Share |

সিলেটে ছাত্রলীগের দুই কর্মী হত্যা : আসামিরা প্রকাশ্যে, মামলা প্রত্যাহারে হুমকি

ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি : সিলেট নগরের টিলাগড়কেন্দ্রিক দ্বন্দ্বে খুন হওয়া ছাত্রলীগের দুই কর্মী ওমর মিয়াদ ও তানিম খান হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ গ্রেপ্তার করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। আসামিরা মামলা প্রত্যাহারে বাদীপক্ষকে নানা হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। রোববার সিলেটের দুটি কলেজে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে এমন অভিযোগ করেছেন মিয়াদ ও তানিমের পরিবারের সদস্যসহ সহপাঠীরা।  রোববার দুপুরে সিলেটের এমসি কলেজ ও সিলেট সরকারি কলেজে পৃথক দুটি মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়। কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ব্যানারে মানববন্ধন হলেও এতে সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা একাত্ম হয়ে হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। দুপুর ১২টায় এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশও হয়। কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য ও তানিম খান হত্যা মামলার বাদী দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক স্কুলবিষয়ক সম্পাদক হোসাইন আহমদের সঞ্চালনায় সমাবেশে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী, সঞ্জয় চৌধুরী ও মিঠু তালুকদার বক্তব্য দেন।
তানিম ও মিয়াদ হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে জানিয়ে বক্তারা বলেন, হত্যা মামলার আসামিরা ফেসবুকে ছবি দিয়ে সক্রিয় অবস্থার জানান দিচ্ছেন। মিয়াদের সম্পাদক নবাব উদ্দিন, বিসিএ‘র সাবেক সভাপতি পাশা খন্দকার, চ্যানেল আই ইউরোপের রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী সোয়েব, ইউরোপীয়ান প্রবাসী বাংলাদেশি এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শাহনূর খান। কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব শাহগীর বখত ফারুকের সভাপতিত্বে ও সাঈম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট কমিউনিটি সংগঠক কেএম আবু তাহের চৌধুরী। মূল আলোচক ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি মাহবুব রহমান। ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন আবুল হায়াত নূরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত সাহিত্যিক-সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরীর লেখা পাঠ করে শোনান সাংস্কৃতিক সংগঠক স্মৃতি আজাদ। উপস্থিত সকলের প্রতি বিনম্র কৃতজ্ঞতা জানান আবুল কালাম আজাদ ছোটন। অনুষ্ঠানে আলোকিত কৃতীজন ছোটনকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানান যুক্তরাজ্য নবীগঞ্জ এডুকেশন ট্রাস্ট. গেটওয়েক বাংলাদেশি কমিউনিটি এসোসিয়েশন, দীঘলবাক ইউনিয়ন ডেভলাপমেন্ট এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। 
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক আবু মুসা হাসান, নজরুল ইসলাম বাসন, গবেষক ফারুক আহমদ, বিবিসিসিএ’র ডাইরেক্টর ড. সানাওর চৌধুরী, সাপ্তাহিক জনমতের সহকারি সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ জুবায়ের, দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ, যুক্তরাজ্য নবীগঞ্জ এডুকেশন ট্রাস্টের আবদুল কাইয়ূম, গেটওয়েক বাংলাদেশি কমিউনিটি এসোসিয়েশন মঈনুল ইসলাম মামুন, বিবিসিএ সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়ার আলী, বার্কিং বাংলাদেশি এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ফয়জুর রহমান, কবি হাফসা ইসলাম, গ্রেটার লন্ডন নবীগঞ্জ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের প্রেস এণ্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি শেখ শামীম আহমদ।
সভায় বক্তাদের কথা থেকে উঠে আসে বহু গুণে গুণান্বিত আবুল কালাম আজাদের কর্মময় জীবনের নানান দিক। বক্তারা তাকে একজন সাংবাদিক, লেখক, জীবনীকার কবি-উপন্যাসিক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, প্রতিটি শাখায় তিনি নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এছাড়া বক্তারা তাকে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে অভিহিত করে বলেন, অর্থ-বিত্তকে তিনি মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেন। বিশেষ করে দেশের প্রতি, নিজের জন্মমাটির প্রতি, নিজের গ্রামের প্রতি তার রয়েছে অগাধ টান আবুল কালাম আজাদ দেশ ছাড়লেও দেশ থাকে কখনো ছেড়ে যায়নি, অথবা দেশকে কখনো হাতছাড়া করেন নি তিনি। 
ব্রিটেনে একজন সক্রিয় এবং সফল কমিউনিটি সংগঠক হিসেবেও আবুল কালাম আজাদকে চিত্রিত করেন অনেকে। পাশাপাশি  আবুল কালাম আজাদ ছোটনের মানবিক দিকগুলো, মানুষের বিপদে এগিয়ে আসার ক্ষেত্রে তার যে অসাধারণ একটি গুণ রয়েছে, বক্তারা তাদের বক্তব্যে এসব কথাও তুলে ধরেন।