Share |

ফিলিপ হ্যামণ্ডের বাজেট ঘোষণা : স্ট্যাম্প ডিউটি মওকুফ, বাড়বে করমুক্ত আয়সীমা

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ২৭ নভেম্বর : বাড়ি কেনা সহজ করতে ফার্স্ট টাইম বায়ারদের (যারা প্রথম বাড়ি কিনবেন) জন্য স্ট্যাম্প ডিউটি মওকুফ করা হয়েছে। বাড়ির দাম ৩ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত হলে কোনো স্টাম্প ডিউটি দিতে হবে না। আর বাড়ির দাম পাঁচ লাখ পর্যন্ত হলে প্রথম তিন লাখের ওপর কোনো স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হবে না। গত ২১ নভেম্বর সংশোধিত বাজেট ঘোষণা করেন চ্যান্সেলার ফিলিপ হ্যামণ্ড। বাজেটে তিনি এসব সুবিধা ঘোষণা করেন।  চ্যান্সেলার বলেন, লন্ডনে ২৭০ হাজার আবাসিক ঘর নির্মাণের প্ল্যান ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়ে পড়ে আছে, কিন্তু নির্মাণ কাজ এগোচ্ছে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্যার অলিভার লেটউইনের নেতৃত্বে একটি রিভিউ কমিটি গঠণের ঘোষণা দেন তিনি। আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ এ বিষয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন চ্যান্সেলার। ইউনিভার্সেল ক্রেডিট পদ্ধতিকে সংস্কার করার অংশ হিসাবে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দের ঘোষণা দিয়ে চ্যান্সেলার বলেন, বেনিফিটের আবেদনের পরে আর সাত দিনের অপেক্ষা করতে হবে না; আবেদন করার দিন থেকেই বেনিফিট প্রদান শুরু হয়ে যাবে। বাজটে আয়মুক্ত কর সীমান বাড়িয়ে বছরে ১১ হাজার ৮৫০ পাউন্ড করা হয়েছে। সর্বনিম্ন জাতীয় মজুরী বাড়িয়ে ঘন্টাপ্রতি ৭ দশমিক ৫০ পাউন্ড করা হয়েছে। আগামী এপ্রিল মাস থেকে এ মজুরী কার্যকর হবে।  
তরুণদের যাতায়াতের ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়স্কদের জন্য নতুন একটি রেলকার্ড চালু করার ঘোষণা এসেছে। ওই কার্ড ব্যবহার করে অফ পীক সময়ে ট্রেন যাতায়াতে তিন ভাগের এক ভাগ ভাড়া ছাড় পাবেন তরুণেরা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পিক সময়েও ট্রেন ভাড়ায় ছাড় পাওয়া যাবে। বিদ্যুতচালিত গাড়িকে উৎসাহিত করতে গাড়ি চার্জ করার অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের প্লাগ-ইন-কার গ্রান্ট এবং চার্জিং বিষয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৪০ মিলিয়ন পাউন্ড। শুধু বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্যই সুবিধা থাকছে না। পেট্রোল ও ডিজেলের উপর আগামী এপ্রিল মাস থেকে যে ডিউটি বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল তাও বাতিল করেছেন চ্যান্সেলার। কিন্তু ডিজেলচালিত গাড়িকে উচ্চ হারে রোড ট্যাক্স দিতে হবে। গণিত (ম্যাথস) শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে স্কুল, ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের জন্য নতুন বরাদ্দ রেখেছেন চ্যান্সেলার। ইংল্যান্ডের যে সকল স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীরা সিক্সথ ফর্মে এ-লেভেল অথবা কোর-ম্যাথস নিয়ে পড়ালেখা করবে তাদেরকে ৬শ পাউন্ডের একটি প্রিমিয়াম দেবে সরকার। এছাড়া গণিত বিষয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য ৪০ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দের পাশাপাশি নতুন গণিত-স্কুল প্রতিষ্ঠারও ঘোষণা দিয়েছেন চ্যান্সেলার। অন্যদিকে, কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ের শিক্ষকের সংখ্যা তিন গুণ করে ১২ হাজারে উন্নীত করে সকল সেকেন্ডারি স্কুলে কম্পিউটার শিক্ষাকে বিস্তৃত করারও ঘোষণা রয়েছে বাজেটে।
ব্রেক্সিটের প্রস্তুতি হিসাবে আগামী দুই বছরে ৩ বিলিয়ন পাউন্ড আলাদাভাবে জমিয়ে রাখারও ঘোষণা দিয়েছেন চ্যান্সেলার। প্রয়োজন হলে এই অংক আরো বাড়ানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা আরো বাড়িয়ে ১১, ৮৫০ পাউন্ড নির্ধারণ করা হবে। আর উচ্চ হারে ট্যাক্স পরিশোধের সর্বনিম্ন সীমাকেও বাড়িয়ে ৪৬ হাজার ৩৫০ পাউন্ডে নির্ধারণ করা হবে। এই দুই সীমা আগামী বছরের এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন চ্যান্সেলার। ইংল্যান্ডের এনএইচএস-কে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ডের রিসৌর্স ফাণ্ড দেয়ার ঘোষণা রয়েছে বাজেটে। এর মধ্যে ৩৫০ মিলিয়ন পাউন্ড শিঘ্রই বরাদ্দ দেয়া হবে যাতে চলতি শীত মৌসুমের জন্য এনএইচএস ইংল্যান্ড তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে।