Share |

টয়েক মামলায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের পক্ষে রায়

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ১১ ডিসেম্বর : ইংরেজি দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা ‘টেস্ট অব ইংলিশ ফর ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশনস’ বা টয়েক কেলেঙ্কারির ভুক্তভোগীদের ব্রিটেনে থেকেই আইনের আশ্রয় নেয়ার সুযোগ দিয়েছে আদালত। গত মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) কোর্ট অব আপিল রায় দিয়েছে, টয়েক কেলেঙ্কারির ভূক্তভোগীরা হোম অফিসের (স্বরাষ্ট্র বিভাগ) সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্রিটেনে থাকা অবস্থায় আদালতের আশ্রয় চাইতে পারবেন, আইনী আশ্রয়ের সুযোগ না দিয়ে তাদের বিতাড়ন করা যাবে না।
এ রায়ের ফলে টয়েক কেলেঙ্কারির ভূক্তভোগী হাজার হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী উপকৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভূক্তভোগীদের যারা এখনও ব্রিটেনে অবস্থান করছেন তারা নতুন করে আদালতের আশ্রয় নেয়ার সুযোগ পাবেন।   
২০১৪ সাল থেকে টয়েক সনদধারী বিদেশি শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার আইনী আশ্রয়ের সুযোগ না দিয়ে গণহারে বিতাড়ন করা হচ্ছে। বলছে, আগে নিজ দেশে ফেরত যাও, তারপর আপিল।
সরকারের এমন বিতর্কিত নীতিকে কোর্ট অব আপিল অগ্রহনযোগ্য বলে ঘোষণা করে। আদালতের রায়ে বলা হয়, দেশে ফেরত যাওয়ার পর যদি বিদেশি শিক্ষার্থীরা আপিল করে তাহলে তারা আদালতে হাজির হতে পারেন না, নিজেদের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে পারেন না এবং তাদের কাছ থেকে বিচার প্রক্রিয়ায় উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর জবাব চাওয়ারও সুযোগ হয় না। ফলে এ নীতি অন্যায্য।
‘আপিল রাইট’ না থাকায় ভুক্তভোগী শত শত শিক্ষার্থী বিচার বিভাগীয় তদন্তের আবেদন করে। এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোর্ট অব আপিল চারটি আবেদনকে নমূনা হিসেবে গ্রহণ করে। যার মধ্যে আতাউল্লাহ ফারুক নামে একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর আবেদনও রয়েছে। পূর্ব লন্ডনে অবস্থিত আইনী সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সেল সলিসিটর্স বাংলাদেশি ওই শিক্ষার্থীর পক্ষে লড়ে।
২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিবিসিতে প্রচারিত ‘প্যানারমা’ অনুষ্ঠানে দেখানো হয়, ভিসার মেয়াদ বাড়াতে প্রয়োজনীয় ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ দিতে বিদেশি শিক্ষার্থীরা প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে। অন্তত তিনটি পরীক্ষা কেন্দ্রে একজনের পরীক্ষা আরেকজন দিয়ে টয়েক সনদ অর্জনের চিত্র তুলে ধরা হয় ওই প্রতিবেদনে।  যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এডুকেশন টেস্টিং সার্ভিস (ইটিএস) এই পরীক্ষার নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এমন ঘটনার পর তদন্ত শেষে ওই বছরের জুলাই মাসে হোম অফিস দাবি করে, অন্তত ৪৮ হাজার টয়েক সনদ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে টয়েক সনদকে অযোগ্য ঘোষণা করে সরকার।
এরপর যারা ইতিমধ্যে টয়েক সনদ ব্যবহার করে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে এবং ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছেন তাদের সকলকে গণহারে বিতাড়ন শুরু করে দেশটি। অনেকে শিক্ষাজীবন শেষ করে কর্মজীবী, পারিবারিক ভিসা বা স্থায়ী হয়েছেন, কিন্তু অতীতে কোনো এক সময় টয়েক সনদ ব্যবহার করায় তাদের ভিসা বাতিল করে ফেরত পাঠানো হয়। হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীও এর শিকার হয়।
আইনজীবীরা এই রায়কে যুগান্তকারী আখ্যা দিয়ে বলছেন, প্রত্যোক মানুষের যে আইনের আশ্রয় নেয়ার অধিকার রয়েছে, এ রায়ে সেটি প্রতিষ্ঠিত হলো।