Share |

ব্যবসা গুটিয়েছে এয়ার এক্সপ্রেসতথ্য দিতে নারাজ বিমান

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ২০ নভেম্বর : এয়ার টিকিট বিক্রি ও ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস সেবাপ্রদানকারী বাংলাদেশি মালিকানাধীন এয়ার এক্সপ্রেস অ্যান্ড ট্যুরস হঠাৎ করেই ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে এয়ারলাইন্সগুলোর পাওনা কিংবা এয়ার এক্সপ্রেস বাজারে কত পাবে তার হিসাব জানা যায়নি। গত বেশ কয়েকদিন ধরে ওয়াইটচ্যাপেল অবস্থিত এয়ার এক্সপ্রেসের অফিসটি তালাবদ্ধ দেখা যাচ্ছে। এডমিনিস্ট্র্রেটরের নোটিশ ঝুুলছে এয়ার এক্সপ্রেসের দরজায়। নোটিশে লেখা স্মিথ অ্যান্ড উইলিয়ামসন এলএলপির ফিনবার ও কোনেল এবং কোলিন হার্ডম্যানকে গত ২ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটির ইন্টেরিম ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এরপর ৬ নভেম্বর তাদের যৌথ এডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে নিয়োগ করা হয়। 
তবে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশ বিমানের ম্যানেজার শফিকুল ইসলামের আচরণ বেশ কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ বিমান বাংলাদেশের জনগণের করের অর্থে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান। ফলে এয়ার এক্সপ্রেস দেউলিয়া হওয়ার কারণে বিমান কি পরিমাণ আর্থিক শিকার হলো এবং এয়ার এক্সপ্রেসের কাছে কি পরিমাণ অর্থ পাওনা ছিল, তা জানা জাতীয় স্বার্থের ব্যাপার। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হলেও সত্য যে, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশ বিমানের ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনো কথা বলতেই চাইলেন না। 
২০ নভেম্বর সোমবার পত্রিকার পক্ষ থেকে বিষয়টি জানার জন্য শফিকুল ইসলামের মোবাইলে ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি এয়ারএক্সপ্রেস সংক্রান্ত কোনো কথাই বলতে চাননি। তিনি বিমানের ঢাকা অফিসের এক মুখপাত্রের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। কিন্তু লন্ডনে ব্যবসা পরিচালনাকারী বিমানের লন্ডনের ঘটনা নিয়ে লন্ডনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকতা কথা বলতে নারাজ কেন সেটিই এক বিরাট প্রশ্ন।
এয়ার এক্সপ্রেস বিমানের অন্যতম বড় একটি সেলস এজেন্ট। বিশেষ করে বিমানের টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে থাকার কারণে এয়ার এক্সপ্রেসকে বিশেষ পুরষ্কারও দেয় বিমান। এয়ারলাইন্স ব্যবসার রীতি অনুযায়ী এজেন্টগুলো এয়ারলাইন্স থেকে ক্রেডিট সুবিধা পেয়ে থাকে। এজেন্ট যত বড় ক্রেডিট সুবিধাও তত বেশি হয়। 
কিন্তু বিমানের পক্ষ থেকে এয়ার এক্সপ্রেসের জন্য ক্রেডিট সুবিধার পরিমাণ কত ছিল-এমন প্রশ্নের জবাব দেননি শফিকুল ইসলাম। বলেন, প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী এক এক এজেন্ট এক এক ধরণের সুবিধা পেয়ে থাকে। ওই সুবিধার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন পরিসর সম্পর্কে ধারণা দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ধারণাও দিতে নারাজ শফিকুর রহমান। তবে তিনি জানান, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বিমানের ১৯টি সেলস এজেন্ট রয়েছে। তবে অন্যান্য ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সাথে কথা বলে জানা যায়, কোনো কোনো ট্রাভেল এজেন্টের ক্ষেত্রে ক্রেডিট সুবিধার কোনো সীমা নির্ধারিত নেই। নিয়ম অনুযায়ী, ১৫ দিন পর পর টিকিট বিক্রির অর্থ এয়ারলাইন্সগুলোকে পৌছে দিতে হয়।  অর্থ্যাৎ ১ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে যেসব টিকিট বিক্রি হয়, সেগুলোর অর্থ সংশ্লিষ্ট মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে প্রদান করতে হয়। 
 উল্লেখ্য, বছর দুয়েক আগে এয়ার এক্সপ্রেস দাবি করে যে, তাদের বার্ষিক টার্নওভার ৪০ থেকে ৪২ মিলিয়ন পাউন্ড। ওই দাবিকে হিসাবে ধরলে হঠাৎ করে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ায় এয়ার এক্সপ্রেসের কাছে এয়ারলাইন্সগুলোর বড় ধরণের আটকা পড়তে পারে।  বিমান ছাড়াও এয়ার এক্সপ্রেস মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জনপ্রিয় কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরাটস এয়ারলাইন্স, ইত্তেহাদ এবং টার্কিশ এয়ারওয়েজসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের এজেন্ট ছিল। এয়ার এক্সপ্রেসের মত উদীয়মান একটি প্রতিষ্ঠান হঠাৎ করে বন্ধ হওয়ার কারণে বাংলাদেশি মালিকানাধীন অন্যান্য ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর নির্ভরযোগ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এই কারণে এয়ারলাইন্সগুলোর সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠিন হবে।   
এ ব্যাপারে এয়ার এক্সপ্রেসের বক্তব্য জানতে সর্বশেষ সোমবার পর্যন্ত তিন দিনে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, বাঙালি কমিউনিটির গ্রাহকদের সেবাদানের মধ্যদিয়েই এয়ার এক্সপ্রেসের ব্যবসা শুরু। কিন্তু পরিচালনার কৌশল ও নতুন নতুন উদ্যোগের জন্য অল্পদিনেই একটি শক্ত অবস্থান তৈরী করতে সমর্থ হয় এয়ার এক্সপ্রেস। এজন্য এয়ার এক্সপ্রেসকে মূলধারার ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও ভাবা হতো। কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানটিই এখন তালাবদ্ধ। কী কারণে ক্রমশ বিকাশমান এই প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থ হয়ে গেলো সেই প্রশ্নটি ঘুরে ফিরছে কমিউনিটিতে।