Share |

মিয়ানমারের জেনারেলদের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ইইউর

লন্ডন, ২৬ ফেব্রুয়ারি : মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যার ঘটনায় জড়িত জেনারেলদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ জন্য ইইউর পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক প্রধানকে সম্ভাব্য নামের তালিকা তৈরি করতে বলা হবে আগামী সপ্তাহে। দুই কূটনীতিক গত বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন।

রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত মিয়ানমারের জেনারেলদের ওপর এর আগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। এখন তাদের ওপর নতুন করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বা সম্পদ জব্দের পদক্ষেপ নেওয়া হলে সেটা হবে ইইউর কঠোরতম পদক্ষেপ।

কূটনৈতিক একটি সূত্র বলেছেন, ‘পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ সদস্যদের বিরুদ্ধে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, দেরি না করে তা প্রস্তাব করার জন্য ফেদারিকো মঘেরিনিকে বলবেন ইইউর মন্ত্রীরা।’

একই সঙ্গে মিয়ানমারের ওপর ১৯৯০-এর দশকে আরোপ করা ইইউর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, তা খুঁজে দেখতে বলা হবে। আগামী সোমবার ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়মিত বৈঠকের পর এ বিষয়ে বিবৃতি দেওয়া হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

যাচাই শেষে ফেরত শূন্যরেখার রোহিঙ্গাদের

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা রোহিঙ্গাদের ফেরাতে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্তের পর এখন অন্য কথা বলছে মিয়ানমার। দেশটি বলছে, প্রায় ছয় মাস ধরে তমব্রু খালের কাছে আটকে থাকা সাড়ে পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে যাচাই করে ফেরত নেবে।
অথচ গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় মিয়ানমার জানিয়েছিল, কোনো রকম শর্ত ছাড়াই তালিকা করে শূন্যরেখায় আটকে থাকা রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

এদিকে মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি অসম্পূর্ণ থাকলেও দুই সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশের দেওয়া প্রথম তালিকা যাচাই শেষে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর কথা বলছে মিয়ানমার। মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী উইন মিয়াট আইয়ির বরাত দিয়ে মিয়ানমার টাইমস পত্রিকা গতকাল এ খবর জানিয়েছে।

উইন মিয়াট আইয়ি বুধবার নেপিডোতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ামাত্র আমরা (শরণার্থী) প্রত্যাবাসন করব।’ তিনি বলেন, তালিকা যাচাই শেষ হলে স্থল ও নৌপথে দিনে গড়ে ৩০০ শরণার্থী গ্রহণ করতে প্রস্তুত মিয়ানমার।
প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আট হাজারের মতো রোহিঙ্গার প্রথম তালিকা পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে মিয়ানমারের বহির্গমন দপ্তর বলেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রথমে ওই তালিকা যাচাই করবে। তাদের ছাড়পত্র পাওয়ার পর অভিবাসন কর্মকর্তারা তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের কাগজপত্র যাচাই করবেন।

উইন মিয়াট আইয়ি বলেন, ‘আমরা যাচাই করা এই তালিকা বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠাব। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পরই আমরা প্রত্যাবাসন শুরু করব।’

মিয়ানমারের সরকারি মুখপাত্র জ তেই বলেন, অভিবাসন কর্মকর্তারা আট হাজার শরণার্থীর তালিকা যাচাই করছেন। এর মধ্যে যাদের কাগজপত্র ঠিক থাকবে, সরকার শুধু তাদেরই গ্রহণ করবে।