Share |

অদৃষ্টে যাদের বৃদ্ধাশ্রম সেই হতভাগ্যদের জন্য

মোফাজ্জল করিম
‘পুত্রের কান্না শুনিয়া বিমলা দ্রুত সিঁড়ি দিয়া নামিয়া আসিলেন।’ সেই ১৯৪৭ সালে পড়া পাঠ্যপুস্তকের একটি গল্পের এই লাইনটি আরো অসংখ্য লাইনের মতো মস্তিষ্কের কোনো নিভৃত গহন কন্দরে এমনভাবে প্রোথিত হয়ে আছে যে আজও তা শত ঝড়-ঝঞ্ঝা-প্লাবনেও উৎপাটিত হয়নি।
তখন ১৯৪৭ সাল। আমি মৌলভীবাজার শহরের শ্রীনাথ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের-যার ডাকনাম ছিল বাংলা স্কুল-দ্বিতীয় ভাগের ছাত্র। দ্বিতীয় ভাগ মানে আজকালকার ক্লাস টু। সে বছরই দেশভাগ হয়। তখনো ব্রিটিশ আমলের বইপত্রের পাকিস্তানীকরণ শুরু হয়নি। আমাদের বাংলা বইয়ে যেসব গদ্য-পদ্য ছিল, তার বেশির ভাগই ছিল উপদেশমূলক। এগুলোর ভাষাও ঠিক বিদ্যাসাগরী না হলেও এখনকার তুলনায় ক্লাস টু-য়ের জন্য বেশ কঠিনই ছিল বলা যায়। তখন বাংলা বানান ও হাতের লেখার ওপর খুব জোর দেওয়া হতো। ‘কুজ্ঝটিকা’, ‘লাঞ্ছনা’, ‘ঐশ্বর্য’ প্রভৃতি শব্দের বানান না পারলে ক্লাসে সহপাঠীদের সামনে লাঞ্ছিত হতে হতো। পণ্ডিতমশায় কখনো কর্ণাকর্ষণ করতেন, চপেটাঘাত করতেন, আবার কখনো বেঞ্চের ওপর তালগাছের মত দাঁড়িয়ে থাকতে বলতেন। প্রয়োজনবোধে টেবিলের ওপর রক্ষিত নিরীহ দর্শনের বেত্রদণ্ডটি ব্যবহার করতেও কুণ্ঠিত হতেন না। এখন মনে হয়, ভাগ্যিস, পণ্ডিতমশায় এরূপ কঠোর শাসনব্যবস্থার মধ্যে আমাদের পাঠদান করেছিলেন। তা না হলে পরবর্তী জীবনে শুধু লাঞ্ছনা-গঞ্জনা-বঞ্চনাই নিত্যসঙ্গী হতো।

তা শুরু করেছিলাম সেই দ্বিতীয় ভাগে পড়া গল্পটি দিয়ে। ওটার অবতারণা করার একটা কারণ আছে। সে জন্য আগে সংক্ষেপে গল্পটি বলি। এক ধনী ব্যক্তির স্ত্রী বিমলা ওই গল্পের প্রধান চরিত্র। তিনি তাঁর শিশুপুত্রের কান্না শুনে ছুটে এসে জানতে চাইলেন, সে চিৎকার করে কাঁদছে কেন। ছেলে তার হাতে ধরা একটি মাটির থালার কয়েকটি ভগ্নাংশ দেখিয়ে বলল, ওটা তার হাত থেকে পড়ে গিয়ে ভেঙে গেছে। বিমলা বললেন তাতে কী হয়েছে। এটা তো সামান্য ক’টি পয়সার থালা। ওটা ভেঙেছে তো কী হয়েছে? ছেলে বলল, ওটা তো ঠাকুর্দার ভাত খাওয়ার বাসন। তুমি আর বাবা যখন ঠাকুর্দার মত বুড়ো হবে তখন আমাকে তো ওই থালাতেই তোমাদের খেতে দিতে হবে, তাই না? ওটা যে ভেঙে গেল আমি এখন কী করব। এ্যাঁ-এ্যাঁ-এ্যাঁ। আবার কান্না। ছেলের কান্না আর থামে না। ...ধনাঢ্য বিমলা ও তাঁর স্বামী ছেলের কাছ থেকে উচিত শিক্ষা পেয়ে সেই দিন থেকেই বাপের প্রতি তাঁদের আচরণে পরিবর্তন আনলেন। মাটির সানকিতে ভাত খাওয়ার দিন শেষ হলো সেই বুড়ো ঠাকুর্দার।

দুই.

কিন্তু এমন শত শত গল্পগাথা এবং অনেক মহাপুরুষের জীবনী পাঠ করেও এক শ্রেণীর মানুষের স্বভাব-চরিত্র মোটেই বদলায়নি। বরং যত দিন যাচ্ছে, মাতা-পিতার প্রতি অযতœ-অবহেলা তত বাড়ছে।

এর একটা প্রধান কারণ শিথিল পারিবারিক বন্ধন। আগের যৌথ পরিবার আর নেই বললেই চলে। মা-বাবার একটি সন্তানই হোক আর দশটিই হোক, তারা কর্মজীবনে প্রবেশ করেই যৌথ পরিবারের বন্ধন ছিন্ন করে নিজেদের সংসার পেতে বসে। সেই সংসারে স্ত্রী আছে, পুত্রকন্যা আছে, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবও আছে স্ব স্ব অবস্থানে থেকে। কিন্তু পাশ্চাত্য সভ্যতা ও জীবনধারা আমাদের সমাজে যখন থেকে শেকড় গাড়তে শুরু করল, তখন থেকে দারাপুত্র ছাড়াও মা-বাবা, দাদা-দাদীদের নিয়ে একান্নবর্তী পরিবারের সদস্য হয়ে থাকার রেওয়াজ দূর হয়ে গেল। যান্ত্রিক সভ্যতার বিকাশ ও প্রসার হতে লাগল দ্রুতগতিতে। পরিবর্তন দেখা দিল জীবন ও জীবিকার ক্ষেত্রে।

আজ থেকে দু’শ বছর আগে সমাজ যখন ছিল কৃষিনির্ভর, তখন শিল্প-কলকারখানা চালু হয়নি দেশে। মানুষের জীবন ছিল গ্রামকেন্দ্রিক। শস্য উৎপাদন ও তার সীমিত বিপণন, পরিধেয় বস্ত্র উৎপাদনের জন্য তাঁত এবং জীবনধারণের জন্য মৎস্য আহরণ ও গবাদি পশু পালন-এই ছিল জীবন। ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য হাট-বাজার, সেও ছিল গ্রামে বা তার আশেপাশে কোনো বর্ধিষ্ণু জনপদে। ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ব্রিটিশরা স্কুল-কলেজ স্থাপন করার আগে শিক্ষাও ছিল মূলত ধর্মভিত্তিক। বিদ্যালয় বলতে ছিল হিন্দুদের টোল ও মুসলমানদের মক্তব। পাঠশালা ও মাদরাসার আবির্ভাব হয় ধীরে ধীরে। তখন দুঃখ-কষ্ট, দারিদ্র, অভাব-অনটন সত্ত্বেও ছিল মায়া-মমতার বন্ধনে বাঁধা যৌথ পরিবার।

তিন.

সমস্ত চিত্রপট বদলে গেল ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে, যখন ব্রিটিশরা কলকারখানা স্থাপন, রেললাইন বসানো, স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা, অফিস-আদালত ইত্যাদি নির্মাণ শুরু করল। এর পাশাপাশি আরম্ভ হলো ইংরেজি শিক্ষার প্রচলন। ভারতীয় মুসলমানরা শুরু থেকেই ইংরেজদের শিক্ষা-দীক্ষা, সভ্যতা-সংস্কৃতি থেকে দূরে থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা-যারা কয়েক শতাব্দীর মুসলিম শাসনে নিজেদের নিরতিশয় সংক্ষুব্ধ ও বঞ্চিত মনে করতেন-এসবকে রাজভাষা ফার্সি ও মুসলিম সংস্কৃতির লাভজনক বিকল্প হিসেবে হৃষ্টচিত্তে গ্রহণ করলেন। ক্রমে উপমহাদেশে জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ ব্রিটিশ সভ্যতা-সংস্কৃতি ও শিক্ষা-দীক্ষাকে গ্রহণ করে নিল। শুরু হলো ইংরেজদের অফিস-আদালত ও কলকারখানায় জীবিকার অন্বেষণ। চিরায়ত গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রাণস্বরূপ ছিল যে একান্নবর্তী পরিবার, তা প্রয়োজনের তাগিদেই ভেঙে পড়ল। মানুষ হতে লাগল শহরমুখী। এর একটা অন্যতম কারণ ছিল গ্রামে কর্মসংস্থানের অপর্যাপ্ততা। লোকসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ জীবনে দেখা দিল অভাব-অনটন। মানুষ তখন বাধ্য হয়ে ছুটতে লাগল যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে সেখানে। আর সেসব স্থান ছিল গ্রাম নয়, অফিস-আদালত, কলকারখানাসমৃদ্ধ নতুন জন্ম নেওয়া শহর। গ্রামের একান্নবর্তী পরিবারটি নিজের প্রয়োজনেই তখন হয়ে গেল দ্বিধাবিভক্ত, ত্রিধাবিভক্ত। ছেলে বা ছেলেরা চলে গেল গ্রাম ছেড়ে শহরে, পেছনে পড়ে থাকলেন বুড়ো বাপ-মা। ছেলে শহরে গিয়ে সুখে আছে, শান্তিতে আছে, দু’টো খেয়ে-পরে দিব্যি আরামে দিন কাটাচ্ছে, মা-বাবা এতেই খুশি। লেখাপড়া করে ছেলে মানুষ হয়েছে, চাকরি-বাকরি বা ব্যবসা-বাণিজ্য করছে-সেটা মনে করে গর্বে-তৃপ্তিতে তাদের বুক ভরে ওঠে।

তারপর ধীরে ধীরে ‘ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড়’ গ্রামের কপালে যে অশনিসম্পাত নেমে এল, তার বর্ণনা আছে সলিল চৌধুরী রচিত ও সুরারোপিত হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কালজয়ী গানে : কোনো এক গাঁয়ের বধূর কথা তোমায় শোনাই শোনো, রূপকথা নয় সে নয়... ডাকিনী যোগিনী এল শত নাগিনী এল পিশাচেরা এল রে...কুটিলের মন্ত্রে শোষণের যন্ত্রে গেল প্রাণ শত প্রাণ গেল রে...। যন্ত্রসভ্যতার বিস্তার ও পাশ্চাত্যের জীবনধারার প্রভাবে গ্রাম হয়ে গেল বিরান, শুরু হল জনস্রোত শহরাভিমুখে। যার শরীরে শক্তি আছে, আছে সামান্য লেখাপড়ার পুঁজি, সেই ছুটল শহরের দিকে। গ্রামে পড়ে রইল শুধু অচল পয়সার মত অথর্ব অক্ষমরা। এদেশের মানুষের মধ্যে চিরায়ত মায়া-মমতার যে নিগূঢ় বন্ধন ছিল, তা স্খলিত হতে লাগল। আমূল পরিবর্তন দেখা দিল ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতিতে। যারা গ্রাম ছেড়ে শহরে আস্তানা গাড়ল, তারা যেন অন্য এক গ্রহের জীব। তাদের আহার-বিহার, চলন-বলন যেমন ভিন্ন, তেমনি ভিন্ন তাদের জাগতিক সমস্যা। বৃদ্ধ মা-বাবা তাদের সংসারে এসে হাঁপিয়ে ওঠেন, অস্থির হন গ্রামে ফিরে যেতে। আর যারা নিতান্ত অসহায়, গ্রামের পিতৃপুরুষের ভিটেতে এখন আর যাদের গ্রাসাচ্ছাদনের সম্বলটুকুও নেই, তারা শেকড় উপড়ানো তরুলতার মত ছেলের সংসারের ঊষর মরুতে এসে পড়ে থাকেন চোখ বুজে। প্রহর গোনেন কবে এ পৃথিবীর দেনা শোধ করে পাড়ি জমাবেন পরপারে, যেখানে কেউ তাদেরকে বোঝা মনে করবে না। আর গ্রামের বাড়িটার জন্য তাদের মনটা সব সময় আইঢাই করে।

তবে এও ঠিক, এর উ?োটাও আছে, যদিও অমন দৃষ্টান্ত আজকাল খুবই বিরল। সারাদিনের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর বাড়ি ফিরে এসে বাবা-মার খোঁজখবর না নিয়ে, তাঁদের সেবা না করে, পানিটুকুও মুখে দেন না এমন ছেলে, এমনকি কর্মজীবী পুত্রবধূও অনেকেই আছেন। বাবা ভূমিহীন চাষী কিংবা দরিদ্র স্কুল মাস্টার হলেও সর্বসমক্ষে তাঁদের পরিচয় দিতে মোটেই কুণ্ঠা বোধ করেন না তাঁরা, বরং গর্ববোধ করেন। তবে মা-বাবাকে বোঝা মনে করা, তাদের প্রতি অনীহা-অবহেলা প্রদর্শন করা শহুরে গোষ্ঠীর তুলনায় এরূপ আদর্শ পরিবারের সংখ্যা নিতান্তই কম।

চার.

নচিকেতা চক্রবর্তীর সেই আর্তিঝরা মর্মস্পর্শী গানটি কে না শুনেছে : ছেলে আমার মস্ত মানুষ মস্ত অফিসার/মস্ত ফ্ল্যাটে যায় না দেখা এপার ওপার।... সেই ফ্ল্যাটে দামি আসবাবপত্র থেকে শুরু করে অ্যালসেশিয়ান কুকুর ইত্যাদি সবই আছে, সব কিছুরই ঠাঁই হয় সেখানে, ঠাঁই হয় না শুধু বৃদ্ধ পিতার। তাঁর ঠিকানা কোথায়? না, ওই বৃদ্ধাশ্রম। বড়লোক ছেলে তাকে সেখানে পাঠিয়ে দিয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করল। হয়ত মাসে মাসে বেশ কিছু মাসোহারাও পাঠায় ছেলে, উৎসবে-পার্বনে পাঠায় এটা-ওটা উপহার। হয়ত বছরে একদিন গাড়ি হাঁকিয়ে দেখতে যায় বুড়ো আছে, না টেঁশে গেছে। সবই আছে বৃদ্ধাশ্রমে-আহার বিহার, সেবাযতœ, চিকিৎসা, সতীর্থদের সঙ্গসুখ। কিন্তু আত্মজ-আত্মজা? তারা তো নেই, নেই তাদের সন্তান-সন্ততিরা। পরপারের হাতছানির অপেক্ষায় বসে থাকা মানুষটির তো এখন অশন বসন কিছুর প্রতিই আকর্ষণ নেই। এখন তাঁর সমগ্র চেতনা জুড়ে কেবলই তাঁর পুত্র-কন্যা, পৌত্র-পৌত্রী, দৌহিত্র-দৌহিত্রী। এরা তাঁর সাত রাজার ধন। বৃদ্ধাশ্রমের সেবাযতœ, আরাম আয়েস কি এদের বিকল্প হতে পারে?
যারা বৃদ্ধ মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে চান তাদের কাছে একটাই প্রশ্ন : একদিন যখন আপনি বা আপনার স্ত্রী বার্ধক্যে উপনীত হবেন, তখন আপনি বা আপনারা কি রক্তের বন্ধন ছিন্ন করে বৃদ্ধাশ্রমে নির্বাসনে যেতে চাইবেন? নাকি একটু স্নেহের পরশের জন্য, ওই মমতাভরা মুখগুলো দেখে দেখে, তাদের আদর ভালোবাসা চেখে চেখে বাকি দিনগুলো পার করে দেওয়ার আকুল আকুতিতে আপনাদের হৃদয় মথিত হবে না? সেদিন একদিকে যদি থাকে সমস্ত পৃথিবীর যাবতীয় বিষয়-বৈভব, অপরিমেয় ঐশ্বর্য, অখণ্ড অবসর, আর অন্যদিকে থাকে আপনজনদের স্নেহঘেরা সান্নিধ্য তা হলে কোনটা বেছে নেবেন?

রাসুল (সা.) মিরাজে যে ১৪টি বিষয় সম্বন্ধে অবহিত হন তার দ্বিতীয়টি ছিল পিতামাতার হক বা অধিকার এবং সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য। পবিত্র কোরআন শরিফে আছে : তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন তিনি ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত না করতে এবং মাতাপিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে। তাদের একজন অথবা উভয়ে তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদেরকে উফ বলবে না এবং তাদেরকে ধমক দেবে না, তাদের সঙ্গে সম্মানের সঙ্গে কথা বলবে।...এবং বল, হে আমার প্রতিপালক, তাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছেন। (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত ২৩)

শেষ করার আগে একটি কথা অবশ্যই জোর দিয়ে বলতে হবে। এ নিবন্ধে আমি বৃদ্ধাশ্রমের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি, বলতে চাইও না। নিশ্চয়ই বৃদ্ধাশ্রমগুলো একটা বড় অভাব পূরণ করছে।

আমাদের দেশে ইউরোপ-আমেরিকা-জাপান-অস্ট্রেলিয়ার মত উন্নতমানের না হলেও বেশ কিছু দিন ধরে কোনো কোনো নিঃস্বার্থ দানশীল সমাজসেবী ব্যক্তি কিছু কিছু বৃদ্ধাশ্রম স্থাপন করেছেন। এসব মহৎপ্রাণ মানুষের বেশির ভাগই নেপথ্যচারী ও প্রচারবিমুখ। এরা অনেক অসুস্থ অসহায় নিঃসঙ্গ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের দৃষ্টান্ত অবশ্যই অনুকরণীয়।

তবে সরকার তার নিজের ভূমিকা শুধু মুষ্টিমেয় দুঃস্থ বৃদ্ধকে বয়স্কভাতা প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য আরো অনেক কিছু করতে পারে। অন্তত তাদের জন্য চিকিৎসাসেবা ও যাতায়াত সুবিধা আরো সহজলভ্য ও সুলভ, ক্ষেত্রবিশেষে ফ্রি করতে পারে। তেমনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এদের বার্ধক্যের নিঃসঙ্গতা ও একাকিত্ব দূর করার জন্য নানাবিধ উদ্যোগ নিতে পারে। সবারই লক্ষ্য থাকা উচিত সমাজের এই প্রবীণ মানুষগুলো যেন কোনো অবস্থাতেই নিজেদেরকে নিঃসঙ্গ, পরিত্যক্ত ও অবহেলিত মনে না করেন।

তাঁদের একাকিত্বের দিনগুলোকে সুন্দর ও আনন্দময় করার লক্ষ্যে বৃদ্ধ অসহায় মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে না পাঠিয়ে পরিবারের সবচেয়ে প্রবীণ, সবচেয়ে শ্রদ্ধেয়, সবচেয়ে মায়ার একজন হিসেবে পরিবারের সঙ্গেই থাকতে দিন তাদের। দেখবেন এক অনির্বচনীয় প্রশান্তিতে ভরে যাবে মন।

লেখক : সাবেক সচিব, কবি