Share |

ট্রাম্পের টুইটে ব্রিটেনে তোলপাড়

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ৪ ডিসেম্বর : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনা? ট্রাম্পের করা টুইট নিয়ে যুক্তরাজ্যে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে উদ্দেশ করে টুইটারে ট্রাম্পের করা মন্তব্যের জবাবে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিকদের অনেকেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পা?া টুইট করছেন। পাশাপাশি গত বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে সংসদ অধিবেশনের শুরুতেই ট্রাম্পের অশোভন আচরণের কড়া সমালোচনা করে এর একটি বিহিত দাবি করেছেন দেশটির এমপিরা।
ব্রিটেনে ট্রাম্পের যেকোনো সরকারি সফর আটকে দেওয়ার দাবি তুলেছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। আর এমপিদের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে প্রেসিডেন্টের আচরণের বিষয়ে সতর্ক করে দিতে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় আগেরদিন বুধবার। ব্রিটেনের কট্টর বর্ণবাদী দল ‘ব্রিটেন ফার্স্ট’এর ডেপুটি লিডার জেইডা ফ্রানসেনের ইসলামুবিদ্বেষী উসকানিমূলক দুটি টুইট নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে রিটুইট করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বর্ণবাদী উসকানির অপরাধে জেইডা সাজাপ্রাপ্ত আসামি।  বিবিসি জানিয়েছে, ফ্রানসেনের প্রথম টুইট বার্তায় এক ভিডিওতে দাবি করা হয়, একজন মুসলমান অভিবাসী ক্রাচ নিয়ে চলা এক প্রতিবদ্ধীর ওপর হামলা করছে। এরপর ট্রাম্প আরও দুই ব্যক্তির একই ধরণের দুটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন, তারাও মুসলমান। এর একটিতে দেখানো হয় মুসলমানরা একটি খ্রিস্টান মূর্তি ভাঙ্গছে, অন্যটিতে তারা এক বালককে হত্যা করছে। এই তিনটি ভিডিও মর্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর ব্যক্তিগত টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করেন।
 এ নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়। ফলে এমন বর্ণবাদীর মন্তব্য শেয়ার করার কারণে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিক ও বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতারা ট্রাম্পের সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন। গণমাধ্যমগুলোর প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, ট্রাম্প উগ্রবাদী দলের যে মন্তব্য প্রচার করেছেন, সেটি ঘৃণাপূর্ণ, এটি কেবল মিথ্যাচার ও বিদ্বেষকেই উসকে দেয়।
এরপর বৃহস্পতিবার সকালে আটলান্টিকের এপারের ব্রিটেনের জনগণ ঘুম থেকে উঠেই দেখেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’কে উদ্দেশ করে অশোভন ভাষায় টুইট করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমার প্রতি নজর দেবেন না, ধ্বংসাত্মক উগ্রবাদী ইসলামিক সন্ত্রাসবাদের দিকে নজর দিন, যা যুক্তরাজ্যের মাটিতে ঘটছে। আমরা বেশ ভালোই করছি।’
ট্রাম্পের এমন আচরণকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি চরম অপমানজনক বলে মনে করছেন এমপিরা। তাঁরা সকাল থেকেই ট্রাম্পের এমন টুইটের প্রতিক্রিয়ায় পালটা টুইট করতে থাকেন। সংসদেও হয় উত্তপ্ত আলোচনা।
ওইদিন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে জর্ডান সফরে ছিলেন। সংসদে সরকারের পক্ষে প্রশ্নের জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বার রাড। তিনি বলেন, ট্রাম্পের উচিত টুইটার ব্যবহার বাদ দেওয়া। ট্রাম্পের এমন লাগামহীন আচরণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিশেষ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
পরে জর্ডানে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের টুইটের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেন, ট্রাম্প ওইসব বার্তা রিটুইট করে যে ঠিক কাজ করেননি সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সন্ত্রাসবাদ দমনে সম্পূর্ণ মনোযোগী আছেন জানিয়ে থেরেসা মে বলেন, ব্রিটেনের মূল্যবোধগুলো ভিন্ন। তিনি বলেন, ব্রিটেনে বসবাসত অধিকাংশ মুসলমানই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাঁরা সন্ত্রাসবাদকে ঘৃণা করেন। ২০১৬ সালের জুনে এমপি জো কক্সকে গুলি ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছিল। হামলাকারী তখন ব্রিটেন ফার্স্ট বলে চিতকার করেছিলেন। ধারণা করা হয়, ওই হত্যার সঙ্গে উগ্রপন্থীরা জড়িত। 
ট্রাম্প উগ্র ডানপন্থীদের টুইটার বার্তা রি-টুইট করার পর জো কক্সের স্বামী ব্রেন্ডান কক্স এর সমালোচনা করেছেন। তিনি টুইটারে ট্রাম্পের উদ্দেশে লেখেন, আপনার দেশে প্রতিদিনই নির্বিচারে গুলি করে হত্যাকাণ্ড ঘটে। ব্রিটেনের তুলনায় আপনার দেশে খুনের হার বেশি। আপনার দেশের স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা লজ্জাজনক। আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেসে কোনো কিছু পাস করাতে পারেন না।