Share |

বেলাল ভাই ভালোবাসতে জানতেন...

আব্দুল হাই সন্জু
আমার দুর্ভাগ্য হলো, শাহাব উদ্দিন আহমেদ বেলাল ভাইকে হাসপাতালে গিয়ে শেষ দেখা দেখতে পারিনি, তাঁর জানাজায়ও শরীক হতে পারিনি। কিন্তু বেলাল ভাইয়ের অন্তিম সময়টাতে পারিবারিক ও কর্মজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও কিছুক্ষণ পরপরই মনে পড়েছে তাঁকে। আমার হৃদয়ের গভীর থেকে প্রার্থনা করছি, বেলাল ভাইকে যেনো মহান রাব্বুল আলামীন জান্নাতবাসী করেন। 
বেলাল ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় খুব বেশী দিনের ছিল না। ৭/৮ বছরের পরিচয় হবে হয়তো। সাপ্তাহিক পত্রিকা কার্যালয়ে যাওয়া-আসা আর আড্ডাতেই মূলত: তাঁর সাথে পরিচয় ও তাঁর সান্নিধ্যে আসা। একটা বিষয়কে আমি ব্যক্তিজীবনে খুবই গুরুত্ব দিই। তা হলো বয়স্কদের জীবনের অভিজ্ঞতা ও আর তাঁদের যুদ্ধজয়ের গল্পকে। পত্রিকা অফিসের আড্ডায় বেলাল ভাইয়ের কাছে শুনেছি এমনই কিছু অভিজ্ঞতা আর ইতিহাসের কথা। একদিন কথা হ”িছলো টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে কীভাবে এতো বাংলাদেশী কাউন্সিলার নির্বাচিত হলেন, সেই ইতিহাস নিয়ে। আমার প্রশ্নের উত্তর যেমনটা হবে ধারনা করছিলাম বেলাল ভাইও তেমনটাই বললেন। তিনি বললেন, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের শ্বেতাঙ্গ রাজনীতিবিদদের মধ্যে বিবাদ ও মতপার্থক্যের কারণে সুযোগ স”ষ্টি হয় একদল বাংলাদেশী রাজনীতিকের। অর্থাৎ, নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারায় ঝামেলা হওয়ার কারণে শ্বেতাঙ্গরা বাংলাদেশীদের ’ানীয় নির্বাচনে প্রার্থীতার জন্য বেছে নেয়। অবশ্য বাংলাদেশীদের বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে এটিই একমাত্র কারণ ছিল না, তবে বড় কারণ ছিল বৈকি। বেলাল ভাইয়ের কাছে বিলেতে বাংলাদেশীদের এমন আরো বেশ কিছু ইতিহাসের সূত্র পেয়েছিলাম।
এক সময় নিয়মিতভাবে পত্রিকা অফিসে যাতায়াত করলেও অসুস্থতার কারণে গত ২/৩ বছর তিনি তেমন পেরে উঠতে পারেননি। তিন বছরেরও বেশী সময় আমি পরিবার নিয়ে বসবাস করেছি বেলাল ভাইয়েরই দীর্ঘদিনের মহল্লা স্টেপনী গ্রীনের একটি ফ্ল্যাটে। পত্রিকা অফিস থেকে বাসায় যাওয়ার আগে প্রায়ই জিজ্ঞেস করতেন আমি বাসায় যাবো কিনা। গভীর রাতে বাসায় ফেরার সময়ে অনেক দিন লিফ্ট দিয়েছেন বেলাল ভাই। 
একদিনের ঘটনা বলি: আমার শ্যালক বার্মিংহাম থেকে আমাদেরকে দেখতে এসেছে। তাঁর গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য অন্ততঃ দুটো পার্কিং স্ক্র্যাচ কার্ড লাগবে। কিন্তু আমার কাছে আছে একটা। আমি ফোন করলাম বেলাল ভাইকে। বেলাল ভাই বললেন, কয়টা লাগবে? আমি বললাম, আমি নিজে গিয়ে তাঁর কাছ থেকে সংগ্রহ করে নেব। তিনি বললেন, ৫ মিনিট পর নীচে নেমে এসে নিয়ে যেও। যেমন কথা তেমন কাজ। পাঁচ মিনিটের মধ্যে তিনি গাড়ি চালিয়ে এসে আমাকে স্ক্র্যাচ কার্ড দিয়ে গেলেন। 
বেলাল ভাই ভালোবাসতে জানতেন। জানিনা, আমি কিংবা আমরা কতোটা তাঁর ভালোবাসা ফেরত দিতে পেরেছি। ভালো থাকুন, বেলাল ভাই। 
  লণ্ডন, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৮
লেখক : সাংবাদিক