Share |

নববর্ষে রাণীর খেতাব পেলেন দুই বাঙালী নারী

লণ্ডন, ৮ জানুয়ারি : নতুন বছরে রাণী এলিজাবেথের কাছ থেকে স্বীকৃতিপ্রাপ্তদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন দুই বাঙালী নারী। এদের দুজনই স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করছেন। নিজ কর্মক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অফিসার অফ দ্য মোস্ট একসেলেন্ট অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (ওবিই) সম্মাননা পেয়েছেন ইস্ট সাসেক্সের বাসিন্দা পপি জামান। আর মেম্বার অফ দ্য মোস্ট একসেলেন্ট অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (এমবিই) খেতাব পেয়েছেন টাওয়ার হ্যামলেটসের জিপি ডা. আনোয়ারা আলী।
উল্লেখ্য, রাজা পঞ্চম জর্জের আমলে ১৯১৭ সালে প্রবর্তিত এই রাজকীয় সম্মাননা প্রতি বছর দুইবার সমাজের নানা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান কিংবা অর্জনের জন্য ব্যক্তিকে দেওয়া হয়ে থাকে। নববর্ষ উপলক্ষে একবার আর রাজা-রাণীর জন্মদিন উপলক্ষে আরেকবার।  এবারের নববর্ষে রাজনীতি, সঙ্গীত, সাহিত্য, স্বাস্থ্য, খেলাধুলা ও কমিউনিটিতে বিশেষ অবদানের জন্যে ১১শ ২৩ ব্যক্তিকে বিভিন্ন খেতাবে ভূষিত করেছেন রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। গত ৫ জানুয়ারি শুক্রবার এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। এবারের  তালিকায় সবচাইতে কম বয়সী খেতাবপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন লুসিয়া মি। অর্গান ডোনেশন ক্যাম্পেইনার হিসেবে মাত্র ১৮ বছর বয়সেই বিইএম উপাধি পেয়েছেন তিনি।  ইংল্যান্ডের ম্যান্টাল হেলথ ফার্স্ট এইডের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালনরত পপি জামানকে ওবিই দেওয়া হয়েছে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় তাঁর বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে। বাংলাদেশের তাঁর পৈতৃক নিবাস বৃহত্তর সিলেটের মৌলভীবাজারের উত্তর মোলাইম গ্রামে। বাঙালী অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসের জিপি সাবেক কাউন্সিলার ডা. আনোয়ারা আলী এমবিই সম্মাননা পেয়েছেন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার খাতে তাঁর বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে।
সাবেক কাউন্সিলার আনোয়ারা আলী স্পিটালফি?স ও বাংলা টাউনে চিকিৎসক হিশেবে সেবা দেন। কাউন্সিলার থাকার সময়ে তিনি টাওয়ার হ্যামলেটসে ‘হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং’ এর কেবিনেট মেম্বারের দায়িত্ব পালন করেন। একজন চিকিৎসক হিসেবে ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) ব্রেস্ট স্ক্রিনিং কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাঙালি নারীদের উদ্বুদ্ধ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন আনওয়ারা।
আনওয়ারা আলীর জন্ম বাংলাদেশে ১৯৭০ সালে। শৈশবে বাবা জোবেদ আলী ও মা সলিমা খাতুনের সাথে যুক্তরাজ্য আসেন। টাওয়ার হ্যামলেটসে তিনি সেন্ট বার্থোলোমিউজ ও রয়েল লন্ডন মেডিকেল স্কুল থেকে ১৯৯৭ সালে এমবিবিএস পাশ করেন। এবছর মোট এক হাজার ১২৩ জনকে বিভিন্ন খেতাবে ভূষিত করা হয়েছে। চলতি বছরে সম্মাননালাভকারীদের মধ্যে ৭০ ভাগই স্বেচ্ছাসেবা অথবা কর্মসূত্রে কমিউনিটির মানুষের সেবায় অবদান রাখার জন্য স্বীকৃতি পেয়েছেন। এবার মোট খেতাবপ্রাপ্তদের ৫৫১ জন অর্থাৎ ৪৯ শতাংশ নারী। তাছাড়া মোট সম্মাননাপ্রাপ্তদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হচ্ছেন ৯ দশমিক ২ শতাংশ।