পৌঁছাতে ৩ ঘন্টার বেশি বিলম্ব হলে যাত্রীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যাত্রীপ্রতি এ ক্ষতিপূরণের পরিমান সর্বোচ্চ ৬শ ইউরো বা ৫৩২ পাউন্ড। ইইউভুক্ত দেশগুলো থেকে ছেড়ে যায় বা এসব দেশে অবতরণ করে এমন সব এলারলাইন্সের ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য। ঘটনা ৬ বছরের মধ্যে এ ক্ষতিপূরণ দাবি করা যায়।  
যোগাযোগ করা হলে ব্রিটেনে নিযুক্ত বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনাটি বেশ পুরেনো। এখন বিমানের এমন বিলম্বের ঘটনা নেই। তিনি বলেন, ওই যাত্রী আরও অনেক বেশি অর্থ ক্ষতিপূরণ চেয়েছিলেন। যাত্রী আদালতে গিয়েছেন বলে এর মীমাংসায় এত দেরি হয়েছে।
তবে তিনি বলেন, যাত্রী ক্ষতিপূরণ না চাইলে তারা নিজ থেকে বিলম্বের কারণে ক্ষতিপূরণ দেন না।