Share |

নেপালে বিধ্বস্ত বাংলাদেশী বিমান : নিহত ৪৯

ঢাকা, ১২ মার্চ : নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বাংলাদেশী একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে কমপক্ষে ৪৯ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের ঢাকা থেকে ৭১ জন আরোহী নিয়ে বিমানটি রানওয়েতে অবতরণ করার পরপরই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তখন বিমানটিতে আগুন ধরে যায়।
নেপালের পুলিশ বিবিসিকে জানিয়েছে, ৩১ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আরো ৯ জন পরে হাসাপাতালে মারা গেছেন।
নিখোঁজ রয়েছেন ছয়জন। বাকিদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই গুরুতর। বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের একজন নেপালের একটি সংবাদপত্রকে বলেন, বিধ্বস্ত বিমানটির জানালা দিয়ে তিনি বের হয়ে আসেন। এবং তিনি নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করছেন। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি।
কাঠমান্ডুতে ইউএস বাংলা বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রী বসন্ত বোহরা বলেছেন, সৌভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে গেছেন। বসন্ত বোহরা এবং আরো ১৫ জন নেপালি আরোহী ছিলেন বিমানটিতে। তারা রাস্তবিতা ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস-এর পক্ষ থেকে তারা বাংলাদেশে এসেছিলেন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে।
বসন্ত বলেন, ঢাকা থেকে বিমানটি উড্ডয়নের সময় সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিমানটি অদ্ভূত আচরণ করছিল।
তিনি বলেন, হঠাৎ করে বিমানটি প্রবলভাবে ঝাঁকুনি দেয়। তারপরই হয় প্রচণ্ড শব্দ। আমার আসনটি ছিল বিমানের কাছে। আমি জানালা ভেঙে বের হতে পেরেছিলাম। তিনি থাপাথালিভিত্তিক নরভিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নেপালের একটি অনলাইন পত্রিকা বিমান বন্দর মুখপাত্র প্রিম নাথ ঠাকুরের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, বিমানটি অবতরণ করার সময় বিমান বন্দরের পাশের একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এস২-এজিইউ নামের এ বিমানটি ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় এবং স্থানীয় সময় দুপুর ২ টা ২০ মিনিটে টিআইএ অবতরণ করে।
বিধ্বস্ত হবার পর বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। বিমানবন্দরের উদ্ধারকারী দল এবং নেপাল সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন। দুর্ঘটনার পর নেপালের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিধ্বস্ত বিমানটির ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার করা হয়েছে।   
জীবিত ২২ জনের মধ্যে ৯ জন বাংলাদেশি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস বাংলার উড়োজাহাজটির ২২ আরোহীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্য নয়জন বাংলাদেশি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জীবিতদের পরিচয় এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের ওই উড়োজাহাজটিতে মোট ৭১ জন আরোহী ছিলেন। এর মধ্যে ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু। যাত্রীদের মধ্যে ৩২ জন বাংলাদেশি, ৩৩ জন নেপালি এবং একজন চীন ও একজন মালদ্বীপের নাগরিক।
তবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তাঁর ফেসবুক পেজে জানিয়েছেন, নেপালে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় ১৪ জন বাংলাদেশি আহত অবস্থায় আছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা খুবই গুরুতর। পরিচয় নিশ্চিত হলে তাঁদের তালিকা তৈরি করা হবে।
 উড়োজাহটিতে ছিলেন রাগীব-রাবেয়ার ১৩ শিক্ষার্থী
নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বচ্চ হওয়া ইউএস বাংলার উড়োজাহাজটির যাত্রী ছিলেন সিলেটের জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১৩ শিক্ষার্থী। তাঁরা সবাই নেপালি। সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে সিলেটের জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আবেদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিধ্বস্ত হওয়া উড়োজাহাজটিতে আমাদের ১৩ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। ১৯তম ব্যাচের এই শিক্ষার্থীরা সবাই নেপালের নাগরিক।’ তিনি বলেন, চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা শেষে ফলাফল প্রকাশের জন্য দুই মাসের মতো সময় লাগে। এই সময়ে অনেকেই নিজেদের বাড়িতে চলে যান। নেপালের শিক্ষার্থীরাও দেশে ফিরছিলেন। তাঁদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানা যায়নি।
রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের একটি সূত্র জানায়, এই বিমানে যাত্রী ছিলেন শিক্ষার্থী সঞ্জয় পৌডেল, সঞ্জয়া মহারজন, নেগা মহারজন, অঞ্জলি শ্রেষ্ঠ, পূর্ণিমা লোহানি, শ্রেতা থাপা, মিলি মহারজন, শর্মা শ্রেষ্ঠ, আলজিরা বারাল, চুরু বারাল, শামিরা বেনজারখার, আশ্রা শখিয়া ও প্রিঞ্চি ধনি। মেডিকেল কলেজ সূত্র জানায়, সিলেট নগরের পাঠানটুলা এলাকায় তারাপুর চা-বাগানে অবস্থিত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মেডিকেল কলেজটি সিলেটের প্রথম বেসরকারি মেডিকেল কলেজ। ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ১ হাজার ৫০০। এর মধ্যে শতাধিক নেপালি ছাত্রছাত্রী রয়েছেন।  
গাজীপুরের একই পরিবারের পাঁচজন
ফারুক আহমেদ প্রিয়ক, তার স্ত্রী আলমুন নাহার অ্যানি ও তাদের সন্তান তামাররা প্রিয়কনেপালে বিধ্বস্ত ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স বিমানের যাত্রীদের মধ্যে গাজীপুরের নগরহাওলা গ্রামের একই পরিবারের পাঁচ সদস্য ছিলেন। বিমানে থাকা ফারুক আহমেদ প্রিয়কের (৩২) মা ফিরোজা বেগম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে দুর্ঘটনার পর এদের অবস্থার বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
ওই বিমানে থাকা একই পরিবারের পাঁচজন হলেন, উপজেলার নগরহাওলা গ্রামের মৃত শরাফত আলীর ছেলে ফারুক আহমেদ প্রিয়ক (৩২), তার স্ত্রী আলমুন নাহার অ্যানি (২৫), তাদের একমাত্র সন্তান তামাররা প্রিয়ক (৩), নগরহাওলা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান মাসুম (৩৩) ও তার স্ত্রী সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা আক্তার (২৫)।
ফারুক পেশায় একজন ফটোগ্রাফার। আর মেহেদী হাসান পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। ফারুক ও মেহেদী হাসান সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই। ফারুকের মা ফিরোজা বেগম বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর একমাত্র শিশুকন্যা তামাররাকে ছাড়া পরিবারের সবাইকে টিভিতে দেখতে পেয়েছি। তারা সবাই ভ্রমণের উদ্দেশে নেপাল যাচ্ছিলেন।
 অবতরণের আগে কন্ট্রোল রুম থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছিল: ইউএস বাংলার সিইও
বিধ্বস্ত হওয়া বিমানের ব্ল্যাক বক্সনেপালের ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কন্ট্রোল রুম থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার কারণেই ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহের কথা জানিয়েছেন ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আফিফ। তিনি দাবি করেন, এ দুর্ঘটনায় বিমানের পাইলটের কোনও গাফিলতি ছিল না।
সোমবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় বারিধারায় ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করতে গিয়ে ইমরান আফিফ এসব কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের সিইও বলেন, আমাদের ফ্লাইটটি অবতরণ করার আগের তিন মিনিটের একটি কথোপকথন আমাদের হাতে এসেছে। ফ্লাইটের পাইলটের সঙ্গে কন্ট্রোল রুমের যে কথা হয়, তা রয়েছে ওই কথোপকথনে। এটা থেকে আমরা ধারণা করছি, দুর্ঘটনায় আমাদের পাইলটের দিক থেকে কোনও গাফিলতি ছিল না।
সিইও ইমরান আফিফ আরও বলেন, ‘ফ্লাইট অবতরণের আগে কাঠমান্ডুর কন্ট্রোল রুম থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছে। কোন রানওয়ে দিয়ে অবতরণ করতে হবে, সে সম্পর্কে ওই তিন মিনিটের কথোপকথনে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দেওয়া হয়েছে। অবতরণের তথ্য সঠিকভাবে না দেওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।’
ইউএস বাংলার সিইও আরও বলেন, দুর্ঘটনায় আহত ১৬ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।  
বিধ্বস্ত বিমানের সব যাত্রী বীমা সুবিধা পাবেন: ত্রাণমন্ত্রী
ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের কার্যালয়ে ত্রাণমন্ত্রীদুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, ‘সব যাত্রীর বীমা নিশ্চিত করে ইউএস বাংলার ওই বিমানে ওঠানো হয়েছিল। এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের স্বজনদের সরকারিভাবে সহায়তা করা হবে। ওখানে যারা চিকিৎসাধীন আছেন তাদের চিকিৎসায় যাতে কোনও ত্রুটি না হয় আমরা তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।’ সোমবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারায় ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের কার্যালয়ে ত্রাণমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, ‘এই ঘটনা কেন কীভাবে ঘটলো তা তদন্ত সাপেক্ষে বের করার চেষ্টা করা হবে। ইউএস বাংলা ও বিমান মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিকভাবে যোগাযোগ রাখছে নেপালে।’  
 স্বজনদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা
নেপালে ত্রিভুবন বিমান বন্দরে সোমবার দুপুরে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজে ছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুরের নগর হাওলা গ্রামের ফারুক ও মেহেদী হাসান দম্পতির পাঁচ সদস্য। তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে এখনো জানতে পারেনি তাঁদের পরিবার। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষায় আছেন তাদের স্বজনেরা।
দুই পরিবারের ওই পাঁচ সদস্য হলেন, উপজেলার নগরহাওলা গ্রামের মৃত শরাফত আলীর ছেলে ফারুক আহমেদ (৩২), তাঁর স্ত্রী আলমুন নাহার অ্যানি (২৫), তাদের একমাত্র সন্তান প্রেয়সী (৩), নগরহাওলা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান অমিও (৩৩) ও তাঁর স্ত্রী সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা আক্তার (২৫)। ফারুক পেশায় একজন ফটোগ্রাফার, মেহেদী হাসান পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। ফারুক ও মেহেদী হাসান সম্পর্কে মামাতো ফুফাতো ভাই।
উভয় পরিবারই ভ্রমণের উদ্দেশ্যে নেপাল যাচ্ছিলেন বলে নিশ্চিত করছেন তাদের বন্ধু ফরহাদ হক। মেহেদী হাসানের মা বলেন, তাঁর ছেলে কাঠমান্ডু থেকে ফোন করেছিল। সে জানিয়েছে, সে, তাঁর স্ত্রী কামরুন্নাহার ও ফারুক আহমেদের স্ত্রী অ্যানি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। কিন্তু বাকি দুজনের খোঁজ সে দিতে পারেনি।  শুধু এই পরিবারের স্বজনেরাই নয় উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন অন্য পরিবারের স্বজনেরাও। কাঠমান্ডুতে বিধচ্চ ইউ-এস বাংলার উড়োজাহাজে মোট ৬৭ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে ৩২ জনই বাংলাদেশি। বাকিদের মধ্যে ৩৩ জন নেপালি, একজন চীন এবং একজন মালদ্বীপের নাগরিক। এই ফ্লাইটেই যাত্রী ছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জনসংযোগ কর্মকর্তা সানজিদা বিপাশা, তাঁর স্বামী এক সময় সাংবাদিকতা করা রফিক জামান রিমু ও তাঁদের ছয় বছর বয়সী ছেলে অনিরুদ্ধ।
সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এখন পর্যন্ত তারা কোনো খোঁজ পাননি। তিনি বলেন, খবর নেওয়ার চেষ্টা করছি, আমরা খুবই চিন্তিত।
এই ফ্লাইটে ছিলেন বৈশাখি টেলিভিশনের সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদ। এই টেলিভিশনের একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, ফয়সাল ছুটিতে ছিলেন। তাঁর ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছেন।
কাঠমান্ডু যাচ্ছিলেন রিজওয়ানুল হক ও তাঁর স্ত্রী তানভীন তাহিরা শশী। রিজওয়ানুলের বন্ধু আনিসুল হক বলেন, কলেজ জীবন দুজন এক কক্ষে থেকেছি। ঢাকাতেও আমাদের বাড়ি ছিল পাশাপাশি। মিরপুরে থাকতাম আমরা। কয়েক দিন আগে ওরা বসুন্ধরায় চলে যায়।’ রিজওয়ান সরকারি চিকিৎসক। ৩৩ তম বিসিএসে চিকিৎসা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন তিনি। রিজওয়ানের বাবা চিকিৎসক এবং শ্বশুরও চিকিৎসক। রংপুর মেডিকেলে ইন্টার্নি করার সময় শাওনের সঙ্গে তানভীন তাহিরা শশীর বিয়ে হয়। এ দম্পতি বেড়াতে যাচ্ছিলেন নেপাল।
অন্যদিকে নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস বাংলার বিমানে যাত্রী ছিলেন সিলেটের জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১৯ তম ব্যাচের ১৩ শিক্ষার্থী। তারা সকলেই নেপালি বংশোদ্ভূত।
 প্র্রধানমন্ত্রীর শোক  
নেপালের কাঠমান্ডুতে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক শোকবার্তায় এ কথা জানানো হয়। শোকবার্তায় বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নিহত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেছেন। তিনি আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
 নেপালের প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনার ফোন
কাঠমান্ডুতে ইউএস বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি অলিকে ফোন করেছেন। সোমবার সিঙ্গাপুর সময় রাত পৌনে আটটার দিকে তিনি এ ফোনালাপ করেন। ফোনালাপে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। ফোনালাপে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ত্রিভুবন বিমানবন্দর খোলার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সাহায্যকারী দল নেপালে পাঠাবেন। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় যত রকমের সাহায্য দরকার বাংলাদেশ তা দেবে।  ফর সংক্ষিপ্ত করে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় সফর সংক্ষিপ্ত করে মঙ্গলবারই দেশে ফিরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুংয়ের আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে গত রোববার সিঙ্গাপুরে যান। সফরসূচি অনুযায়ী বুধবার প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা ছিল। নেপালে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবারই দেশে ফিরেন।   পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সুষমা স্বরাজের ফোন সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। এ সময় সুষমা স্বরাজ নেপালের কাঠমান্ডুতে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে সমবেদনা জানান। এ ছাড়া তিনি কাঠমান্ডুতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।