Share |

নানু চৌধুরীর পরিচয় দিয়ে পাসপোর্ট কে বানালো? : হাইকমিশন লা জওয়াব

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ১১ ডিসেম্বর :  মো: নানু চৌধুরী ব্রিটেন প্রবাসী সাধারণ কর্মজীবী। জালিয়াতির মাধ্যমে তাঁর নাম ঠিকানা ব্যবহার করে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে পাসপোর্ট বানিয়ে নিয়ে গেছে অন্য কেউ। এখন নানু চৌধুরী পড়েছেন বিপাকে। 
কে ওই পাসপোর্ট বানিয়ে নিয়ে গেল সে সম্পর্কে প্রকৃত কোনো তথ্য হাইকমিশনের কাছে নেই। তবে জালিয়াতির ঘটনাটি হাইকমিশনের তদন্তে ধরা পড়েছে।
ফলে নানু চৌধুরীর পরিচয় ব্যবহার করে কে কোন উদ্দেশ্যে ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করছে, তা এক বিরাট রহস্য। ভূয়া পরিচয়ে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) কীভাবে বানানো সম্ভব হলো তা নিয়ে কোনো সদুত্তর নেই হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে। 
এখন প্রকৃত নানু চৌধুরী পড়েছেন মহা বিপাকে। তাঁর পাসপোর্ট নবায়ন এবং মেশিন রিডেবল (এমআরপি) করার আবেদন আটকে দিয়েছে পাসপোর্ট বিভাগ। ফলে তিনি বাংলাদেশে যেতে পারছেন না। স্ত্রীকে ব্রিটেনে আনার প্রয়োজনীয় সব কাজ সম্পাদন করে রেখেছেন। কিন্তু পাসপোর্ট জটিলতায় স্ত্রীর ভিসা আবেদন করতে পারছেন না। তাঁর ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন আছে। কিন্তু পাসপোর্টের মেয়াদ না থাকায় তিনি চাকরিও করতে পারছেন না। দীর্ঘ সাত মাস হাইকমিশনে দৌড়ঝাপ করেও পাসপোর্ট নবায়ন কবে হবে সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাননি। ফলে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভের অন্ত নেই। বলছেন, হাইকমিশনের ভূলের খেসারত তাঁকে কেন গুনতে হবে।
নানু চৌধুরী টেলিফোনে পত্রিকাকে বলেন, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল তিনি তাঁর পুরাতন হাতে লেখা পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করেন। তাঁর কাছ থেকে নতুন এমআরপির জন্য আঙ্গুলের ছাপসহ প্রয়োজনীয় তথ্য এবং নির্ধারিত ফি রাখা হয় যার এমআরপি এনরোল নম্বর ‘জিবিআর ১০০০৫৯৬৪৪’। নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষার পর নতুন পাসপোর্ট না আসায় তিনি হাইকমিশনে যোগাযোগ করেন। হাইকমিশন থেকে জানানো হয়, ২০১৪ সালে একই পরিচয় ব্যবহার করে এমআরপি ইস্যু করা হয়েছে। তাই তাঁর আবেদন আটকে দেয়া হয়েছে।
নিজের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় সহজ-সরল নানু চৌধুরী পরিচিতজনদের নিয়ে হাইকমিশনে যান একাধিকবার। প্রায় পাঁচ মাস পর হাইকশিনের পক্ষ থেকে তাঁকে একটি চিঠির অনুলিপি ধরিয়ে দেয়া হয়।
হাইকমিশনের প্রথম সচিব (পাসপোর্ট ও ভিসা উইং) আ ফ ম ফজলে রাব্বীর গত ২০ সেপ্টেম্বর বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লেখা ওই চিঠিতে বর্তমান আবেদনকারী নানু চৌধুরীকে পাসপোর্ট ইস্যু করার সুপারিশ করেন। বলেন, একই নাম ও ব্যক্তিগত তথ্য (কেবল মায়ের নাম ভিন্ন) ব্যবহার করে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর হাতে লেখা পাসপোর্ট ‘সি০০৮৩ ৫৫৭’ এর বিপরীতে যুক্তরাজ্যস্থ হাইকমিশন থেকে এমআরপি আবেদন ‘জিবিআর ১০০০২৩৪২৭’ এনরোল করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ‘বিএফ ০২৭২৫৫৮’ নম্বর পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। এই আবেদনকারীর হাতে লেখা পুরাতন পাসপোর্টের (সি০০৮৩ ৫৫৭) ফটোকপিতে পাসপোর্টটি লন্ডস্থ হাইকমিশনের মাধ্যমে ইস্যু করা হয়েছে বলে উল্লেখ থাকলেও অনুসন্ধানে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য হাইকমিশনের রেকর্ডে পাওযা যায়নি।
পক্ষান্তরে বর্তমান আবেদনকারী নানু চৌধুরীর বর্তমান পাসপোর্টগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। তাই ২০১৪ সালে ইস্যুকৃত ওই পাসপোর্ট (বিএফ ০২৭২৫৫৮) বাতিল করার সুপারিশ করা হয়। সেইসঙ্গে বর্তমান আবেদনকারী নানু চৌধুরীকে পাসপোর্ট ইস্যু করা যেতে পারে বলে পরামর্শ দেয়া হয়।
কিন্তু এরপর প্রায় আড়াই মাস কেটে গেলেও নানু চৌধুরী কবে পাসপোর্ট পাবেন সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাচ্ছেন না। ভূয়া পাসপোর্টটি বাতিল করা হয়েছে কি-না সে বিষয়ে কোনো হালনাগাদ তথ্য হাইকমিশনে নেই।
 নানু চৌধুরী বলছেন, ‘‘আমি তো কোনো অন্যায় করিনি। আমার পাসপোর্ট আটকে রেখে কেন আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে”। হাইকমিশন থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছেন না দাবি করে তিনি  বলেন, হাইকমিশনের কর্মকর্তা একবার কিছু করতে পারবেন না জানিয়ে নিজ পকেট থেকে তাঁকে আবেদনের অর্থ ফেরত দিয়ে দেয়ার ধমক দেন।   
যোগাযোগ করা হলে হাইকমিশনের প্রথম সচিব (পাসপোর্ট ও ভিসা উইং) আ ফ ম ফজলে রাব্বী শুক্রবার বলেন, বিষয়টি বেশ পুরনো। তিনি গত মে মাসে দায়িত্বে এসেছেন। বাংলাদেশে মহাপরিচালকের অফিসে তিনি বিষয়টি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সেখানেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু সাত মাসেও বিষয়টি সূরাহা না হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ দিতে পারলেন না তিনি। 
তবে তিনি স্বীকার করেন, ভূয়া পরিচয়ে পাসপোর্ট বানিয়ে নেয়ার ঘটনা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
নানু চৌধুরীর সাথে হাইকমিশনে গিয়েছিলেন সাইদ ইমাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৪ সালে যে পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে সেটির ছবি ফজলে রাব্বী তাঁকে দেখিয়েছেন। লোকটিকে দেখতে পাকিচ্চানিদের মত মনে হয়।