Share |

বিকন ট্রি মসজিদ নিয়ে দ্বন্দ্ব : বিলাল আহমদ ও তার নিযুক্ত ইমামের মামলা আদালতে খারিজ

লন্ডন, ১৯ ডিসেম্বর : এসেক্সে অবস্থিত বিকন ট্রি মসজিদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা দ্বন্দ্বের জের ধরে আদালতে দায়ের করা মামলায় হেরে গেছেন এর প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান বিলাল আহমদ। একইসাথে তার নিযুক্ত মসজিদটির ইমাম নুরুল হাসানের দায়ের করা আরেকটি পৃথক হয়রানীর মামলা খারিজ করে দিয়েছে। গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে দেওয়া এ দুটি রায়ে বিলাল আহমদকে বিবাদী পক্ষের আইনী ব্যয় বাবদ ১,৫০০ পাউন্ড এবং নুরুল ইসলামকে প্রতিপক্ষের আইনী খরচ বাবদ ৪,৫০০ পাউন্ড পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।  মামলার রায় থেকে জানা যায়, বিলাল আহমদ উক্ত মসজিদের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বশীলসহ আটজন মুসল্লীর বিরুদ্ধে আদালতে হয়রানীর মামলা দায়ের করেন। হাইকোর্টের কুইন্স বেঞ্চে দায়ের করা এ মামলায় বিলাল আহমদ তাঁর স্ত্রীসহ আরো তিনজনকে বাদী করেন। কিন্তু গত অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে শুনানী শেষে বিচারক মাস্টার ডেভিসন চ্যারিটি কমিশনের মতামত সাপেক্ষে তাঁর এই মামলা খারিজ করে দিয়ে বিবাদী পক্ষকে ১,৫০০ পাউন্ড ব্যয় পরিশোধের নির্দেশ দেন। 
এছাড়া গত মাসে বিলাল আহমদের নিযুক্ত ইমাম মোহাম্মদ নুরুল হাসানের পাঁচজন মুসল্লীর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানী মামলার রায় দেন আদালত। সেন্ট্রাল লন্ডনের কাউন্টি কোর্টে দায়ের করা মামলা আদালত খারিজ করে দিয়ে বিবাদী পক্ষের ৪,৫০০ পাউন্ড আইনী ব্যয় পরিশোধের নির্দেশ দেন। এই দুই মামলায় হেরে গিয়ে এখন বিলাল আহমদ ও তার নিযুক্ত ইমামকে সর্বমোট ৬ হাজার পাউণ্ড পরিশোধ করতে হচ্ছে। এই দুটি রায়ের মধ্যদিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনী লড়াইয়ের আপাত অবসান হলো। এদিকে, মসজিদের ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের অবসান না হওয়ায় মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ এবং হতাশা বিরাজ করছে। তারা মসজিদকে কেন্দ্র করে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির দ্রুত অবসান চান।  উল্লেখ্য, শুরুতে ডেগেনহাম সেন্ট্রাল মসজিদ নামে প্রতিষ্ঠিত এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে এর প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান বিলাল আহমদের বিরুদ্ধে গত বছর মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারী করে প্রতিষ্ঠানটির নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি। এর পাশাপাশি চ্যারিটি কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁর সাথে বিরোধ নি?ত্তির চেষ্টাও চালিয়ে গেছে কমিটি। নতুন ব্যবস্থাপনায় আসার পর মসজিদে বিভিন্ন সংস্কার সাধন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। 
বিরোধের ঘটনা সম্পর্কে জানা যায়, ২০১৬ সালে গত ১৪ এপ্রিল ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে বিলাল আহমদের নামে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়। নোটিশে বিলাল আহমদের অগ্রহণযোগ্য আচরণের কারণে তাঁর ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে বলা হয়, রেজিস্টার্ড চ্যারিটি সংস্থা বেকনট্রি হীথ ইসলামিক সোসাইটি এখন থেকে ডেগেনহাম সেন্ট্রাল মসজিদের পরিচালনা কর্তৃপক্ষ। ব্যবস্থাপনা কমিটির চিঠিতে বিগত ৮ মাস ধরে সংঘটিত নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিলাল আহমদের মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছিলো। তাঁর বিরুদ্ধে সংস্থার সদস্য ও মুসল্লীদের কাছে হুমকিমূলক চিঠি প্রদান, কমিটি ও স্টাফের প্রতি হয়রানী, সেইফ ও নোটিশ বোর্ড বিনষ্ট করা ও ডাটা প্রটেকশন এক্ট লঙ্ঘনসহ মোট ১১টি অভিযোগে কমিটি মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলো। এসব অভিযোগের পক্ষে পুলিশ রেফারেন্স, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণাদি কমিটির কাছে রয়েছে বলেও দাবি করা হয় নোটিশে। বিলাল আহমদের উদ্দেশে লেখা এ নোটিশে আরোও জানিয়ে দেওয়া হয়েছিলো, এ মসজিদের ভবনের মালিক এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ হচ্ছে বিকনট্রি হীথ ইসলামিক সোসাইটি লিমিটেড।  এর আগে ২০১৫ সালের গত বছরের আগস্ট মাসে বিলাল আহমদ মসজিদ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নামে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করেন। এতে এই প্রতিষ্ঠানটির সাথে জড়িতদের বাদ দিয়েই একক কৃতিত্ব নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ওই সংবাদ সম্মেলনে মসজিদের সাথে জড়িত এবং দাতা ও মুসল্লিরা বিলাল আহমদের বিরুদ্ধে ম্যাগাজিনে অসত্য তথ্য প্রদান ও মনগড়া ইতিহাস রচনা, মসজিদকে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ষড়যন্ত্র এবং স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অভিযোগ আনেন। এ সংবাদ মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে বিলাল আহমদ সংশ্লিষ্ট মিডিয়াগুলোতে প্রতিবাদ জানিয়ে আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে মসজিদে নিয়ে এই বিরোধের বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিল, পুলিশ, আদালত এবং চ্যারিটি কমিশন পর্যন্ত গড়ায়। এক পর্যায়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিলাল আহমদকে সরিয়ে দিয়ে বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে মসজিদটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমান কমিটির অধীনে মসজিদটি সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে দাবি করে কাজি আব্দুল খালেদ পত্রিকাকে বলেন, কমিটির কর্মকর্তাসহ মুসল্লীদের ব্যাপক সমর্থন নিয়ে কাজ করছে এই নতুন কমিটি। কিন্তু বিলাল আহমদ ও তাঁর নিযুক্ত ইমাম মসজিদের সেবক ও কিছু মুসল্লীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানী করার অপচেষ্টা করেছেন। দুটি মামলাতেই তাদের আনীত অভিযোগ আদালতে অসত্য প্রমাণিত হয়েছে। মুসল্লীদেরকে মসজিদের প্রাণ উল্লেখ করে তিনি এর উন্নয়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।