Share |

ত্রিভূবনে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত : নিহতদের জন্য শোক

১২ মার্চ, সোমবার সকালে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভূবন বিমানবন্দরে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত পঞ্চাশ জন মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে নিহতদের মধ্যে ঊনত্রিশ জন বাংলাদেশী। এছাড়াও হতাহতদের মধ্যে নেপাল, চীন এবং মালদ্বীপের নাগরিকও আছেন বলে জানা গেছে।
 বিভিন্ন সময়ে ছোট কিছু দুর্ঘটনায় পড়লেও গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের কোনো এয়ারলাইন এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পড়েনি। এর আগে দেশের অভ্যন্তরে বেসরকারি উড়োজাহাজ প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনায় প্রশিক্ষণার্থী বৈমানিক মারা যাবার ঘটনা ঘটেছে, রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ অল্পের জন্য দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পেয়েছে ও প্রশিক্ষণ চলাকালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রশিক্ষণার্থী পাইলট মারা যাবার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কাঠমান্ডুর এই দুর্ঘটনা আমাদের কল্পনারও বাইরে। উড়োজাহাজটিতে বাংলাদেশ অধ্যয়নরত তেরোজন নেপালি মেডিকেল শিক্ষার্থীও ছিলেন বলে জানা গেছে। এই বিষাদময় ঘটনায় আমরা স্তম্ভিত এবং শোকাভিভূত। শোকসন্তপ্ত সকল পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা জানাই।
 নিরাপত্তা এবং যান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার গুণে অন্যসব বাহনের তুলনায় উড়োজাহাজ সবচেয়ে নিরাপদ এবং আস্থার পরিবহনযান হিসেবে বিবেচিত হয়। তারপরও উড়োজাহাজে দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, অসাধারণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণ সত্ত্বেও সুপারসনিক জেট কনকর্ড দুর্ঘটনায় পড়েছিল। মারা গিয়েছিলেন এর সকল যাত্রী। দুর্ঘটনার পর কনকর্ড তার পরিচালনা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। কয়েক বছর আগে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনের একাধিক উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় পড়ে। একটি উড়োজাহাজ নিখোঁজ হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি মিশর এবং রাশিয়ার একাধিক বিমান দুর্ঘটনায় পড়েছে প্রাণহানি হয়েছে বহু যাত্রীর। তারপরও কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরের কাছে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে। ইতোমধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বিপদজনক বিমানবন্দর হিসেবে চি?িত হয়েছে ত্রিভূবন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট।
বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র এবং সংবাদে অনেকবার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। পর্যটকদের কাছে নেপাল একটি আকর্ষণীয় দেশ। অনেক বাংলাদেশী আজকাল ব্যবসা কিংবা পর্যটনের কারণে নেপাল আসা-যাওয়া করেন ও ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও পাইলটদের উড়োজাহাজ উড্ডয়ন-অবতরণ করতে হয় বিমানবন্দরটিতে। ত্রিভূবনের ভৌগোলিক অবস্থান সুবিধাজনক নয়। পর্বত ছাড়াও প্রায় ঘন কুয়াশা ঘিরে ফেলে বিমানবন্দরটিকে এসব বিপত্তি মেনেই পাইলটরা এই বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ পরিচালনা করেন। বাংলাদেশী একজন বৈমানিকের বলেছেন, “ত্রিভুবনে উড়োজাহাজ উঠা-নাম করানোর জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হয়। অংকের জটিল হিসাব কোষে অবতরণ করতে হয়”। আমরা এখনো হতাহতের প্রকৃত চিত্র জানিনা। আশা করছি শীঘ্রই দুর্ঘটনার কারণ জানা সম্ভব হবে। পরিস্থিতির কারণে হোক কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটি, অথবা অন্য কোনো ব্যর্থতার কারণে হোক - প্রকৃত কারণ অবশ্যই জানতে হবে।
এমন মর্মন্তুদ ঘটনার পুনরাবৃত্তি কারো কাম্য নয়। এই মুহূর্তে আমরা আবারো স্মরণ করি যারা প্রাণ হারিয়েছেন।  কবি দিলু নাসেরের ভাষায় -
কাঠমান্ডুর বিমান ঘাঁটিতে/ঝরে গেলো বহু প্রাণ/তুষার আবৃত হিমালয় তাই/শোকে মূহ্যমান।