Share |

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য সরাতে কাউন্সিলের নোটিশ

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ২৭ নভেম্বর : টাওয়ার হ্যামলেটসের সিডনি স্ট্রীটে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বছরখানেকের মাথায় ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেয়ার জন্য নোটিশ দিয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। এ নিয়ে বঙ্গবন্ধুর অনুসারীরা রীতিমত বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন।
 উল্লেখ্য, সিডনি স্ট্রীটে নিজ বাসবভনের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপন করেন লন্ডন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আফসার খান সাদেক।  
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল সূত্রে জানা যায়, স্থাপনের শুরু থেকেই ভাস্কর্যটির বিষয়ে বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ উঠে। বিশেষ করে ভাস্কর্যকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে লোকজনের ভিড় জমার বিষয়ে কাউন্সিলে অভিযোগ যায়। একপর্যায়ে কাউন্সিল এ ভাস্কর্যের বিষয়ে অভিযোগের কারণ অনুসন্ধানে নামে। সেই অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে কাউন্সিল দেখে যে, এটি স্থাপনে কাউন্সিলের প্ল্যানিং কমপ্ল্যায়েন্স সংক্রান্ত আইন মানা হয়নি। যে কারণে ভাস্কর্যটি সরিয়ে ফেলতে গত মার্চ মাসে নোটিশ দেয়া হয়।  
ভাস্কর্যের মালিক আফসার খান সাদেক পত্রিকাকে বলেন, নোটিশ পাওয়ার পর তিনি বিষয়টি বাংলাদেশ হাইকমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছেন। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাথে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। আফসার খান সাদেক আরও জানান, এছাড়া তিনি নিজে কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আবেদন জানিয়ে প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্টে আপিল করেছেন।  
কাউন্সিল সূত্রে জানা গেছে, আফসার খান সাদেক ‘একটি ভাস্কর্য’ স্থাপনের আবেদন করেন। আবেদনে তিনি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিষয়টি উল্লেখ করেননি। ফলে স্থাপন করা ভাস্কর্য ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা হতে পারে এটি ছিলো কর্তৃপক্ষের অজানা। যে কারণে একটি সুনির্দিষ্ট আকারের একটি সৌখিন ভাস্কর্য বসানোর অনুমোদন তাকে দেয়া হয়েছিল।  
এ বিষয়ে আফসার খান সাদেক পত্রিকাকে বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর বিষয়টি আবেদনপত্রে উল্লেখ না করলেও প্ল্যানিং কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এলে তাদের সাথে আলাপকালে কার ভাস্কর্য বসানো হবে সেটি তিনি জানিয়েছেন।
কাউন্সিলের একটি সূত্র জানায়, মেয়র জন বিগস সম্মানের সাথে এই ভাস্কর্যের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তিনি একটি সম্মানজনক সূরাহা চাইছেন। প্ল্যানিং পারমিশনের নিয়মভঙ্গ কিংবা বাসিন্দাদের অভিযোগের কারণে ভাস্কর্যটি না সরিয়ে হয়তো কাউন্সিলের কাছে কোনো উপায় থাকবে না। সে ক্ষেত্রে ভাস্কর্যটি কোনো পাবলিক স্থানে বসানোর উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। কিন্তু তা করতে গেলে জনমতামত যাচাই করতে হবে কাউন্সিলকে। আর মতামত যাচাই করতে গেলে কাউন্সিলের সে উদ্যোগকে আটকে দেবে আওয়ামী বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি। ফলে এর সমাধান এখনো ভাবা কঠিন।  রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে এর নিরাপত্তার বিষয়টিকেও কাউন্সিলকে মাথায় রাখতে হচ্ছে। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০১২ সালে কেমডেন কাউন্সিল বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েও একটি পক্ষের প্রকাশ্য বিরোধীতার কারণে তা আর বাস্তবায়ন করতে পারেনি।  লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আফসার খান ২০০৯ সালে তার বাড়ির সামনের গার্ডেনে নিজ খরচে একটি ভাস্কর্য নির্মাণের অনুমতির জন্য টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্টের কাছে আবেদন করেন। ২০১৪ সালের জুন মাসে কাউন্সিল নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য-প্রস্থের শর্ত দিয়ে তার বাড়ির সামনের গার্ডেনে ভাস্কর্যটি নির্মাণের অনুমতি দেয়। পরবর্তীতে নির্মাণ শেষে ২০১৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর ঘটা করে তিনি এটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা প্রয়াত সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এমপি, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাউনাইন, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুকসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এরপর বাংলাদেশের আরো বেশ ক‘জন কেন্দ্রীয় নেতা লন্ডন সফরকালে এই ভাস্কর্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে যান। এছাড়া যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি তীর্থস্থানে পরিণত হয় স্থানটি। বাড়ির সামনে প্রায়ই তাদের ভিড় লেগে থাকে। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাও জানান।