Share |

হোম অফিসের অন্যায় বিতাড়ন থামালো কালাম সলিসিটর্স

লন্ডন, ৪ ডিসেম্বর : বাবার সূত্রে ব্রিটেনে আসা এক বাংলাদেশীকে দেশে ফেরত পাঠাতে চেয়েছিল হোম অফিস। হোম অফিসের সেই উদ্যোগকে অন্যায় প্রমাণ করে হাইকোর্টে জিতেছে বাংলাদেশি মালিকানাধীন আইনী সেবা প্রতিষ্ঠান কালাম সলিসিটর্স। গত ১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মামলার বিস্তারিত তুরে ধরে বলা হয়, হোম অফিস কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেশ বেপরোয়া পদক্ষেপ নিচ্ছে, যেগুলো  বৈধ অভিবাসীদের প্রতি চরম অন্যায় এবং ভোগান্তিকর।  
মামলার বিস্তারিত তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সানু মিয়ার প্রয়াত বাবা তোবারক আলী ১৯৬০ সালের ১ ডিসেম্বর ব্রিটেনে স্থায়ী হন। বাবার সূত্রে তিনি ২০০২ সালে ব্রিটেনে আসেন। তবে শুরুতে তাঁর ভিসা আবেদন রিফিউজ হলে তিনি আপিল করে ভিসা আদায় করেন। এরপর থেকে বৈধভাবেই তিনি ব্রিটেনে বসবাস করছিলেন। সানু মিয়া ব্রিটেনে স্থায়ী হওয়ার পর ২০১৩ সালে ব্রিটিশ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু পাসপোর্ট অফিস তাঁর আবেদনটি আটকে দেয়। তাঁর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তাঁকে স্বাক্ষাতকারের জন্য ডাকা হয়। সাক্ষাতকারে তিনি বাবার মাধ্যমে ব্রিটেনে আসার সকল কাগজপত্র হাজির করেন। সানু মিয়ার বাবার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ও বিয়ের কাবিনও ভূয়া বলে দাবি করে হোম অফিস। হোম অফিস তাঁকে পাসপোর্ট না দিয়ে দেশ ত্যাগের নোটিশ দেয়। এরপর সানু মিয়া পূর্ব লন্ডনের সুপরিচিত আইনীসেবা প্রতিষ্ঠান কালাম সলিসিটর্সের দ্বারস্থ হন।  
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কালাম সলিসিটর্সের প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ আবুল কালাম। হাই কোর্টে জুডিশিয়াল রিভিউতে মামলা লড়েন ব্রিটিশ বাংলাদেশী তরুণ ব্যারিস্টার শাহাতাত করিম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই মামলা ভুক্তভোগিদের জন্য মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
১৭ নভেম্বর এ মামলার রায় আসে। হাইকোর্টের ডেপুটি জাজ লেডি আলেকজান্দ্রা মার্কস সিবিই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে হোম অফিস, ফরেন এন্ড কমনওয়েলথ অফিস এবং পাসপোর্ট অফিসের গাফলাতির ব্যাপারে চরম সমালোচনা করা হয়। হোম অফিস এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে কি-না জানা যায়নি।  
বিতাড়ন থেকে রেহাই পাওয়া মোহাম্মদ সানু মিয়া সোমবার টেলিফোনে পত্রিকাকে বলেন, আদালতের রায়ে আমরা খুবই সন্তুষ্ট। আমার বাবার ব্রিটিশ নাগরিকত্বের বলে আমি এদেশে এসেছি। পরে স্ত্রীসহ আমার ৬ ছেলে মেয়ে ব্রিটেনে এসে স্থায়ী হয়েছে। কিন্তু হোম অফিস আমাকে দীর্ঘদিন পরে ঝামেলায় ফেলে হয়রানি করেছে। ২০১১ সাল থেকে তিনি এ মামলা লড়ছেন জানিয়ে সানু মিয়া বলেন, গত ৭ বছর ধরে কালাম সলিসিটর্স তাঁর পক্ষে এ মামলা লড়ছে। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। তারা খুবই আন্তরিকতা ও দায়িত্বের সাথে এ মামলা চালিয়ে গেছেন। তাদের সর্বাত“ক সহযোগিতার জন্য আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। এ ধরনের ভোগান্তির শিকার পরিবারের প্রতি তাঁর পরামর্শ হলো- হাল ছেড়ে দেবেন না, আইনী লড়াই চালিয়ে যান।  
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ইমিগ্রেশন জাজ বেলায়েত হোসেন, সলিসিটর সুহুল আহমদ মকু, ব্যারিস্টার আতাউর রহমান, ব্যারিস্টারওয়াসিকুর রহমান তালুকদারসহ আরো অনেকে। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশী কমিউনিটিতে এ ধরনের মামলায় অনেকেই সমস্যা পড়েছেন। এর চ্যালেঞ্জ হওয়া উচিত। এ ধরনের কেইসে আবেদনকারীদের ভিসা সংক্রান্ত সকল ডকুমেন্ট সংরক্ষণেন মনোযোগী হওয়া জরুরী বলে মত দেন তারা।