Share |

ত্রিদেশীয় সিরিজ : ফাইনালে বাংলাদেশ

২১ জানুয়ারি : ম্যানেজার লাভমোর বান্ডাকে অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হলো হোটেল লবিতে। খেলোয়াড়েরা সবাই অনুশীলনে যাওয়ার জন্য বাসে উঠে গেছেন। বান্ডা অপেক্ষায় হিথ স্ট্রিকের জন্য। কোচ কখন সেলফি-শিকারিদের হাত থেকে ছাড়া পাবেন, কখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা শেষ হবে, সেই অপেক্ষা।
বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ থাকার সুবাদে হিথ স্ট্রিক ঢাকায় বেশ পরিচিত। হোটেলে তো আরও বেশি পরিচিত, কারণ ঢাকায় বিসিবির ভাড়া করা বাড়িতে না থেকে থাকতেন এই সোনারগাঁও হোটেলেই। এই শহরে পথচলার সময় লোকজন জিম্বাবুয়ের কোচকে আটকাবে, এটা তো স্বাভাবিকই! হিথ স্ট্রিকও এটি খুব উপভোগ করছেন। কাল দুপুরে হোটেল লবিতে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘আমি খুবই উপভোগ করছি। মনে হচ্ছে যেন নিজের বাড়িতেই এসেছি। একসময় যাদের কোচিং করিয়েছি, সেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা হয়েছে। মারিও, রিচার্ড এখনো বাংলাদেশ দলের সঙ্গে আছে। তাদের পেয়ে ভালো লাগছে। সব মিলিয়ে এখানে বেশ উপভোগ্য সময়ই কাটছে।’ পুরোনো সহকর্মীদের মধ্যে স্ট্রিক ঢাকায় দেখা পেয়েছেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহেরও। ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের সাবেক কোচদের ‘পুনর্মিলনী’ নিয়ে অনেক আলোচনাই আছে। তবে স্ট্রিক ব্যাপারটাকে পুরোই পেশাদারি দৃষ্টিতে দেখার পক্ষে, ‘এ নিয়ে দেখলাম অনেকেই কথা বলছে। আসলে দিন শেষে খেলোয়াড়েরাই খেলে। চান্ডি (হাথুরুসিংহে) মাত্রই শ্রীলঙ্কা দলের দায়িত্ব নিল। সবকিছু গোছাতে আরও সময় লাগবে। সৌভাগ্যবশত আমি পরিকল্পনা করার মতো যথেষ্ট সময় পেয়েছি।’
জিম্বাবুয়ের সাম্প্রতিক সাফল্যের কারণেও স্ট্রিকের এখন সবকিছুই ভালো লাগার কথা। গত জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জয়, এখানেও শ্রীলঙ্কাকে হারানো-স্ট্রিকের চোখ তো এখনই চলে যাচ্ছে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে। তবে মূল লক্ষ্য সাফল্য-যাত্রাটাকে মার্চের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া, ‘দলটা নিয়মিত সাফল্য পেতে শুরু করা আনন্দের। তবে এখনো অনেক দূর যেতে হবে। সামনে গুরুত্বপূর্ণ সময় আসছে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের আগে ভালো ক্রিকেট খেলাটা জরুরি।’ #
ব্রেন্ডন টেলর, কাইল জার্ভিসের মতো ক্রিকেটাররা আবারও ফিরেছেন দেশের ক্রিকেটে। চোট কাটিয়ে ফিরেছেন সলোমন মায়ার। দলের মধ্যে এর ইতিবাচক প্রভাব দেখছেন কোচ, ‘তাদের সবার কাছে আমাদের উদ্দেশ্যটা পরিষ্কার। আমরা কী করতে চাই, কী ধরনের ক্রিকেট খেলতে চাই, ওরা জানে। ছেলেরা খেলার মধ্যে আনন্দ খুঁজে পাচ্ছে, স্বাধীনভাবে খেলছে...এটাই বড় কথা। দলে জায়গা পেতে এখন অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এটা ছেলেদের আরও ভালো খেলার তাড়না জোগাচ্ছে।’ সেই তাড়না থেকেই জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটেও এখন নতুন আশার আলো। ত্রিদেশীয় সিরিজ
          ম্যাচ  জয়  হার  পয়েন্ট  নে.রা.রে
বাংলাদেশ   ২    ২    ০   ১০   ২.৯৮৫
জিম্বাবুয়ে    ২    ১    ১    ৪    -১.১২০
শ্রীলঙ্কা      ২    ০    ২    ০    -১.৭৫০
ভালো খেলাটাই তামিমের পুরস্কার
রান করেও খুব বেশি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান না তামিম।
ব্যাপারটা নিয়ে একেবারেই চিন্তিত নন তিনি।

ফাইনালে উঠে গেলেও ত্রিদেশীয় সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ নিয়ে নির্ভার নয় বাংলাদেশ দল ঢাকা, ২২ জানুয়ারি : তিন বছর ধরেই দারুণ ধারাবাহিক তামিম ইকবাল। রান করে দেশকে জেতাচ্ছেন, বিভিন্ন ব্যক্তিগত মাইলফলকও পেরিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সে তুলনায় ম্যাচ শেষে আলোটা কি পুরোপুরি মিলছে তাঁর? এই যে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই ৮৪ রানের দুটি দারুণ ইনিংস খেললেন, কিন্তু ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারটা তাঁর হাতে ওঠেনি। টেস্টে তামিম সর্বশেষ ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছিলেন ২০১৭ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, ওয়ানডেতেও একই মাসে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। টি-টোয়েন্টির ম্যাচসেরা পুরস্কারটা তাঁর হাতে উঠেছিল এরও এক বছর আগে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। মাঝখানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওভালে করেছিলেন সেঞ্চুরি করেছেন, ব্যাট হাতে ছিলেন দারুণ ধারাবাহিক কিন্তু তাঁর বীরত্বটা ঢাকাই পড়ে গেছে। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেও একই ব্যাপারচ্চমন খারাপ হয় না তাঁর?
তামিম ব্যাপারটি নিয়ে যে একেবারেই ভাবেননি ব্যাপারটা তা নয়। ভেবে ভেবে একটা সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেছেন। আজ সংবাদ সম্মেলনে তাঁকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তরটাও দিলেন দারুণ, ‘দেখুন, আমি একটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। আমি আমার পরিশ্রমের ফলে বিশ্বাস করি। আনুষ্ঠানিক পুরস্কারে নয়।’ প্রচণ্ড পরিশ্রম তো করেন ওই রান করার জন্যই। পরিশ্রম করেই নিজেকে এই জায়গায় এনেছেন। তাঁর ব্যাট ধারাবাহিক হয়েছে। তামিমের আনন্দ এটিই। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়ে একটা পুরস্কার হয়তো তিনি পেতে পারতেন। কিন্তু সেটির আনন্দ ক্যারিয়ারে ধারাবাহিক হওয়ার চেয়ে অবশ্যই বেশি নয়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দশ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন। অনেক কিছুই শিখেছেন। ধারাবাহিক হওয়ার পাঠ নিয়েছেন। এমন অনেক কিছুই আছে অভিজ্ঞতার সঙ্গে তিনি রপ্ত করেছেন। এই যে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষের ওপর প্রভাব বিচ্চার করে খেলছে, এই সময় তাঁর করণীয়টা কী হতে পারে, সেটা ভালোই বোঝেন তামিম, ‘আমার তো মনে হয় এই সময়েই সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। সেটা দল হিসেবেও হতে পারে, ব্যক্তিগত পর্যায়েও।’
দায়িত্বের ধরনটাও জানালেন তিনি। বাংলাদেশ প্রথম দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কাকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে। বোনাস পয়েন্টসহ নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ ফাইনাল। একটু নির্ভার তো হতেই পারেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। কিন্তু তামিম নিজের বিশ্বাসের কথাটাই মনে করিয়ে দিয়েছেন এ প্রসঙ্গে, ‘আমার কাছে মনে হয় আমরা যারা জাতীয় দলে আছি, কেউই এ অবস্থায় নির্ভার বোধ করছে না। দুটি ম্যাচ জিতে গিয়েছি। এখন বাকি দুটিতে হারলেও কিছু হবে নাচ্চএই জিনিসটা কারও মধ্যে দেখছি না। প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ একেকটা সুযোগ। খেলোয়াড়েরা সেভাবেই দেখে বিষয়টা। খেলোয়াড়েরা চাচ্ছে ভালো করতে। একটা সেঞ্চুরি করতে বা একটা ভালো ইনিংস খেলতে। আমরা ফাইনালে চলে গিয়েছি। কিন্তু তারপরেও প্রতিটি ম্যাচই সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাকি দুটি ম্যাচে আমাদের অর্জনের অনেক কিছুই আছে। ফাইনাল যখন আসবে, তখন দেখা যাবে। আপাতত এই দুটি ম্যাচ শেষ করি।’