Share |

নেতাদের সফরে উজ্জীবিত সিলেট

সিলেট, ৫ ফেব্রুয়ারি : সিলেট থেকে দেশজুড়ে তরঙ্গায়িত হতে শুরু করেছে জাতীয় নির্বাচনের ঢেউ। ভোটের বছরে প্রথম মাসেই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর এই ঘোষণা দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এরপর গত বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) এই সিলেট থেকেই দলের নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। সর্বশেষ বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া গত সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সড়কযোগে সিলেট যান। সেখানে তিনি হযরত শাহজালালের মাজার জিয়ারত করেন। কেবল মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে খালেদার এই সফর দাবি করা হলেও, রাজনীতি বিশ্লেষকরা এটিকে তাঁর শো ডাউন হিসেবেই দেখছেন। সব মিলিয়ে দেশের শীর্ষ রাজনীতিকদের পদভারে মূখরিত সিলেট গত এক সপ্তাহধরে সারা দেশবাসীর নজরে। নেতাদের  সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটের বিভিন্ন দলের রাজনীতিকরাও ব্যাপক উজ্জীবিত। 

প্রধানমন্ত্রীর সফর 
সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর মঙ্গলবারের জনসভা সফল করতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেন। দুই দফায় প্রায় এক সপ্তাহ অবস্থান করেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে সিলেটে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রাণবন্ত। তার প্রভাব পড়ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী শুধু নন, সাধারণ কর্মীরাও উৎসাহিত।’ সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান গত রাতে বলেন, ‘সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা এই জনসভায় অংশ নিয়ে উৎসাহিত হয়েছে। নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত।’
সিলেট বিভাগের চার জেলার ১৯টি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মঙ্গলবারের জনসভা ঘিরে তৎপর হয়ে উঠেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর তাঁদের প্রচারাভিযানে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের পক্ষে মাঠে আগাম তৎপরতা চালাতে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা সিলেটে ফিরেছে।
সিলেট জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কে তা এখনো নিশ্চিত নয়। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আর নির্বাচন করবেন না বলে ঘোষণা দেওয়ার পর একই আসনে জাতীয় নির্বাচনে লড়তে প্রস্তুতি নেন অর্থমন্ত্রীর ছোট ভাই ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবদুল মোমেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনে টানা ছয় বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৫ সালের ২৮ নভেম্বর থেকে তাঁর ‘সিলেট অভিযান’ শুরু হয়।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ২৫ জানুয়ারি ৮৬ বছরে পদার্পণ করেছেন। তাঁর অনুসারীদের একটি অংশ তাঁকে আবারও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার চাপ দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সংকেত পেলে এই আসনে তিনি প্রার্থী হতেও পারেন। তবে অর্থমন্ত্রী তাঁর ছোট ভাই ড. আবদুল মোমেনকে বহু আগেই প্রস্তুতি নিতে বলেছিলেন।
গত মঙ্গলবার সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর সামনে গত ৯ বছরে সিলেটে উন্নয়নের প্রচারপত্র হাতে হাসিতে উজ্জ্বল ছিলেন ড. মোমেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে সিলেটে কাজ করতে বলেছেন। আমি নিয়মিত সিলেটে যাচ্ছি। কে মনোনয়ন পাবেন জানি না।’  আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ সিলেট-১ আসনে প্রার্থী হতে চান। তিনি এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে রাষ্ট্রপতি করার দাবি তুলেছেন। তবে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজকে এ ব্যাপারে আর কথা না বলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 খালেদা জিয়ার সফর 
 বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সিলেট যাওয়ার পথে স্বাগত জানাতে এসে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিএনপি ওর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাুকর্মীরা। তা ছাড়া কোথাও কোথাও পুলিশ ও সরকারি দলের কর্মীদের বাধার সম্মুখীনও হতে হয়েছে তাঁদের। খালেদা জিয়ার সিলেট যাত্রাপথের নারায়ণগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার বিভিন্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
সোমবার বিভিন্ন স্থান থেকে দলটির ২৭ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়। 
গ্রেপ্তার বিএনপির নেতাদের মধ্যে আছে কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সহসম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন, নরসিংদী জেলা বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, জেলা বিএনপির সহসভাপতি সুলতান উদ্দিন মোল্লা, শহর বিএনপির সভাপতি গোলাম কবির কামাল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি মো. বাহার মিয়া, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জেসমিন সুলতানা, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদরুল মোমেন, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তারিকুজ্জামান, ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। হজরত শাহজালাল (র.) ও হজরত শাহপরান (র.)-এর মাজার জিয়ারত করতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আজ সিলেটের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তবে এটা কোনো নির্বাচনী প্রচারণা নয় বলে দাবি করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সকাল সোয়া নয়টার দিকে খালেদা জিয়া রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন।
মাজার জিয়ারত শেষে তিনি রাত ১০টা নাগাদ ঢাকায় ফিরেন।  খালেদা জিয়ার আগমনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে বিপুলসংখ্যক পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী বা পথচারীকে মহাসড়কের পাশে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সিলেটে আ. লীগ-ছাত্রলীগের প্রচারণাজোট সরকারের আমলে নানা দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে সিলেট নগরে সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রচারণা চালিয়েছেন সিলেট নগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহমান জামিল ও নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম তুষারসহ নেতাকর্মীরা। এসময় তারা হজরত শাহজালাল (র.) মাজারসহ আশপাশের এলাকায় এই প্রচারণপত্র বিলি করেন। এসব প্রচারপত্রে লেখা রয়েছে, ‘খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাতকারী। তার সর্বোচ্চ শাচ্চি হওয়া উচিত’। এরপর তারা সার্কিট হাউজের দেয়ালে পোস্টার সাঁটিয়ে দেন।