Share |

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুসলিম-বিদ্বেষ : প্রতিরোধে এখনই সোচ্চার হতে হবে

ব্রিটেনের শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংস্থা ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টস (এনইউএস) পরিচালিত এক জরিপের রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছে গত সপ্তাহে এতে যে চিত্র পাওয়া গেছে, তা রীতিমতো ভয়াবহ 

মুসলিম স্টুডেন্ট সার্ভে শীর্ষক জরিপ বলছে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়ুয়া প্রতি তিনজন শিক্ষার্থীর একজন ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক আচরণ হয়রানীর শিকার হয়েছেন জরীপে অংশ নেয়া প্রায় ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী মনে করেন, ইসলাম-বিদ্বেষের পরিণতিতেই তারা আক্রমণের শিকার হয়েছেন ইসলাম-বিদ্বেষ হোক আর মুসলিম-বিদ্বেষ হোক যারা আক্রমণের ভুক্তভোগী কিংবা লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তারাই কেবল এর যন্ত্রণাটা উপলব্ধি করতে পারছেন 

আমরা জানি বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানাজনের সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান সেখানে মানুষ শুধু বিদ্যা শিখতেই যায়না বিশ্ববিদ্যালয় একজন মানুষকে তার মেধা-প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি একজন ব্যক্তির মানবিক দিকটিরও বিকাশে সহায়তা করে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একজন শিক্ষার্থী যদি তার সতীর্থের সাথে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক আচরণ করে থাকে তাহলে ভরসা কোথায়? কারণ, এরা তো শিক্ষাবঞ্চিত মানুষ নয় এরা তো অন্তত অজ্ঞতার অভিশাপমুক্ত বলে আশা করা যেতে পারে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন দূষিত পরিবেশের খবর আমাদের বিচলিত করে 

আমরা রাস্তাঘাটে আর কর্মস্থলে বিদ্বেষমূলক আচরণের ঘটনা প্রায়ই শুনি প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদ কিংবা বৈষম্যের অভিজ্ঞতা আমাদের পদে পদে দুই একটি ব্যতিক্রম ছাড়া মূলস্রোতের মিডিয়াতে ইসলাম-বিদ্বেষ আর মুসলিম হেনস্তা করার ঘটনা অহরহ কোন নেতিবাচক ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় মুসলিম হলেই আর রক্ষা নেই ইসলাম ধর্ম নিয়ে টানাটানি শুরু হয় ভাবখানা এমন যে, অপরাধী ইসলাম ধর্মের বলেই সে অপরাধটা করেছে আর ইসলামই তাকে এই অপরাধে জড়িয়ে পড়ার শিক্ষা দিয়েছে এনইউএস-এর এই জরীপের রিপোর্ট এমন এক সময় প্রকাশিত হয়েছে যখন ব্রিটেনের মতো সভ্যতার দাবীদার দেশে রীতিমতো মুসলমানদের ঘরে ঘরে চিঠি পাঠিয়ে হুমকি দেয়া হচ্ছে মুসলিম নামের এমপিরাও হুমকি থেকে বাদ পড়ছেন নাপানিশ মুসলিম ডেপালনের আহবান জানিয়ে এপ্রিল মুসলমানদের হেনস্তা করার, আক্রমণের ক্যাম্পেইন চলছে  বর্তমান সময়ে দুনিয়াব্যাপী বর্ণবাদের উত্থান বৈষম্যের প্রশ্রয় বেড়েছে যারা এর প্রতিরোধে এগিয়ে আসার দায়িত্বপ্রাপ্ত তারা বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না কিন্তু এখনই এই নৈরাজ্যমূলক তৎপরতা টেনে না ধরলে পরিস্থিতি আরও নাজুক হবে 

আমরা মনে করি, মুসলমানদেরকে নিজ ধর্মীয় চর্চা বজায় রেখেও বৃহত্তর সমাজে মেলামেশার সুযোগ তৈরী করে নিতে হবে একইসাথে বিদ্বেষ বৈষম্যমূলক আচরণ প্রতিরোধ আক্রমণ প্রতিহত করার শক্তি সঞ্চয় করতে হবে আর এজন্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে এর কোন বিকল্প নেই