Share |

বাঙালি রেসটুরেন্ট মালিক হত্যা : পাকিস্তানী তান্দুরী শেফের জেল

এডিনবরা থেকে মিজান রহমান
৪ ডিসেম্বর : বাঙালি এক রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী হত্যার দায়ে স্কটল্যান্ডে প্রায় ৪০ বছর পর পাকিস্তানী তান্দুরী শেফের ১৬ বছরের জেল হয়েছে। আকাশে উড়াল দেওয়ার সামান্য আগে বিমান থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে গত বছরের মে মাসে। আর গত সপ্তাহে আদালত তাকে কারাবাসে পাঠিয়ে চার যুগ ধরে বকেয়া থাকা বিচারের সফল নিস্পত্তি করলো। এর মধ্যদিয়ে ৪০ বছর আগে ঘটে যাওয়া সেই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে নানা প্রশ্নের সুরাহা মিলেছে। হঠাৎ করে কাজী বশির আহমদের উধাও হয়ে যাওয়া এবং তার পর লাশ পাওয়া পর্যন্ত প্রায় ৪৮ ঘন্টার কাহিনী বর্ণনা করেন নিহতের ব্যবসায়িক পার্টনার এবারডিনের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব মাসুক মিয়া।  
১৯৭৮ সালের ১৩ অক্টোবর, শুক্রবার। রেস্টুরেন্টে জন্য সপ্তাহের অন্যমত ব্যস্ত দিন। এবারডিনে তখন হাতেগোনা মাত্র তিন-চারটি ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট। সদ্য চালু হওয়া বাংলাদেশী মালিকানাধীন রাজ দুলাল রেস্টুরেন্টটি তখন বেশ জনপ্রিয়। শুক্রবার বিকেলে রেস্টুুরেন্ট খোলার ঘন্টাখানেকের মধ্যেই কাস্টমারে প্রায় পরিপূর্র্ণ। কাস্টমারের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সবাই। কিচেনের মূল দুজন স্টাফই সেদিন কাজে অনুপস্থিত। নোটিশ ছাড়াই তান্দুরী শেফ উধাও। রেস্টুরেন্টের শেফও (মালিক) শুক্রবার রাতে আসেননি। সীমিত সংখ্যক স্টাফ মিলে অনেক কষ্ট করে সেই ব্যস্ত রাতের ব্যবসা সামাল দেন মাসুক মিয়া।   
স্মরণীয় সেই বিকেলের অভিজ্ঞতা এভাবেই বর্ণনা করেন রাজ দুলাল রেস্টুরেন্টের পার্টনার মাসুক মিয়া। তার দেশের বাড়ী মৌলভীবাজার জেলার গয়ঘর গ্রামে। রেস্টুুরেন্টের চারজন পার্টনারের মধ্যে দুজন থাকতেন এবারডিনে। মাসুক মিয়া ছাড়াও অন্য পার্টনার ছিলেন রেস্টুরেন্টের শেফ কাজী বশির আহমদ। সবার বাড়ী মৌলভীবাজার জেলায়। কাজী বশির আহমদ ও কয়েকজন কর্মী মিলে একসাথে থাকতেন আবারডিন শহরের একটি স্টাফ ফ্লাটে। রোজমাউন্ট ভায়াডাক্টের প্রথম তলার ফ্লাটটিতে ছিল তিনটি রুম। বশির আহমদ থাকতেন একটি আলাদা রুমে। অন্য দুই রুমে স্টাফদের সাথে থাকতেন সদ্য কাজে যোগ দেয়া পাকিস্তানী বংশোদ্ভুত তান্দুরী শেফ রিয়াসত খান।  
মাসুক মিয়ার সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭৮ সালের ১৩ অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে পাকিস্তানী তান্দুরী শেফ রিয়াছত খান রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে যান। ব্যাগ নিয়ে বের হওয়ার সময় স্টাফ ফ্ল্যাটের অন্যদের তিনি বলেছিলেন কাপড় নিয়ে লন্ড্রীতে যাচ্ছেন।   কয়েক ঘন্টা পর বিষয়টি জানতে পারেন মাসুক মিয়া। তিনি ধারনা করেন, কাজের চাপে হয়ত তান্দুরী শেফ পালিয়েছেন। কারণ, তখনকার দিনে স্টাফ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটতো। রিয়াসত খানকে খুঁজতে তিনি এবারডিন ট্রেন স্টেশনে যান। কিন্তুু তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি।  ওদিকে শুক্রবার রাতে রেস্টুরেন্টের শেফ অর্থাৎ কাজী বশির আহমদ অনুপস্থিত থাকায় অন্যরা ধারনা করেছিলেন যেহেতু তিনি রেস্টুরেন্টের মালিক, হয়ত ব্যবসার কোন জরুরী কাজে কোথাও গেছেন। স্টাফ ফ্ল্যাটের যে রুমে কাজী বশির আহমদ থাকতেন সেই ফ্লাটটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। সে সময় মোবাইল ফোনের সুবিধা ছিল না বলে তাঁর সাথে যোগযোগেরও সুযোগ ছিলো না। ফলে সবাই ধারনা করেন তিনি বাইরে কোথাও গেছেন। তাই এ নিয়ে কেউ খুব একটা চিন্তিতও ছিলেন না। স্টাফ ফ্ল্যাটের অন্যান্য বাসিন্দাদের সাথে আলাপ করে মাসুক মিয়া জানতে পারেন তাঁর রুমের দরজা বন্ধ। তখন তিনি মনে মনে ভেবেছেন, কাজী বশির আহমদ হয়ত কাউকে না জানিয়েই বাংলাদেশে চলে গেছেন। কেউ কেউ আবার বলছিলেন, হয়ত কোন আত“ীয়স্বজনের বাড়ীতে বেড়াতে গেছেন। এসব ভাবনা নিয়েই শুক্রবার রাজ দুলালে কাজ শেষ করে যে যার মতো রাতে বাসায় ফিরে যান।  
পরদিন শনিবার বিকেলে মাসুক মিয়া বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে যখন খোঁজ নিচ্ছিলেন তখন জনৈক আত“ীয় জানান বশির আহমদের পাসপোর্ট তাদের বাসায়। তখনই তিনি নিশ্চিত হন, বশির আহমদ বাংলাদেশে যাননি। এর ফলে সবার মধ্যে কিছুটা উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। কিন্তুু শনিবারে রেস্টুরেন্টে কাজের ব্যস্ততায় বিষয়টি নিয়ে খুব একটা ভাবার তেমন সুযোগ পাননি কেউই।  
পরদিন রোববার ১৫ অক্টোবর সকালে স্টাফ ফ্ল্যাটে ছুটে যান মাসুক মিয়া। ফ্ল্যাটের অপর বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে বশির আহমদের রুমটি সার্চ করার উদ্যোগ নেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল রুমের মধ্যে কাপড়-চোপড় কিংবা ব্যাগ আছে কিনা সেটা পরীক্ষা করা। কিন্তু রুমে ঢুকেই সবাই হতবাক। বসা অবস্থায় লাশ হয়ে আছেন কাজী বশির আহমদ। মুখমণ্ডল কাপড়ে আবৃত আর পিছমোড়া করে হাত বাধা। এ দৃশ্য দেখে মাসুক আহমদ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। শুরু হয় পুলিশী তদন্ত। পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে লাশের বুকে ও ফুসফুসে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন মেলে। পুলিশের ধারনা মতে, শুক্রবার ভোর রাতের দিকে ঘটনাটি ঘটে।  
খুনের সন্দেহে রিয়াসত খানের খোঁজে তখন মরিয়া হয়ে ওঠে গ্রাম্পিয়ান পুলিশ। ট্রেন, বাস, ট্যাক্সীসহ ব্রিটেনের বিমান ও নৌ বন্দরে বিশেষ তল্লাশী অভিযান শুরু হয়। কিন্তু সকল প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়। কাজী বশির আহমদের সন্তানসম্ভাবা স্ত্রী ও পরিবার তখন বাংলাদেশে। শোকে মূহ্যমান হয়ে পড়েন স্থানীয় বাংলাদেশী মানুষ। তখনকার সময় হাতে গোনা কয়েকটি বাংলাদেশী পরিবার থাকতেন আবারডিনে। মামলার শুনানীতে জানা যায়, ঘটনার দিনই (শুক্রবার) রিয়াছত খান পালিয়ে আবারডিন থেকে ট্রেনযোগে এডিনবরা পৌছান। ধারনা করা হচ্ছে, খুন করে পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বশির আহমদের অর্থ চুরি করে নিয়ে যান। পরে লন্ডন থেকে ডোভার হয়ে ফেরীযোগে ত্যাগ করেন ব্রিটেন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ফ্রান্স, ইটালী ও গ্রীসে ৮ মাস অতিবাহিত করে রিয়াসত খান চলে যান তার নিজ দেশ পাকিস্তানে। দীর্ঘদিন পর ১৯৯০ সালের শুরুর দিকে রিয়াসত খান আবার ব্রিটেনে ফিরে সপরিবারে থাকতেন ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে। এভাবে কেটে যায় আরও ১৬ বছর। তিনি হয়তো ভেবেছিলেন এত বছর আগের ঘটনা এখন সব চাপা পড়ে গেছে। কিন্তু বহু যুগ আগের পুলিশী ওয়ারেন্ট আর অপরাধী সনাক্তে ব্যবহৃত বর্তমান প্রযুক্তির কল্যাণে এবার তিনি ধরা পড়লেন।  
গত ২০১৬ সালের মে মাসে হলিডেতে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিলেন রিয়াসত খান। বার্মিংহাম এয়ারপোর্টে আমিরাতের একটি ফ্লাইটে চেপে বসেন তিনি। টেইক অফের একটু আগে পুলিশ জানতে পারে বহু পুরনো মামলার একজন পলাতক আসামী বিমানে রয়েছেন। ৩৯ বছর পালিয়ে থাকার পর কাজী বশির আহমদকে খুনে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার হন রিয়াসত খান।
 পুলিশ স্কটল্যান্ডের বিশেষ টীম নতুন করে শুরু করে মামলার তদন্ত। গোয়েন্দারা অক্ষত অবস্থায় খুঁজে পান পুরনো সব আলামত, ফিঙ্গার প্রিন্ট এবং সাক্ষীদের জবানবন্দী। ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে খুনের সাথে রিয়াসত খানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পান গোয়েন্দারা। জুরীদের উপস্থিতিতে এডিনবরা হাইকোর্টে পাঁচদিন ব্যাপী চলে মামলার শুনানী। রিয়াসত খান (৬৩) প্রথম দিকে খুনের দায় অস্বীকার করলেও পরে তিনি আদালতকে জানান আত“রক্ষার জন্য তিনি খুনটি করেছেন। শুনানী রিয়াসত খান তার উপর যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল বলে আদালতে দাবী করলেও পুলিশ এই অভিযোগের পক্ষে কোন প্রমাণ পায়নি। এছাড়া অতীতে রিয়াসত খানের অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ার প্রমাণাদিও আদালতে উপস্থাপন করে পুলিশ।  গত অক্টোবর মাসে শুরু হওয়া এ মামলার শুনানীকালে জানা যায়, রিয়াসত খান প্রায়ই ক্যাসিনোতে যেতেন। ঘটনার দিন শুক্রবার বিকেলে এডিনবরা হে-মার্কেট স্টেশনের সন্নিকটে ওয়েস্ট মেইটল্যান্ড স্ট্রিটে অবস্থিত উইলিয়াম হিল বেটিং শপে রিয়াসত আলী জুয়া খেলে ৯০০ পাউন্ড হারান। বেটিং শপের ঐ সময়কার এক নারীকর্মী আদালতে মামলার সাক্ষ্য প্রদানকালে জানান, একজন লম্বাকৃতির এশিয়ান পুরুষ ঐদিন একটি কালো রংয়ের বিন ব্যাগ হাতে নিয়ে বেটিং শপে প্রবেশ করেন। এছাড়া বেটিং শপের পুরনো একটি স্লিপে খুনীর হাতের ছাপ পেয়েছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মামলার সাক্ষীদের ধারণা, রেষ্টুরেন্টে কাজ করার সময় সংঘটিত কোন কলহ-বিবাদের জের ধরে কিংবা বশির আহমদের অর্থ হস্তগত করতে গিয়ে রিয়াসত খান হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়ে থাকতে পারেন।
নভেম্বর মাসের শুরুর দিকে রিয়াসত খানকে খুনের দায়ে অভিযুক্ত করে আদালত। রায় ঘোষণাকালে বিচারক লর্ড ব্রেকেট পাবলিক প্রসিকিউটরের কাছে জানতে চান, অপরাধী কিভাবে দীর্ঘ সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল এবং কেন তাকে এত দিন আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। অবশ্য এ সময় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা, ফরেনসিক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের প্রতি ধন্যবাদ জানান বিচারক। অবশেষে এডিনবরা হাইকোর্টে যুগান্তকারী এই মামলার শাস্তি ঘোষণা করা হয় গত ২৪শে নভেম্বর।  
মামলার রায় প্রদানকালে আদালতে কাজী বশির আহমদের নাতনী আয়শা বেগম (২৭) উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় মিডিয়ার কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আয়েশা বলেন, “আমি আমার নানাকে কখন ও দেখিনি। ঘটনার সময় আমার মায়ের বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর। এই রায়ে আমরা অনেক সন্তুষ্ট। অনেক দেরীতে হলেও সুবিচার পাওয়া গেল’’। “আদালতে যারা সাক্ষী দিলেন তাদের কথা শুনে আমি এটা বুঝতে পারলাম আমার নানা কতটা উদার, পরোপকারী এবং ব্যবসায়ী হিসাবে সফল ব্যক্তি ছিলেন।’’
আয়েশা আরও বলেন, “আমার নানার চরিত্রে কালিমা লেপনের জন্য হত্যাকারী ব্যক্তিটি আদালতে নানা ধরনের বাজে কথা বলেছি। কিন্তুু তার সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সে আমার নানা সম্পর্কে আদালতে অনেক মিথ্যা তথ্য দিয়েছিল যা ছিল মানহানিকর।’’ “আমার নানী এখনও জীবিত, বর্তমানে তার বয়স ৭২ বছর। ঘটনার সময় আমার নানীর বয়স ছিল ৩১ কিংবা ৩২। একা একা অনেক কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে আমার মা-খালাদের তিনি মানুষ করেছেন। বিচার পেতে তাকে দীর্ঘ ৩৯ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে।’’ রায়ের পর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে কাজী বশির আহমদের একমাত্র ছেলে বর্তমানে ম্যানচেষ্টারের বাসিন্দা কাজী আব্দুল বাসিত জানান “এই রায়ের ফলে তাদের পরিবারের সবাই সন্তুষ্ট।’’ নগদ অর্থের কারণেই তাঁর পিতা খুন হন দাবি করে তিনি বলেন, “রেস্টুরেন্টে প্রতিদিন বিক্রি বাবত প্রচুর ক্যাশ  থাকত আবার বাবার কাছে। এই ক্যাশের লোভে আমার বাবাকে নির্মমভাবে খুন করে পালিয়ে যান রিয়াসত খান।’’ কমিউনিটির সকলের কাছে নিহত পিতার রুহের মাগফেরাতের জন্য দোয়া চেয়েছেন তিনি।  
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, পুলিশ স্কটল্যান্ডের ডিটেকটিভ সুপারিনটেণ্ডেন্ট জিম স্মিথ বলেন, “দীর্ঘ সময় পরে হলেও অপরাধীর সাজা নিশ্চিত হয়েছে। এই রায় মি: আহমদ পরিবারের সদস্যদের জন্য কিছুটা হলেও সান্তনা।’’ তিনি বলেন, “যত দীর্ঘ সময়ই লাগুক না কেন অপরাধ করে কেউ চিরতরে বিচারের হাত থেকে রেহাই পাবে না।’’
আবারডিনের বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা সৈয়দ আব্দুল রাজ্জাক হাসিব স্কটিশ পুলিশ এবং প্রসিকিউশন কর্তৃপক্ষের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, “যুগান্তকারী এই রায়ে আমরা সন্তুুষ্ট।’’  
হত্যাকাণ্ডের পরে আবারডিনে বসবাস শুরু করা স্থানীয় আরেক কমিউনিটি নেতা আব্দুল মোছাব্বির বলেন, “স্কটল্যান্ডে বাংলাদেশী ক্যাটারিং সেক্টরকে প্রতিষ্ঠা করতে অতীতকালে যারা অবদান রেখে গেছেন তাদের মধ্যে কাজী বশির আহমদের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। যাকে তিনি তিনি কাজ দিলেন, থাকার জায়গা দিলেন সেই লোকটির হাতে তাকে নির্মমভাবে নিহত হতে হলো এটি সত্যিই মর্মান্তিক। খুনের দায়ে অপরাধী যে শাস্তি পেয়েছে এটিই আমাদের জন্য একটু সান্তনা।’’
উল্লেখ্য, কাজী বশির আহমদ ১৯৬০ সালে ব্রিটেনে আসেন। বাংলাদেশে তাঁর পৈতৃক নিবাস বৃহত্তর সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার কনকপুর গ্রামে। তিনি থাকন মিয়া নামে অনেকের কাছে পরিচিত ছিলেন। আবারডিনে রেষ্টুরেন্ট খোলার আগে তিনি পোর্টসমাউথ ও সাউথশিল্ডে বাস করতেন বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় তাঁর বয়স ছিল ৩৮ বছর। কাজী বশির আহমদের স্ত্রী সাইদা বেগম (৭২) ও সন্তানরা বর্তমানে বসবাস করছেন ম্যানচেস্টার। একমাত্র ছেলে বাসিত আহমদের জন্ম হয় খুনের ঘটনার ১১ দিন পর এবং এর কিছুদিন পর তাঁর এক মেয়ে মারা যায়। বর্তমানে তাঁর তিন মেয়ে রয়েছেন।