Share |

বাঙালি তরুণী সেলিনার ইটন-জয় : এই সাফল্য অনুপ্রেরণার আরেক উৎস

ব্রিটেনের শীর্ষ অভিজাত প্রাইভেট স্কুল ইটন কলেজ আয়োজিত একক বিতর্কে বাঙালি তরুণী সেলিনার শীর্ষ স্থান দখলের খবর বাঙালি কমিউনিটিতে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। সেলিনাই প্রথম কোন স্টেইট স্কুলের শিক্ষার্থী যে সারা ব্রিটেনের অভিজাত সব স্কুল থেকে আসা ২০০শর বেশী প্রতিযোগীকে হারিয়ে দিয়ে শীর্ষ পুরষ্কারটি জিতে নিয়েছে। এই সাফল্যের মধ্যদিয়ে সুবিধাবঞ্চিত পূর্ব লন্ডনের বাসিন্দা এক ইমিগ্রেন্ট পরিবারের তরুণী সেলিনা প্রমাণ করেছে- নিষ্ঠা ও একাগ্রতা থাকলে সম্ভাবনার দরজা খুলে ফেলা মোটেও অসম্ভব নয়।
 শত শত শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে নিউহাম কলেজিয়েট সিক্সথ ফরমের শিক্ষার্থী সেলিনার বিতর্ক জয়ে ব্রিটেনের মূলধারার মিডিয়াতেই রীতিমতো হইচই পড়েছে। গত ১১ নভেম্বর ইটন কলেজে আয়োজিত এই একক বিতর্কে বিজয়ের পর ডানপন্থী এবং ইমিগ্রেন্ট-বিরোধী পত্রিকা হিসেবে পরিচিত ডেইলি মেইলও ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করেছে। সেলিনার দীর্ঘ ইন্টারভিউ ছাপাচ্ছে। এ থেকে প্রতীয়মান হয়, সেলিনা আসলেই রীতিমতো অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছে। 
ব্রিটেনে বাংলাদেশী কমিউনিটির পেছনে পড়ে থাকার নানা বাস্তবতাকে অতিক্রম করে আমাদের নতুন প্রজন্মের অগ্রযাত্রায় নতুন পালক যোগ হলো সেলিনার এই জয়ের মধ্যদিয়ে। আমাদের সন্তানরা পড়ালেখায় প্রতিবছর শিক্ষাক্ষেত্রে চম্ৎকার সব সাফল্য অর্জন করেছে। ব্রিটেনের মূলধারার নানা ক্ষেত্রেই কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে তারা। এই সবই আমাদের সকলের জন্য অনুপ্রেরণা যোগানোর মতো ঘটনা।  ইটনের একক বিতর্কে সেলিনা কথা বলেছে অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিপক্ষে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ড বিলোপের পক্ষে। এছাড়া তার বিতর্কে অন্তর্ভূক্ত ছিলো গোপনীয়তায় অধিকার রক্ষার বিষয়টি। এই তিনটি বিষয়েই এখন দুনিয়াব্যাপী উত্তপ্ত বিতর্ক চলছে। এমন কঠিন বিষয়গুলোতে এ লেভেল পড়ুয়া এক দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার বাসিন্দা ইমিগ্রেন্টের সন্তান নিশ্চয়ই এমন সব যুক্তি উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে যা বিচারকদের মন জয় করেছে। উপযুক্ত সুযোগ ও পরিচর্যা না পেলে এই সক্ষমতা প্রমাণ করা যে কারো জন্যই কঠিন। সেলিনার ভাগ্য ভালো যে, সেই সুযোগ তৈরীর জন্য তার পিতামাতার সহায়তার পাশাপাশি তার স্কুল সর্বোচ্চ যতœ নিয়েছে। 
আমরা মনে করি, কমিউনিটির পিছিয়ে পড়া কিংবা দরিদ্র পারিবারিক পটভূমি কোন কিছুই আমাদের নতুন প্রজন্মের এগিয়ে যাওয়া ঠেকাতে পারবে না। তবে এক্ষেত্রে তাদেরকে যথাযথ পরিচর্যা দিতে হবে। সন্তানদের জন্য সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে হবে বাবা-মাকেই। সেলিনার পিতামাতা আব্দুর রহিম ও জোসনা বেগম যেমনটি করেছেন। বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের এক গ্রাম থেকে লন্ডনে এসেই বসে থাকেননি তারা। সন্তানদের জন্য উপযুক্ত স্কুল বাছাই করে দিয়েছেন যা তাকে এগিয়ে দিয়েছে দারুণভাবে আজকের এই সাফল্য অর্জনের পথে।  এক সাক্ষাতকারে বিনয়ী সেলিনা তার গর্বিত বাবা-মায়ের সমর্থন ও সহায়তার কথা উল্লেখ করে বলেছে, স্কুলের শিক্ষকদের যতœ না পেলে তার পক্ষে এতটুকু এগুনো কঠিন হতো।
সেলিনা যে অসাধারণ সাফল্য আমাদের এনে দিয়েছে তার কৃতিত্বটুকু তার একার। কিন্তু তাকে তৈরী করার পেছনে যে যৌথ প্রচেষ্টা ছিলো সেখানেই এই সাফল্যের শক্তি নিহিত। আমরা সেলিনার আরো চমৎকার সব সাফল্য কামনা করছি। সেলিনার মা-বাবাকে আমাদের অজস্র অভিনন্দন। সেলিনা এই প্রজন্মের এক আলোকবর্তিকা হয়ে উঠুক এই প্রত্যাশা রইলো।