Share |

শ্যাডওয়েলে মাদক বিরোধী অভিযান : ব্যাগ ভর্তি টাকাসহ ৪জন গ্রেফতার

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ১৮ ডিসেম্বর : মাদক (ড্রাগ) ব্যবসার দায়ে পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত শ্যাডওয়েল থেকে সন্দেহভাজন চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ১৩ ডিসেম্বর টাওয়ার হ্যামলেটস পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৮ হাজার পাউন্ড এবং একটি রেঞ্জ লোভার গাড়ি জব্ধ করা হয়।   
টাওয়ার হ্যামলেটস পুলিশ গত প্রায় ১০ সপ্তাহ ধরে অপারেশন কন্টিনাম নামে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। ১৩ ডিসেম্বর ভোরে শ্যাডওয়েলের ৫টি বাড়িতে একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।  মাদকবিরোধী অভিযানে টাওয়ার হ্যামলেটস হোমস সহ বিভিন্ন সহযোগীদের গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারির মাধ্যমে সন্দেহভাজন মাদক বিক্রেতারদের চি?িত করা হয়। মাদক বিরোধী এই অভিযান শুরুর পর থেকে মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদক সরবরাহ এবং সঙ্গে মাদক বহনের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া ৮৪টি সমাজবিরোধী আচরণের জন্য সতর্কীকরণ নোটিশ জারি করা হয়। ৯টি ঘরে চালানো হয় তল্লাশি এবং ৫টি গাড়ি জব্দ করা হয়।  
এই উদ্যোগের আওতায় এন্টিসোশ্যাল বিহেভিয়ারের রিপোর্টের অনুকূলে সাড়া দেয়া, কিশোর তরুণ বয়সীদের ইতিবাচক কার্যক্রমে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করা, গৃহহীন হিসেবে চি?িত অসহায় লোকজনকে অথবা যাদের মাদকাসক্তির চিকিতসা দরকার- তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য করা হবে। এছাড়া কাউন্সিলের ক্লিন এন্ড গ্রীণ টিম নোংরা দেয়াললিখন অপসারণ করবে। টাওয়ার হ্যামলেটস পুলিশের ডিটেক্টিভ সুপারেন্টেন্ডেন্ট মার্ক ব্রুম বলেন, অপারেশ কন্টিনামের অংশ হিসেবে আমরা শ্যাডওয়েল এলাকায় বিশেষভাবে নজর দিয়েছি। তবে এই অভিযান গোটা বারায় পরিচালিত হবে। ড্রাগ ডিলারদের ধরতে এবং কমিউনিটিকে সহায়তা দিতে ও প্রত্যেকের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা অংশীজনদের সাথে মিলে কাজ করছি। তিনি বলেন, মাদক কেনাবেচার ব্যাপারে জিরো টলারেন্স প্রত্যাশা করেন বলে বাসিন্দারা আমাদের বলেছেন এবং আমরা তা-ই করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটসের ড্রাগ ডিলারদের এটা জানা থাকা দরকার যে, অপারেশন কন্টিনাম তাদেরকে ছাড়বে না।  
মেয়র অব টাওয়ার হ্যামলেটস, জন বিগস বলেন, পুলিশের সাথে মিলে আমরা যৌথ শক্তি নিয়ে মাদক সমস্যা মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছি। এই সমস্যা মোকাবেলা করা মেয়র হিসেবে আমার অন্যতম অঙ্গিকার। তিনি বলেন, এই লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছেন বাসিন্দারা। তাদের সহায়তায় টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মোবাইল ইউনিট আরো ৭দিন এখানে থাকবে। আমাদের কাজের মধ্যে রয়েছে, ইয়ূথ কার্যক্রম, হোমলেস বা গৃহহীন এবং মাদকাসক্তদের সাহায্য করা এবং যে ইস্যূগুলোর কারণে আমাদের রাস্তাঘাটের দৃশমান পরিবর্তন চোখে পড়ে, তা নিরসন করে পুরো জনপদকে নিরাপদ করে তোলা। কমিউনিটি সেফটি বিষয়ক কেবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর আসমা বেগম বলেন, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে মাদকের কেনাবেচা বন্ধ হবে। কোথায় মাদক কেনা বেচা হয় সেসম্পর্কে বাসিন্দারা আমাদের তথ্য দেন। আমরা বিশ্বাস করি সম্মিলিতভাবে কাজ করার মাধ্যমে আমরা বারাকে নিরাপদ করে তুলতে সক্ষম হবো।