Share |

ইসলামী পোষাক ও হালাল খাবার প্রসঙ্গ : স্কুলগুলোতে কী হচ্ছে

ব্রিটেনের একাধিক স্কুলের নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় কমিউনিটিতে বিতর্ক, সমালোচনা চলছে। ক্ষেত্রবিশেষে স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা আন্দোলনে নেমেছেন। আর এসব আন্দোলনের ফলে স্কুল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত পা?াতে বাধ্য হয়েছে।  
গত সপ্তাহে লন্ডনের নিউহামের বারার একটি প্রাইমারী স্কুলে মুসলিম মেয়েদের হিজাব পরিধানের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক আর স্থানীয় ক্যাম্পেইনারদের চাপে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের পোষাক-বিধানে এ পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে এসেছে। শুধু তাই নয়, ব্যাপক স্বাক্ষর ক্যাম্পেইনের মুখে স্কুলের গভর্নিং বডির চেয়ারপার্সনও পদত্যাগ করেছেন।  
আরেকটি সাম্প্রতিক খবরে দেখা যাচ্ছে, ল্যাঙ্কাশায়ার কাউন্টি কাউন্সিল তাদের আওতাধীন ২৭টি স্কুলে হালাল খাবার পরিবেশন বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছে। গত অক্টোবরে কাউন্সিলের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত গত ডিসেম্বর থেকেই বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ল্যাঙ্কাশায়ার কাউন্সিল অব মস্কস এই সিদ্ধান্ত উচ্চ আদালতে জুডিশিয়াল রিভিউর মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করবে এমন ঘোষণার পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কথা জানা গেলো।  
প্রশ্ন হচ্ছে, কমিউনিটির একটি বিশেষ গোষ্ঠীর ধর্মীয় চর্চা ও বিশ্বাসে সরাসরি প্রভাব ফেলে এমন কর্তৃপক্ষীয় সিদ্ধান্তগুলো এমন হচ্ছে কেনো? স্কুল কিংবা কাউন্সিলের কর্তারা কি এ ধরনের ইস্যুর স্পর্শকাতরতা বুঝতে অক্ষম? নাকি তারা এসবে পরোয়া করেন না? যারা একটি সরকারী প্রশাসন চালান তারা এ ধরনের ইস্যুর স্পর্শকাতরতা অনুধাবনে অক্ষম তা বিশ্বাস করা কঠিন। আমরা মনে করি, কর্তাব্যক্তিরা উপর থেকে তাদের বোধ-বুদ্ধির বোঝাটা সাধারণ মানুষের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চান।  
লক্ষ্য করলে দেখা যাবে দুটি ঘটনাতেই কর্তৃপক্ষের দাবী ছিলো-সংশ্লিস্ট কমিউনিটির অর্থাৎ স্টেইকহো?ারদের সাথে পরামর্শ করেই প্রচলিত বিধান তারা বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এখন তারাই আবার বলছেন, আরো বৃহত্তর পরিসরে পরামর্শ করেই গৃহীত  সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে। আমরা জানি, অনেক ক্ষেত্রেই কনসালটেশন বা পরামর্শের নামে হয় তা আসলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিকদের পক্ষেই কাজ করে থাকে। আমরা এও জানি, জনগণ উঠে দাঁড়ালে কর্তৃপক্ষের একচেটিয়া ক্ষমতা অন্যায়ভাবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।  উপরোক্ত দুটি ঘটনায় স্কুল ও কাউন্সিল কর্তৃপক্ষের পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক করবে বলে আমরা আশা করি। কিন্তু এর মধ্যদিয়ে তারা যে জনগণের আস্থা হারালো- তা পুনরুদ্ধার সহজ হবে না।
 তবে আমরা আশা করবো, এই দুটি ঘটনা থেকে সংশ্লিষ্টরা শিক্ষা নেবেন। পাশাপাশি অন্যান্য কর্তৃপক্ষ এ ধরনের স্পর্শকাতর ইস্যুতে খেয়াল-খুশি মতো আচরণ করবে না।  
এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- জনগণকে সবসময় সজাগ ও সক্রিয় থাকতে হবে। দ্বিমত প্রকাশের জন্য তৈরী থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।