Share |

টাওয়ার হ্যামলেটসে ঘুষ কেলেঙ্কারী : স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরী

গত এক সপ্তাহ ধরে টাওয়ার হ্যামলেটসে ঘুষ কেলেঙ্কারীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ক উত্তাপ ছড়াচ্ছে স্থানীয় কমিউনিটিতে। ক্যানারী ওয়ার্ফে আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণের জন্য কাউন্সিলের অনুমতি পাইয়ে দিতে দুই মিলিয়ন পাউন্ড ঘুষ দাবির ঘটনা ফাঁস হয় মাত্র গত সপ্তাহে। অথচ ঘটনাটি প্রায় দুই বছর আগের। সানডে টাইমসের প্রথম পাতায় শিরোনামের পাশাপাশি ভেতরে দুই পৃষ্ঠাজুড়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন বলে দিচ্ছে- এ বিষয়টি কত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুষ দাবির প্রমাণ হিসেবে একটি অডিও রেকর্ড প্রকাশ করেছে সানডে টাইমস যদিও শেষ পর্যন্ত ঘুষ লেনদেনের কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।  এক পর্যায়ে ফার ইস্টার্ন কনসোর্টিয়াম নামের কোম্পানিটির প্ল্যানিং আবেদন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সংশ্লিষ্ট প্যানেল প্রত্যাখান করলেও পরবর্তীতে লন্ডন মেয়রের কাছ থেকে ঐ অনুমতি তারা পেয়ে গেছে। 
অনিয়ম আর অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ২০১৫ সালে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিতর্কিত এক রায়ে মেয়র লুতফুর রহমান দায়িত্ব থেকে অপসারিত হলে স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বর্তমান মেয়র জন বিগস ক্ষমতায় এসেছিলেন। জন বিগসকে সে সময় জিতিয়ে আনতে স্থানীয় টোরি পার্টিও সহায়তা করেছিলো। নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন টোরী নেতার বক্তৃতায় তা ছিলো স্পষ্ট।  পরিহাসের বিষয় হচ্ছে, এই ঘুষ কেলেঙ্কারীর ঘটনা ফাঁস হবার পর সেই টোরি পার্টিই এখন লুতফুর রহমানের এক সময়ের সহকর্মীদের সাথে এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। গত সপ্তাহে এই ইস্যুতে রাবিনা খান আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় টোরি গ্রুপের ডেপুটি লিডার এন্ড্রু উডও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। এটি টোরি পার্টির কৌশল না ভেলকিবাজি তা বোঝা যাবে সময়মতো। তবে তারা যে লেবার মেয়র জন বিগসের ওপর হতাশ তা আপাতত দৃশ্যমান। 
ঘুষ কেলেঙ্কারীর ইস্যুতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল এবং এর নির্বাহী মেয়রের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয়টি হচ্ছে- তিনি এতো বড় ঘটনার কথাটি পুলিশকে জানাতে প্রায় ছয় মাস সময় নিয়েছেন। বাইরে থেকে ভাড়া করে আনা বিশেষজ্ঞের পরামর্শের পরই তিনি বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেছেন। জনবিগস দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে জড়িত। নানা দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি এই ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবনে অসক্ষম ছিলেন এটি ধারনা করা কঠিন। তাহলে তাঁর সামনে বাধাটা কী ছিলো সেটি এক বড় প্রশ্ন। এছাড়া কাউন্সিলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি সম্পর্কে একেবারেই অন্ধকারে ছিলেন। এ অভিযোগটি উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। আর যা-ই হোক মেয়রের দেওয়া স্বচ্ছতা রক্ষার প্রতিশ্রুতির সাথে এটি সঙ্গতিপূর্ণ নয়। 
ইংলিশ ভাষায় প্রকাশিত স্থানীয় পত্রিকায় মেয়র পুলিশের তদন্তে বিলম্বের হতাশা প্রকাশ করেছেন এই বলে যে, তারা কিছুই করেনি গত ১৮ মাসে। এক্ষেত্রে সমালোচকরা বলছেন, তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জড়িত করলে হয়তো ভিন্ন ফলাফল পাওয়া যেতো।  আমরা মনে করি, মেয়র যেমন ১৮ মাসের পুলিশি নিষ্ফল তদন্তে হতাশ তেমনি পুলিশকে জানাতে তাঁর ৬ মাস বিলম্বের কারণে জনগণ নানাভাবে সন্দিহান। সেই সন্দেহ যে অহেতুক সেটি প্রমাণের দায়িত্ব এখন নির্বাচিত নির্বাহী মেয়র হিসেবে জন বিগসের উপরই বর্তায়।  আমরা টাওয়ার হ্যামলেটসে কেন্দ্রীয় সরকারের নিযুক্ত কমিশনার ডেকে আনা সমর্থন করিনা। কিন্তু একইসাথে চিলড্রেন সার্ভিস নিয়ে অফস্টেডের কেলেঙ্কারীজনক রিপোর্ট, অন্য কাউন্সিল থেকে এসে খবরদারি আর সর্বশেষ ঘুষ কেলেঙ্কারীর ঘটনার মতো শিরোনাম হবার পরিস্থিতিও কাম্য নয়। এজন্য প্রয়োজন কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ মহলের স্বচ্ছতা বজায় রাখা ও প্রতিটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা।