Share |

খালেদা জিয়ার জেলদণ্ড বাংলাদেশের জন্য দৃষ্টান্ত

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জেলদণ্ড গত সপ্তাহজুড়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। দুর্নীতির দায়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের বিশেষ আদালতের রায়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।  বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীর কারাদণ্ডের রায় দেশটির সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব ফেলবে বলেই পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। রায়ের পর রাজনৈতিক মহলে নানা হিসেবনিকেশও শুরু হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া আসন্ন নির্বাচনে নিজে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কিনা সে প্রশ্নের সুরাহা এখনই হচ্ছে না। তবে এ নিয়ে ভোটের মাঠ আরো উত্তপ্ত হবে, দেশের পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হবে -এটি অনুমান করা যায়। লন্ডনে এর আলামত ইতোমধ্যেই পরিলক্ষিত হয়েছে। রায় ঘোষণার আগের দিন বাংলাদেশ দূতাবাস ভবনে জোরপূর্বক প্রবেশ ও বঙ্গবন্ধুর ছবি অবমাননার ঘটনা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। ব্রিটিশ পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।  
ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতির বিচার পৃথিবীতে নতুন নয়। দেশে দেশে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বিচার হয়েছে। এই বিচার হয়েছে কখনো বিচারিক আদালতে আবার কখনো বা জনতার আদালতে। 
তবে বিচারহীনতার সংস্কৃতির বহু অভিযোগে বাংলাদেশ অভিযুক্ত। বিশেষকরে বাংলাদেশের বিচারবিভাগের স্বাধীনতা যেখানে প্রশ্নের উর্ধ্বে নয়, যে দেশের বিচারপতি নানা চাপের মুখে বিদেশে বসে পদত্যাগ করেন, সেখানে শুধু এই বিচার নয়- যেকোন বিচারই কিংবা বিচারের রায় প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য। গরীবের অর্থ আত্মসাতের দায়ে একটি দেশের শীর্ষ নির্বাহীর যদি শাস্তি হয় তাহলে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আম-জনতার তাতে সন্তুষ্ট হওয়ার কথা এই ভেবে যে, আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। কিন্তু রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থা এবং এর স্বাধীনতার ব্যাপারে পূর্ণ আস্থা না থাকলে আদালতের রায়ের প্রতি জনগণের শ্রদ্ধা আদায় করা কঠিন। এই পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার জেলদণ্ডের রায় বাংলাদেশের জনগণকে আবারো দুইভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে। সরকারে থাকা আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। তাঁদের কথাটা বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হলে সমস্যা ছিলো না। পক্ষান্তরে খালেদা জিয়ার দল বিএনপির নেতৃবৃন্দের দাবী, আগামী নির্বাচনে খালেদা জিয়াকে বাদ দিতেই সরকারের ইশারায় এই মামলায় তাঁকে জেলদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেছেন, কোর্ট রায় দিয়েছে, আমাদের কিছু করার নেই। এই কথার পিঠে কথার কোন আপাত: সমাধান নেই।  এক্ষেত্রে একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন- দুই কোটি টাকা আত্মসাতের জন্য সাবেক এক প্রধানমন্ত্রীর যদি পাঁচ বছরের জেল হতে পারে, তাহলে গত কয়েক বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লোপাট হয়ে যাওয়া এমনকি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে আটশ কোটি  টাকা চুরির সাথে জড়িতদের কী শাস্তি হওয়া উচিৎ? এদের শাস্তি কি আদৌ হবে?
এই মামলার রায় ঠিক না বেঠিক আপাতত: সেই বিতর্কে না গিয়ে বলা যায়- খালেদা জিয়ার জেলদণ্ডের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে যে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হলো, তা আসছে দিনগুলোতে অন্য মন্ত্রীদের বেলায়ও এই দৃষ্টান্ত প্রযোজ্য হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আর এটি বাংলাদেশের জন্য কী পরিণতি নিয়ে আসবে তা সময়ই বলবে।