Share |

নতুন বছর হোক শান্তির অন্বেষণ

মহাকালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেলো আরেকটি বছর। পৃথিবীজুড়ে নানা অঘটন আর নজীরবিহীন অস্থিরতার জন্য চিহ্নিত হয়ে রইবে বিগত বছরটি।  বাংলাদেশ তো বটেই, বিশ্বের পরম পরাক্রমশালী দেশগুলোর নানা ঘটনা ও পদক্ষেপও বিগত বছরজুড়ে আতঙ্কিত করেছে জনগণকে, অস্থির করে তুলেছে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশকে। 
কিছু কিছু ক্ষেত্রে উন্নয়নের সাফল্য সত্ত্বেও প্রশাসনের নিপীড়নমূলক আচরণ এবং ক্ষেত্রবিশেষে নির্লিপ্ততা বিশ্ব সংবাদের শিরোনামে এনেছে বাংলাদেশকে। নজীরবিহীন সংখ্যায় গুম, খুন আর দুর্নীতির খবরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিই শুধু ম্লান হয়নি বিশ্বঅঙ্গনে; বরং এ নিয়ে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের উদ্বেগ এবং হালকা হুশিয়ারিও পরিলক্ষিত হয়েছে। আর দেশটির জনগণের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তো বলাবাহুল্য। সবমিলিয়ে আতঙ্কজনক পরিস্থিতি বিরাজিত ছিল গোটা বাংলাদেশজুড়ে। তবে বিপন্ন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জনগণকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী প্রসংশা কুড়িয়েছে। আমরা আশা করবো, ভিন্নমত দমনের বর্তমান চর্চা থেকে দেশটি নতুন বছরে বেরিয়ে আসার উদ্যোগ নেবে। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরীতে কার্যকর ভূমিকা নেবেন রাষ্ট্রটির হর্তাকর্তারা। 
ইইউ থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভীষণ বেকায়দায় ব্রিটেন। প্রকাশ্যে সরকারের নেতা-মন্ত্রীরা যত বড় বুলিই আওড়ান না কেনো ব্রেক্সিট এখন বড় মাথাব্যথা ব্রিটেনের। ব্রেক্সিটের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব ফেলেছে জনজীবনে। নতুন বছরে এই অস্থিরতা কাটিয়ে দেশবাসীকে আশার আলো দেখাবেন রাষ্ট্র পরিচালকরা- এটি কাম্য। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে রোহিঙ্গা গণহত্যা বোধকরি এ শতাব্দীর জঘন্য ও ভয়াবহতম ‘এথনিক ক্লিনজিং’ হিশেবেই ইতিহাসে লেখা হয়ে থাকবে। 
মায়ানমারের সেনাদের সীমাহীন বর্বরতা পৃথিবীর বোধসম্পন্ন মানুষকে স্তম্ভিত করলেও বিশ্বমোড়লরা দায়সারা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। যখন লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা যখন প্রতিবেশী বাংলাদেশে প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় নিচ্ছে তখনও দুনিয়ার শক্তিধর এবং সভ্যতার দাবীদার দেশগুলো কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এরই মধ্যে হাজার হাজার শিশু, নারীসহ লক্ষ নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে রাখাইন প্রদেশের গ্রামের পর গ্রাম। মিডিয়াতে এসব দেখে-শুনে শুভবোধসম্পন্ন মানুষের মধ্যে হা-হুতাশ আর অস্থিরতা বেড়েছে। আমরা আশা করবো, আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব রোহিঙ্গা ইস্যুর ন্যায়ভিত্তিক সমাধানে মায়ানমারকে বাধ্য করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে আসছে দিনগুলোতে। 
বিগত বছরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সবচেয়ে বড় অস্থিরতার জন্ম দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনা? ট্রাম্প। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক চিঠিতে ফিলিস্তিনের মানচিত্র বদলে গিয়েছিলো। সেই আগুন শুধু মধ্যপ্রাচ্যকে অশান্ত-অস্থির করেনি - বরং সারা পৃথিবীতে উত্তাপ ছড়িয়েছে, এখনো ছড়াচ্ছে। শতবর্ষ পরে এসে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনা? ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা দিয়ে সেই আগুনে ঘি এবার ঢেলে দিয়েছেন। বিশ্বনেতার দাবীদার হিসেবে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের যখন বিশ্বের শান্তি নিশ্চিতে সক্রিয় হওয়ার কথা তখন তিনি দুঃখজনকভাবে বিশ্বে নতুন করে অস্থিরতার জন্ম দিয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় যে, বিশ্বের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ট্রাম্পের এই ঘোষণার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। আমরা আশা করবো, এভাবেই সকল অশুভর বিরুদ্ধে শুভবোধের জয় হবে। শান্তির অন্বেষণেই ব্রত হবেন বিশ্ব রাজনীতির নিয়ন্তারা।