Share |

তুষারঝড়ে দিনে ক্ষতি এক বিলিয়ন পাউন্ড

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ৫ মার্চ : তুষারের শুভ্রতায় মজা করেছেন অনেকেই। এই তুষার আবার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নিয়ে আসে স্তবিরতা। সর্বশেষ খবর হলো তুষারঝড়ের কারণে যুক্তরাজ্যের প্রতিদিন ক্ষতি হয়েছে প্রায় এক বিলিয়ন পাউন্ড। কারণ তুষারঝড়ের কারণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে ভাটা নেমে আসে। গত ৩ মার্চ গার্ডিয়ানের খবরে এমন তথ্য জানানো হয়। ২০১০ সালের পর এটাও তুষারপাতে সৃষ্ট সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি।  
গত বুধবার রাত থেকে যুক্তরাজ্যে তুষারপাত শুরু হয়। মেট অফিস জানায়, দক্ষিণাঞ্চল থেকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘এমা’ এবং ‘বিস্ট ফ্রম দ্য ইস্ট’র কারণে এমন বিরূপ আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার তুষারঝড় কমলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগে আরও দুয়েকদিন। বুধবার শুরু হওয়া তুষারঝড়ে বিভিন্ন সড়কে বরফে আটকে পড়ে গাড়ি। এসব গাড়ি ও চালকদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীকে নিয়োগ করতে হয়েছিল। কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করে। তুষারঝড় ও প্রচণ্ড ঠান্ডা আবহাওয়ায় ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।  ইংল্যান্ডে কয়েক বছর ধরে তুষারঝড় তেমন একটা নেই বললেই চলে। কিন্তু গত সপ্তাহের তুষারপাতে ইংল্যান্ডের সড়কগুলো স্থবির হয়ে পড়ে। ঘন বরফে আটকা পড়ে শত শত গাড়ি। কোথাও কোথাও ২০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটকে থাকে লোকজন।  
অস্বাভাবিক নিম্ন তাপমাত্রা ও ঘন তুষারে যোগাযোগব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলার বিষয়ে আগাম সতর্কতা ছিল। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা মাইনাস ১৭ ডিগ্রি পর্যন্ত নেমে যায়। তুষার জমে ৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত।
ইনস্যুরেন্স কোম্পানি ‘এএ’ জানিয়েছে, তিন দিনের তুষারঝড়ে মোট ৮ হাজার ২৬০টি গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। তাদের ধারণা, এসব দুর্ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ এক কোটি পাউন্ডের বেশি।
স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দান আয়ারল্যান্ড অংশে প্রতিবছরই ব্যাপক তুষারপাত হয়। তবে এবারের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। এবার স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তুষার জমে যোগাযোগব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে। এসব অঞ্চলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করে। পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ যে স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের পার্লামেন্টের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হয়েছিল। বিমানবন্দরগুলোতে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়। ট্রেন চলাচলেও ছিল চরম বিঘœতা।