Share |

সংবাদ সম্মেলনে দাবি : অহিদ-রাবিনাকে এক করা যায়নি

লন্ডন, ২ এপ্রিল : টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের আসন্ন মেয়র নির্বাচনের দুই প্রার্থী কাউন্সিলার রাবিনা খান ও কাউন্সিলার অহিদ আহমদের মধ্যে সমঝোতা করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে।

গত ৩০ মার্চ শুক্রবার পূর্ব লন্ডনের একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজকরা বলেন, রাবিনা খান এবং অহিদ আহমদ সাবেক মেয়র লুতফুর রহমানের অধীনে এক সঙ্গে কাজ করেছেন। তারা ছিলেন এক দলের লোক। এবার রাবিনা খান পিপলস অ্যালায়েন্স এবং অহিদ আহমদ এস্পায়ারের হয়ে মেয়র হওয়ার দৌড়ে লড়ছেন। এতে করে টাওয়ার হ্যামলেটসে বাঙালিদের প্রভাবশালী যে শক্তি ছিল, সেটি দুই ভাগ হয়ে গেল। যে কারণে এই দুই প্রার্থীর মধ্যে সমঝোতা করে একজনকে মেয়র প্রার্থী করার জন্য চেষ্টা চালিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

‘টাওয়ার হ্যামলেটস রেসিডেন্ট নেটওয়ার্ক’ এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শফিজুর রহমান। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মোঃ শাফিক ইসলাম (শিশু মিয়া), আজিম খান, আব্দুল মুমিত চৌধুরী, আকদ্দস আলী, আমিন শাহা ও রফিকুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান ‘এস্পায়ার’ ও ‘পিপলস এলায়েন্স’ গ্রুপকে এক করার লক্ষ্যে বিগত দিনে উভয় গ্রুপের লিডারদের সাথে সরাসরি কথা বলেছেন।

এতে বলা হয়, টাওয়ার হ্যামলেটস ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্রুপ (এস্পায়ার) এবং পিপলস এলায়েন্স গ্রুপকে এক করার লক্ষ্য ছিল যাতে একটি গ্রহণযোগ্য বিরোধী দল গড়ে ওঠে। এবং স্থানীয় বাসিন্দদের কল্যাণের লক্ষ্যে আগামী মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য মেয়র নির্বাচনে লেবার প্রার্থীকে পরাজিত করা।

লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, বর্তমান এস্পায়ার পার্টির কাউন্সিলার ওহিদ আহমদ আমাদের এই প্রস্তাবে আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু পিপলস এলায়েন্সের রাবিনা খান শেষ মুহুর্তে গিয়ে আলোচনা থেকে সরে দাঁড়ান।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন,  যেহেতু নির্বাচনের আর মাত্র ক’দিন বাকি আছে, তাই এই সমঝোতা চেষ্টা সফল না হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি। তাই তারা এমন একজন প্রার্থীর পেছনে কাজ করার আহবান জানান, যিনি নিজের স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে কমিউনিটির স্বার্থে কাজ করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক জানতে চান- তাহলে আপনারা কোন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা কিংবা সমর্থন জানানো উচিত বলে মনে করেন। জবাবে শাফিক ইসলাম বলেন, যেহেতু কাউন্সিলার অহিদ আহমদ আমাদের আহবানে সাড়া দিয়েছেন, ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন তাই আমরা তাঁকে সমর্থন করা উচিত বলে মনেকরি। তাঁদের প্রতি প্রশ্ন ছিলো, আপনারা কি নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে দুই গ্রুপকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন? কমিউনিটির পক্ষ থেকে কারা আপনাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন- জবাবে শাফিক ইসলাম বলেন, আমরা অবশ্যই নিরপেক্ষ। আমাদেরকে কেউ দায়িত্ব দেয়নি, কমিউনিটির বৃহত্তর স্বার্থেই আমরা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

এদিকে পিপলস অ্যালায়েন্স এর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ভিন্ন কথা। তাঁরা বলছেন, মধ্যস্থতাকারী শাফিক  ইসলাম এসপায়ারের ডেপুটি লীডার মাহবুব আলমের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনার। শাফিক ইসলাম হলেন কাউন্সিলার মাহবুব আলমের খালাতো ভাই। প্রমাণ হিসেবে একটি ছবি উপস্থাপন করা হয়। ছবিতে দেখা যায়, মধ্যস্থতাকারী শাফিক ইসলাম টাওয়ার হ্যামলেটসের একটি রাস্তায় কাউন্সিলর মাহবুব আলমের সঙ্গে নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করে তাঁর লিফলেট বিতরণ করছেন। তাই তাদের এই সমঝোতাচেষ্টার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সমঝোতা  প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কারণ জানতে চাইলে কাউন্সিলার রাবিনা খান বলেন, আমি কোনো সমঝোতা প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যান করিনি। যাঁরাই ডেকেছেন, সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গেছি। কিন্তু অধিকাংশ সমঝোতার প্রস্তাবই ছিলো পক্ষপাতমুলক। তাঁরা নিরপেক্ষ সমঝোতার কথা বলেন, কিন্তু আসেন একটি গ্রুপের পক্ষ হয়ে। মধ্যস্থতাকারীদের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে সমঝোতা হবে কীভাবে?

মধ্যস্থতাকারী আকদ্দস আলীর কাছে প্রশ্ন ছিলো, আপনারা গত বছরের নভেম্বর মাসে সমঝোতা বৈঠক করে দু’পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ করতে ব্যর্থ হন। এরপর প্রায় চার মাস অতিবাহিত হয়েছে। এতোদিন মিডিয়ার কাছে বিষয়টি তুলে না ধরে এখন নির্বাচনের মাত্র ৪ সপ্তাহ আগে কেন সংবাদ সম্মেলন করছেন? আপনারা কি এসপায়ার গ্রুপ কর্তৃক প্রভাবিত হয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করতে এসেছেন? জবাবে তিনি বলেন, আমরা নিজ উদ্যোগে এই প্রেস কনফারেন্স করছি। আমরা নিজেদের পকেট থেকে প্রেস ক্লাবের ফি দিয়েছি। আমরা কোনো গ্রুপের পক্ষ হয়ে এখানে আসিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান মেয়র ও তাঁর প্রশাসনের নানা ব্যর্থতার চিত্র তোলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বলা হয়, বর্তমান প্রশাসন চিলড্রেন সোশ্যাল কেয়ার, অপরাধ দমন, তরুণদের সেবা, হাউজিং, প্রবীণদের সেবাদান ও অন্যান্য সেবা ক্ষেত্রে চরম ব্যর্থ হয়েছে। এব্যাপারে তাঁরা সাবেক মেয়র লুতফুর  রহমানের প্রশাসনের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ‘টাওয়ার হ্যামলেটস রেসিডেন্ট নেটওয়ার্ক’এর পক্ষে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন শফিজুর রহমান, আজিম খান, আব্দুল মুমিত চৌধুরী, মোঃ শাফিক ইসলাম, আকাদ্দস আলী, আমিন শাহ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, কাউন্সিলার রাবিনা খান ও অহিদ আহমদ সাবেক মেয়র লুতফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন টাওয়ার হ্যামলেটস ইন্ডিপেন্ডেন্টস গ্রুপের সদস্য ছিলেন। একই পরিবারের এই সদস্যরা ৩ মে’র নির্বাচনকে সামনে রেখে গত বছর দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েন। কাউন্সিলার রাবিনা খান তাঁর সংগঠনের নাম দেন টাওয়ার হ্যামলেটস পিপলস অ্যালায়েন্স। আর লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন ইন্ডিপেন্ডডেন্ট গ্রুপ ভেঙ্গে গঠিত হয় নতুন রাজনৈতিক দল এসপায়ার। আহিদ আহমদ এসপায়ার দলের প্রার্থী হিসেবে তাঁর প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন। সাবেক মেয়র লুৎফুর রহমান ২০১৫ সালের ২৩ এপ্রিল নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ে দুর্নীতিগ্রস্থ প্রমাণিত হওয়ায় মেয়রের পদ থেকে বরখাস্ত হন। একই বছরের ১১ জুন নতুন মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে সাবেক মেয়র লুৎফুর রহমান মনোনীত প্রার্থী ছিলেন কাউন্সিলার রাবিনা খান। এবার লুতফুর রহমান অহিদ আহমদকে সমর্থন দিচ্ছেন বলে খবর চাউর আছে।

আসন্ন মেয়র নির্বাচনে রাবিনা খান ও অহিদ আহমদ ছাড়াও বর্তমান মেয়র জন বিগস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে। তাছাড়া কনজার্ভেটিভ পার্টির প্রার্থী হয়েছেন ডা: আনোয়ারা আলী এমবিই। চারজন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে যেহেতু তিনজনই বাঙালি প্রার্থী তাই জন বিগসের বিজয়ের সম্ভাবনা বেশি।